রবিবার । ১০ই মে, ২০২৬ । ২৭শে বৈশাখ, ১৪৩৩

গাজীপুরে একই পরিবারের ৫ জনকে হত্যা: গোপালগঞ্জে দাফন সম্পন্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক, গোপালগঞ্জ

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় একই পরিবারের পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় নিহতদের মরদেহ গোপালগঞ্জে দাফন করা হয়েছে। রবিবার (১০ মে) সকালে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার পাইককান্দি ইউনিয়নের উত্তর চরপাড়া গ্রামের ফকিরবাড়ীতে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে শনিবার রাতে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় দুটি অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহ গোপালগঞ্জে নেওয়া হয়। রবিবার সকাল ১১টার দিকে পাইককান্দি পঞ্চপল্লী মাদ্রাসা মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে উত্তর চরপাড়া কবরস্থানে সারিবদ্ধ পাঁচটি কবরে তাদের দাফন করা হয়।

নিহতরা হলেন— শারমিন আক্তার (৩৫), তাঁর ভাই রসুল মোল্লা (১৯) এবং শারমিনের তিন মেয়ে মীম আক্তার (১৪), হাবিবা (১০) ও ফারিয়া (২)।

এ ঘটনায় শারমিনের স্বামী ফোরকান মিয়ার নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৩-৪ জনকে আসামি করে কাপাসিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই ফোরকান পলাতক রয়েছেন। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ দুজনকে আটক করেছে।

স্বজনদের দাবি, ফোরকান একা এ হত্যাকাণ্ড ঘটাতে পারেন না; এর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত থাকতে পারে। তারা দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

নিহত শারমিনের বড় বোন ফাতেমা বেগম বলেন, ফোরকান অত্যন্ত সন্দেহপ্রবণ ছিলেন এবং প্রায়ই শারমিনকে নির্যাতন করতেন। সন্তানদের কথা ভেবে শারমিন সব সহ্য করতেন।

নিহতদের বাবা শাহাদাৎ মোল্লার অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ফোরকান যৌতুকের জন্য চাপ দিচ্ছিলেন এবং তাঁর পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল। তিনি দাবি করেন, ঘুমের ওষুধ খাইয়ে গলা কেটে হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।

গোপালগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোহাম্মদ জিয়াউল হক বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। মূল আসামিসহ জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”

উল্লেখ্য, শনিবার ভোরে গাজীপুরের কাপাসিয়ার রাউৎকোনা গ্রামে ফোরকান মোল্লার বাড়িতে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা প্রকাশ্যে আসে।

খুলনা গেজেট/এএজে




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন