শনিবার । ৩০শে মে, ২০২৬ । ১৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী আজ

গেজেট প্রতিবেদন

বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি, স্বাধীনতার ঘোষক, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র প্রতিষ্ঠাতা এবং বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা শহীদ জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী আজ। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে দেশি-বিদেশি চক্রান্তে সেনাবাহিনীর কিছু বিপথগামী সদস্য তাকে হত্যা করে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি গত ২৫ মে থেকে ১ জুন পর্যন্ত আট দিনব্যাপী বিশেষ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ২৫ মে থেকে ১ জুন পর্যন্ত সারা দেশে বিশেষ পোস্টার প্রকাশ করা হচ্ছে এবং দলীয় নেতাকর্মীরা কালো ব্যাজ ধারণ করছেন। এছাড়া বিভিন্ন সংবাদপত্র ও অনলাইন পোর্টালে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হবে।

আজ শনিবার (৩০ মে) ভোর ৬টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশের সকল স্তরের দলীয় কার্যালয়ে দলীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে। একই দিন সকাল ১১টায় প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলের জাতীয় নেতৃবৃন্দ এবং সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও জিয়ারত করবেন। জিয়ারত শেষে মাজার প্রাঙ্গণে জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের উদ্যোগে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

এছাড়া দিবসটি উপলক্ষে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের প্রতিটি থানায় এবং দেশের অন্যান্য ইউনিটে অসচ্ছল ও দুঃস্থ মানুষের মাঝে কাপড়, চাল, ডালসহ খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। একইভাবে দেশের সব জেলা, মহানগর ও অন্যান্য ইউনিটেও ৩০ মে ভোর ৬টায় দলীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে। স্থানীয় সুবিধা অনুযায়ী আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল এবং দুঃস্থদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী ও বস্ত্র বিতরণ কর্মসূচিও পালন করা হবে। পরদিন ৩১ মে রোববার বেলা ২টায় রাজধানীর রমনায় ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে বিএনপির উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার ও জেড ফোর্সের অধিনায়ক ছিলেন। তিনি দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা। তার প্রতিষ্ঠিত বিএনপি বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে।

জিয়াউর রহমান বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন করেন। এজন্য তাকে বহুদলীয় গণতন্ত্রের জনক বলা হয়। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার সাতটি দেশ নিয়ে গঠিত সার্ক প্রতিষ্ঠারও স্বপ্নদ্রষ্টা ছিলেন তিনি। জাতীয়তাবাদভিত্তিক একটি কালজয়ী রাজনৈতিক দর্শন প্রতিষ্ঠা করে গেছেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।

তার প্রতিষ্ঠিত বিএনপি গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করে। শহীদ জিয়াউর রহমানের জ্যেষ্ঠ পুত্র তারেক রহমান বর্তমানে বিএনপির চেয়ারম্যান এবং নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

দেশের মানুষের বিপুল আস্থা ও সমর্থন নিয়ে এবারসহ বিএনপি এ পর্যন্ত পাঁচবার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। প্রতি বছর দিনটি জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎবার্ষিকী হিসেবে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ পালন করে আসছে।

খুলনায় কর্মসূচি : বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা, সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনঃ প্রবর্তক জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এঁর ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে খুলনা মহানগর বিএনপি ১০ দিনব্যাপি কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে কালো পতাকা উত্তোলন, দোয়া মাহফিল, খাদ্য ও বস্ত্র বিতরণ, রক্তদান কর্মসূচি, বৃক্ষরোপণ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান, শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বিশেষ প্রতিযোগিতা এবং শহীদ রাষ্ট্রপতির জীবন ও কর্মভিত্তিক প্রদর্শনী।

কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- শনিবার (৩০ মে) মহানগর বিএনপি কার্যালয়সহ সকল দলীয় কার্যালয়ে কালো পতাকা উত্তোলন, নেতাকর্মীদের কালোবাজ ধারণ, মহানগরীর সকল থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন দলীয় কার্যালয়ে কালো পতাকা উত্তোলন এবং দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ। বেলা ১১টায় ৬নং কে ডি ঘোষ রোডস্থ বিএনপি দলীয় কার্যালয়ে মহানগর ও জেলা বিএনপির যৌথ আলোচনা সভা ও বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। বেলা ১টায় খানজাহান আলী রোডস্থ কৃষক দল কার্যালয়ে মহানগর কৃষক দলের উদ্যোগে বিশেষ দোয়া ও খাবার বিতরণ। সকল থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিয়নের মসজিদ, মন্দির, প্যাগোডা ও গির্জায় বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে।

এছাড়া ৩১ মে রবিবার : বেলা ১১টায় খুলনা মহানগরের পাঁচটি থানার প্রতিটি ওয়ার্ডে মহানগর যুব দলের আয়োজনে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান। ১ জুন সোমবার : বেলা ১১টায় খুলনা পাওয়ার হাউস মোড় থেকে ময়লাপোতা পর্যন্ত মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান। বেলা ১২টায় ৬ নং কেডি ঘোষ রোডস্থ বিএনপি দলীয় কার্যালয়ে মহানগর তাঁতি দলের আয়োজনে বিশেষ দোয়া মাহফিল। দুপুর ১টায় ৬ নং কেডি ঘোষ রোডস্থ বিএনপি দলীয় কার্যালয়ের সামনের পথচারীদের মাঝে খাবার পানি ও খাবার স্যালাইন বিতরণ। বিকাল ৫টায় খানজাহান আলী রোডস্থ কৃষক দল কার্যালয়ে মহানগর কৃষক দলের আয়োজনে বস্ত্র (শাড়ি ও লুঙ্গি) বিতরণ।

২ জুন মঙ্গলবার : সকাল সাড়ে ১০টায় খুলনা প্রেসক্লাব লিয়াকত আলী মিলনায়তনে মহানগর ছাত্রদলের উদ্যোগে দোয়া মাহফিল ও রক্তদান কর্মসূচি| সকাল ১১টায় খুলনা পাওয়ার হাউস মোড় থেকে ময়লাপোতা পর্যন্ত মহানগর শ্রমিক দলের উদ্যোগে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান। বিকাল ৫টায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মহানগর শ্রমিক দলের আয়োজনে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি। ৩ জুন  জুন বুধবার : সকাল ১০টায় খানজাহান আলী রোডস্থ কৃষক দল কার্যালয়ে মহানগর কৃষক দলের উদ্যোগে গাছের চারা বিতরণ। বেলা ১১টায় খুলনা মহানগরে অবস্থিত প্রতিটি কলেজ ক্যাম্পাসে মহানগর ছাত্রদলের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি। বিকাল ৫টায় ˆবকালি জানাজা চত্বরে খালিশপুর ওলামা দলের আয়োজনে ঈদ উপহার বিতরণ, হামদ-নাত ও কেরাত প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ এবং শহীদ রাষ্ট্রপতির জীবনীর উপর প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী।

৪ জুন বৃহস্পতিবার : বেলা ১১টায় খুলনা মহানগরের প্রতিটি কলেজ ক্যাম্পাসে মহানগর ছাত্রদলের উদ্যোগে পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি। বেলা ১১টায় বিএনপি দলীয় কার্যালয়ে মহানগর জাসাসের আয়োজনে কোরআন তেলাওয়াত, হামদ, নাত ও আযান প্রতিযোগিতা| বিকাল ৫টায় খুলনা রেলওয়ে স্টেশন মাঠে মহানগর তাঁতি দলের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি। ৭ জুন রবিবার সকাল ৯টায় থেকে (দিনব্যাপী): প্রতিটি কলেজ ক্যাম্পাসে মহানগর ছাত্রদলের আয়োজনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্থিরচিত্র ও সংক্ষিপ্ত ইতিহাস প্রদর্শনী। ৮ জুন সোমবার : সকাল ১০টায় প্রতিটি কলেজ ক্যাম্পাসে মহানগর ছাত্রদলের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি।

৯ জুন মঙ্গলবার : বেলা ১১টায় খুলনা বিএনপি দলীয় কার্যালয়ে মহানগর ছাত্রদলের আয়োজনে “শহীদ জিয়ার স্বপ্ন ও শিক্ষার্থীদের কথা” শীর্ষক বিশেষ প্রতিযোগিতা ও পোস্টার প্রকাশ। শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিযোগিতার নির্ধারিত প্রশ্নসমূহ: ১. “আপনি কেমন ছাত্ররাজনীতি চান?” ২. “শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বড় সমস্যা কি?” ৩. “আপনার স্বপ্নের বাংলাদেশ কেমন?” ৪. “ক্যাম্পাসে কি পরিবর্তন দরকার?”

জেলা বিএনপি : বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীরউত্তম-এঁর ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের লক্ষ্যে ছয়দিনের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে খুলনা জেলা বিএনপি। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- ৩০ মে খুলনা জেলা বিএনপি’র প্রতিটি ইউনিটের নেতাকর্মী-সমর্থকদের কালো ব্যাজ ধারণ, দলীয় কার্যালয়গুলোতে কালো পতাকা উত্তোলন এবং দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ। জেলার প্রতিটি ইউনিটে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হবে। তবে মহানগর বিএনপি’র সাথে ৩০ মে বেলা ১১টায় দলীয় কার্যালয়ে যৌথ আয়োজনে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। উপজেলা পর্যায়ে এ কর্মসূচি চলবে আগামী ৩ জুন পর্যন্ত।

অন্যদিকে, কর্মসূচির অংশ হিসেবে সীমিত আয়ের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী, ভবঘুরে-অসহায়-দুস্থদের এবং এতিমখানায় উন্নতমানের খাবার বিতরণ। একই সাথে স্ব স্ব ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডায় দোয়া ও বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হবে। এছাড়া জেলা যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ ও রক্তদান কর্মসূচি ছাড়াও পুস্তক প্রদর্শনীর আয়োজনও থাকবে জেলা বিএনপি’র সহায়তায়। উপজেলা/পৌরসভা পর্যায়ে এসব কর্মসূচিতে বিএনপি’র স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা বিএনপি’র শীর্ষ নেতৃবৃন্দ অতিথি হিসেবে অংশগ্রহন করবেন। জেলার অন্তর্গত নয়টি উপজেলা, দু’টি পৌরসভা, ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা এসব কর্মসূচিতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করবেন।

কেসিসি : শনিবার বেলা ১১টায় নগর ভবনের নিচতলায় আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। বিশিষ্ট আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহম্মদ মনিরুজ্জামান ও শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ মাঝহারুল হান্নান এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ্যাড. মোল্লা মো: মাসুম রশীদ।




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন