গোপালগঞ্জে জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে গর্ভবতী নারীসহ অন্তত: ১০ জন আহত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সন্ধ্যায় টুঙ্গিপাড়া উপজেলার বর্নি গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
হাসপাতালে ভর্তি মারাত্মক আহতরা হলেন-কাতার প্রবাসী রানা মুন্সির গর্ভবতী স্ত্রী মেঘলা খানম (২৮), রানা মুন্সির চাচাতো ভাই শাহ জামাল মুন্সি (৪৫), আজাদ মুন্সি (৪২), রুবেল মুন্সি (৪০), লোটাস মুন্সি (৩৮) এবং শাহনারা বেগম (৭০)|
স্থানীয়রা জানায়, বাড়ির জমিজমা নিয়ে বর্নি গ্রামের রানা মুন্সির সাথে চাচাতো ভাই ওবায়েদ মুন্সির মধ্যে দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। মঙ্গলবার বিকালে ওই জমিতে বাউন্ডারি দেওয়াল তোলার কাজ করছিলো প্রবাসী রানা মুন্সীর গর্ভবতী স্ত্রী মেঘলা খানম। এসময় ওবায়েদ মুন্সী ও তার লোকজন দলবদ্ধ হয়ে মেঘলা খানমকে মারধর করে।
এসময় তার চিৎকারে অন্যান্য স্বজনরা বাঁচাতে আসলে তাদেরকেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করা হয়। এসময় উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। প্রায় ঘন্টাব্যাপী ধরে চলা এ সংঘর্ষে গর্ভবতী ওই নারীসহ উভয় পক্ষের কমপক্ষে ১০ জন আহত হন। মারাত্মক আহত ৬ জনকে গোপালগঞ্জ ২৫০-শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহত ৭০ বছর বয়সী শাহনারা বেগমকে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

আহত মেঘলা খানম জানান, ওবায়েদ মুন্সির সঙ্গে তাদের বাড়ির জমির সীমানা নিয়ে মামলা চলছিলো। এ বিষয়ে কোর্টের ৩ বার রায় পাওয়ার পর গ্রাম্য সালিশে মিমাংশার পর বাউন্ডারি ওয়াল তৈরির কাজ শুরু করে। এটিকে কেন্দ্র করে ওবায়েদ মুন্সি অনুমানিক প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন লোক মিলে ফুলকুচি, রামদা ও গরু জবাই দেয়া ছুড়ি নিয়ে হামলা করে।
টুঙ্গিপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: আইয়ুব আলী জানান, ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। বর্তমানে এলাকার পরিবেশ শান্ত রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
খুলনা গেজেট/এনএম

