জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় গোপালগঞ্জে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। পরিবহণ, কৃষি উপকরণসহ সেবা পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এমনকি তেলের দাম বৃদ্ধির পরও জেলার ফিলিং স্টেশনগুলোতে ভিড় করছেন গ্রাহকেরা। তবে তেল না পাওয়ায় ফিরে যেতে হচ্ছে তাদের।
জানা গেছে, ১৯ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া নতুন মূল্য অনুযায়ী, ডিজেল লিটার প্রতি ১৫ টাকা বেড়ে ১১৫ টাকা, পেট্রোল ১৯ টাকা বেড়ে ১৩৫ টাকা, অকটেন ২০ টাকা বেড়ে ১৪০ টাকা এবং কেরোসিন ১৮ টাকা বেড়ে ১৩০ টাকা করেছে সরকার।
গোপালগঞ্জের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, তেল সংকটের কারণে জেলার অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে তেল সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। যে কয়েকটি ফিলিং স্টেশন থেকে তেল দেয়া হচ্ছে সেখানে রয়েছে যানবাহনের দীর্ঘ সারি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও তেল না পেয়ে ফিরতে হচ্ছে তাদের। এতে ক্ষোভ বাড়ছে ক্রেতাদের মাঝে। এমনকি খোলা বাজারেও তেল পাওয়া যাচ্ছে না।
তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে গোপালগঞ্জে বিভিন্ন খাতে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল। এর মধ্যে অন্যতম পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধি। তেলের দাম বাড়ায় গোপালগঞ্জে বাস ও পণ্যবাহী ট্রাকের ভাড়া ৩০% থেকে ৪০% পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যা জনজীবনে ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তাছাড়া কৃষি সেচ পাম্প পরিচালনা খরচ বৃদ্ধি পাবে, যা কৃষকদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে। আগে থেকেই নিত্যপণ্যের দাম বেশি রয়েছে। সেই সাথে তেলের মূল্যবৃদ্ধি স্থানীয় বাজারে সামগ্রিক পণ্যের দাম আরও বাড়িয়ে দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ব্যবসায়ী গোপাল সাহা জানান, ‘সরকার হঠাৎ করে তেলের দাম বৃদ্ধি করছে। এতে পণ্য আনা নেয়ায় খরচ বাড়বে। ফলে পণ্যের দাম বাড়াতে হবে। এতে সাধারণ মানুষের খরচের হার বাড়বে।’
গোপালগঞ্জ বাস মালিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ কামিল সারোয়ার বলেন, ‘তেলের দাম বাড়ায় আামদেরও পরিবহণের ভাড়া বৃদ্ধি করতে হবে। ভাড়া বৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি সৃষ্টি হবে।’
গোপালগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সাধারণ সম্পাদক শেখ মাসুদুর রহমান বলেন, ‘হঠাৎ করে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করায় জনজীবনে প্রভাব পড়বে। খাদ্যদ্রব্য, পরিবহন খাত, উৎপাদন খাত, কৃষিখাতসহ সকল আর্থিকখাতের খরচ বৃদ্ধি পারে।
খুলনা গেজেট/এনএম

