খুলনাসহ দেশের ছয় জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২৬ মে) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে সিরাজগঞ্জে তিনজন, বরিশালে তিনজন, সাতক্ষীরায় দুইজন, খুলনায়, ফরিদপুরে, জামালপুরে একজন করে মারা গেছেন। এসব ঘটনায় বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
খুলনা
খুলনার কয়রায় কোরবানির পশু বহনকারী নসিমন উল্টে মিজানুর রহমান (৩৬) নামে এক ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তার সাত বছরের শিশুপুত্রসহ আরও তিনজন আহত হয়েছেন।
আহতরা হলেন-নিহত মিজানুরের ছেলে হাবিব (৭), একই গ্রামের আব্দুল সানা (৬৫) ও বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের আতিয়ার।
মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার বাগালী ইউনিয়নের ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মিজানুর রহমান কয়রার আমাদী ইউনিয়নের খিরোল গ্রামের মাওলানা শামসুর রহমানের ছেলে। তিনি ওষুধ ব্যবসার পাশাপাশি বাড়িতে গরু লালন-পালন করতেন। ভান্ডারপোল বাজারে তার ওষুধের দোকান রয়েছে।
কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সুজিত কুমার বৈদ্য বলেন, মিজানুর রহমানকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তার ছেলে হাবিবের মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহত আব্দুল সানা হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
সাতক্ষীরা
সাতক্ষীরায় পিকআপ ভ্যানের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে দুই ভাই নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সকাল ৬টার দিকে খুলনা-পাইকগাছা সড়কের তেতুলিয়া জামে মসজিদের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- তালা উপজেলার খলিলনগর ইউনিয়নের প্রসাদপুর গ্রামের নাসিম আলী ফকির (৩২) ও মেহেদী হাসান ফকির (২৫)। তারা সম্পর্কে চাচাতো ভাই।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মোটরসাইকেলে চুকনগরের যাওয়ার পথে তেতুলিয়া এলাকায় পৌঁছালে নাসিম ও মেহেদীর মোটরসাইকেলের সঙ্গে একটি পিকআপভ্যানের সংঘর্ষ হয়। ঘটনাস্থলেই নিহত হন চালক নাসিম আলী ফকির। গুরুতর অবস্থায় মেহেদী হাসানকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান।
তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত হয়েছেন। মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ফরিদপুর
ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের নুরুমিয়া বাইপাস সড়কে অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় এক নারী নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার ভোর আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে ফরিদপুর সদরের ব্রাহ্মণকান্দা বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত নারীর নাম মিম খাতুন (২৬)। তিনি ফরিদপুর সদর উপজেলার তাম্বুলখানা এলাকার জব্বার শেখের মেয়ে।
ঘটনা সত্যতা নিশ্চিত করে করিমপুর হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ব্রাহ্মণকান্দা বাজার বাইপাস সড়কের প্রশান্ত দাসের স-মিলের সামনে ভোরে অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় এই নারী নিহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করে। গাড়িটি এখনো সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এই ব্যাপারে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
বরিশাল
বরিশালে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি মোটরসাইকেলে বাসের ধাক্কায় একই পরিবারের তিনজন নিহত গেছেন। মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন-উজিরপুর উপজেলা সদরের বাসিন্দা ফিরোজ মাহমুদ (৩৭), তার স্ত্রী মনিয়া বেগম এবং তাদের শিশুকন্যা জান্নাত।
স্থানীয় লোকজন জানান, যানজটের কারণে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল মোটরসাইকেলটি। বরিশালগামী তাজ আনন্দ পরিবহনের একটি বাস মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়। এতে একই পরিবারে তিনজন মারা যান। দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষুব্ধ জনতা ঘাতক বাসটিতে ভাঙচুর চালায়। তবে বাসের চালক ও হেলপার পালিয়ে যান। এ ঘটনায় দুই ঘণ্টা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট। যানজট নিরসনে কাজ করছে হাইওয়ে থানা-পুলিশ।
গৌরনদী ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অফিসার মো. মিজানুর রহমান বলেন, নিহত ফিরোজ মাহমুদ উজিরপুর উপজেলা সদরের আব্দুল হাকিমের ছেলে। ধারণা করা হচ্ছে তিনি পরিবার নিয়ে ঢাকা থেকে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন।
গৌরনদী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহসীন বলেন, দুর্ঘটনায় জড়িত বাসটি জব্দ করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে এবং যানজট নিরসনে কাজ করছে পুলিশ।
সিরাজগঞ্জ
সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানাধীন সিআরবিসি এলাকায় ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কে বাসের সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
সলঙ্গা থানা-পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম আলী বলেন, সলঙ্গা থানাধীন ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কে বাস ও সিএনজির সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। মরদেহগুলো হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানা-পুলিশ নিয়ে গেছে।
হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানা-পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, আমরা মরদেহগুলো উদ্ধার করে থানায় এনেছি। এখনো পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। তবে, তারা সবাই পুরুষ।
জামালপুর
জামালপুর সদরে বালুবাহী ড্রামট্রাক ও পিকআপভ্যানের সংঘর্ষে রত্না ভানু (৪৭) নামের এক পথচারী নারীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন চালক রিপন। মঙ্গলবার ভোর ৬টার দিকে উপজেলার শরিফপুর ইউনিয়নের ছোট জয়রামপুর এলাকায় জামালপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত রত্না ভানু শেরপুর জেলার নকলা উপজেলার তোফাজ্জল হোসেনের মেয়ে। তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন বলে জানা যায়।
পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন জানান, ভোরে বালুবাহী একটি ড্রামট্রাকের সঙ্গে একটি পিকআপভ্যানের সংঘর্ষ হয়। এ সময় ট্রাকের ধাক্কায় রাস্তার পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়া রত্না ভানুর ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়।
জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন। পিবিআইয়ের মাধ্যমে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া, আহত চালককে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহে পাঠানো হয়েছে।
খুলনা গেজেট/এএজে

