রবিবার । ৭ই জুন, ২০২৬ । ২৪শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
মেসির ১৬ ফুট উচ্চতার ভাস্কর্য ও নেইমারের প্রতিকৃতি

বিশ্বকাপ ফুটবল ঘিরে গোপালগঞ্জে ব্যতিক্রম আয়োজন

বাদল সাহা, গোপালগঞ্জ

আসন্ন বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়েছে শহর থেকে গ্রামে। তবে গোপালগঞ্জের মুকুসদপুর উপজেলার বহুগ্রামে ব্যতিক্রম আয়োজনের মধ্যে রয়েছে মেসির ১৬ ফুট উচ্চতার ভাস্কর্য। পিছিয়ে নেই ব্রাজিল ভক্তরাও। স্থাপন করা হয়েছে নেইমারের প্রতিকৃতি। জার্মানির পতাকায় পুরো এলাকা ছেয়ে গেছে। বিরাজ করছে সাজ সাজ রব।

গত শুক্রবার বিকেলে মুকসুদপুর উপজেলার বহুগ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের সমর্থকরা তাদের প্রিয় তারকা লিওনেল মেসির প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করতে নির্মাণ করছেন ১৬ ফুট উচ্চতার একটি বিশাল ভাস্কর্য।

বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ও লিওনেল মেসিকে শুভেচ্ছা জানাতে মেসির ১৬ ফুট উচ্চতার ভাস্কর্য নির্মাণ করছেন প্রভাষ দাস, অলক বিশ্বাস, বাদল মণ্ডল ও সজীব বিশ্বাস নামের চার বন্ধু। গত ২২ মে থেকে ছন, বাঁশ, কাঠ ও মাটি দিয়ে মেসির ১৬ ফুট উচ্চতার ভাস্কর্যের কাজ শুরু করা হয়। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে মাটির কাজ শেষ করে আগামী ১০ জুন রঙ এর কাজের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হবে। এ ভাস্কর্য তৈরি করতে ব্যয় হয়েছে প্রায় একলাখ টাকা।

স্থানীয় সমর্থকদের উদ্যোগে নির্মাণাধীন ভাস্কর্যটি এরইমধ্যে এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রতিদিন এ ভাস্কর্য দেখতে শুধু বহুগ্রাম নয় আশপাশের গ্রামের মেসি ভক্তরা ভিড় করছেন। তাদের আশা এবার আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন হয়ে ভক্তদের আনন্দে ভাসাবে।

এদিকে, পিছিয়ে নেই সুপার স্টার নেইমার জুনিয়র ভক্ত ব্রাজিলের সমর্থকেরা। ইতোমধ্যে তারাও স্থাপন করেছে নেইমারের বিশালাকৃতির প্রতিকৃতি। পুরো বহুগ্রাম বাজার জুড়ে টাঙানো হয়ে ৩৬০ ফুট দৈর্ঘের ব্রাজিলের পতাকা। প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসা ও সমর্থন প্রকাশ করতেই তারা এ ব্যতিক্রম আয়োজন করেছেন।

শুধু আর্জেন্টিনা বা ব্রাজিল নয় টাঙানো হয়েছে জার্মানি ও স্পেনের পাতাকাও। বিশ্বকাপ উপলক্ষে শুধু ভাস্কর্য বা প্রতিকৃতি নির্মাণেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। খেলা উপভোগের জন্য বড় পর্দায় প্রজেক্টরের মাধ্যমে ম্যাচ সম্প্রচারের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি দর্শকদের জন্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও কনসার্টের আয়োজনও রাখা হয়েছে। এই উদ্যোগ শুধু আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মধ্যেই নয়, পুরো এলাকার ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। বিশ্বকাপ ঘিরে বহুগ্রাম এখন ফুটবল উৎসবের এক প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

আর্জেন্টিনার সমর্থক প্রভাষ দাস বলেন, ‘মেসি শুধু একজন ফুটবলার নন, তিনি আমাদের আবেগ ও ভালোবাসার প্রতীক। তার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা থেকেই আমরা এই ভাস্কর্য নির্মাণ করছি। এ ভাস্কর্য নির্মাণ করতে আমাদের একলাখ টাকার মত ব্যয় হয়েছে। আমরা মেসির ভাস্কর্যের সামনে বসে খেলা দেখবো এটাই আমাদের আনন্দের।’

ব্রাজিল সমর্থক সুধাংশু মজুমদার জানান, ‘ব্রাজিলকে সমর্থন দিতে আমরা ৩৬০ ফুট দৈর্ঘের পতাকা টাঙ্গিয়েছি। যা এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ পতাকা ও নেইমারের প্রতিক দেখতে ভিড় করছেন। এ আয়োজন ঘিরে স্থানীয় তরুণদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে।’

আয়োজকদের একজন কল্লোল বিশ্বাস বলেন, ‘ফুটবল আমাদের আবেগের জায়গা। বিশ্বকাপকে স্মরণীয় করে রাখতে আমরা নেইমারের প্রতীক ও বিশাল পতাকা তৈরি করেছি। এলাকার মানুষ আমাদের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।’

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন