সোমবার । ১লা জুন, ২০২৬ । ১৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

আমি শুধু ধর্ষণ করছি, মারছে ডলার : সোহেল

গেজেট প্রতিবেদন

রাজধানীর পল্লবীতে ৮ বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার আলোচিত মামলায় আজ সোমবার (১ জুন) থেকে বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। মামলার দুই আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে সকাল পৌনে ৮টায় কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়।

সকাল ১১টার পর তাদের ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে হাজির করা হয়। গারদখানা থেকে আদালতে আনার সময় আসামি সোহেল রানা সাংবাদিকদের কাছে চাঞ্চল্যকর সব দাবি করেন। তিনি নিজেকে দোষী স্বীকার করে বলেন, ‘আমি ধর্ষণ করেছি, কিন্তু শিশুটিকে হত্যা করেছে ডলার।’

সোহেল রানার অভিযোগ অনুযায়ী, মিরপুর ১১ নম্বরের প্রভাবশালী এক ব্যক্তি ‘ডলার’ হত্যায় জড়িত। এছাড়াও সোহেল রানা নিজের ডিএনএ পরীক্ষা না করে প্রতিবেদনে তা ‘অটোমেটিক’ লিখে দেওয়া হয়েছে বলে আদালত ও গণমাধ্যমের সামনে দাবি করেন। নিজেকে নির্দোষ দাবি করে তিনি স্ত্রীর সম্পৃক্ততাও অস্বীকার করেন।

আসামি সোহেল রানা সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমি একা দোষী না, আমার স্ত্রীর দোষ নেই। সব দোষ ডলারের। আমি ধর্ষণ করছি, মারছে ডলার। ডলার দুই লাখ টাকা দিছে।’

ডলারের পরিচয় জানতে চাইলে সোহেল রানা বলেন, ‘মিরপুর ১১ নম্বর বাড়ির অনেক টাকাওয়ালা।’

তবে, রাষ্ট্রনিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবীর দাবি, সোহেল এমন কিছু বলেনি তাকে। রাষ্ট্রপক্ষ বলছে, এসব কথা বিচারকে ভিন্ন খাতে নেয়ার চেষ্টা। অন্যের ওপর দায় চাপিয়ে পার পাওয়ার চেষ্টা করে আসামিরা।

এদিকে শুনানি শেষে আগামীকাল (২ জুন) সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেছেন আদালত। এদিন সকাল পৌনে ৮টার দিকে প্রিজন ভ্যানে তাদের আদালতে আনা হয়। সোহেল রানাকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। আসামি সোহেলের স্ত্রী স্বপ্নাকে নারী হাজতখানায় রাখা হয়। শুনানিকালে তাদেরকে এজলাসে নেওয়া হয়।

গত ২৪ মে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা। সেদিন অভিযোগপত্র গ্রহণ করে মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।

এর আগে ১৯ মে রাজধানীর পল্লবীর একটি বাসা থেকে আট বছরের শিশু রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ফ্ল্যাটটিতে বসবাসকারী সোহেল রানা ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতের কাছে ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করে সোহেল। অভিযোগপত্রে সোহেলের বিরুদ্ধে ধর্ষণ-হত্যা ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রমাণ ধ্বংসে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে। সাক্ষী করা হয়েছে রামিসার বাবা ও প্রতিবেশীসহ ১৮ জনকে।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন