পাঁচ বিভাগের ৩৭৮ নারী প্রার্থীর সাক্ষাৎকার নিল বিএনপি

গেজেট প্রতিবেদন

দলের চূড়ান্ত বাছাইয়ের অংশ হিসেবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া শুরু হয়েছে। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) প্রথম দিনে পাঁচ সাংগঠনিক বিভাগের ৩৭৮ প্রার্থীর সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। দলটির চেয়ারম্যানের গুলশান কার্যালয়ে বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে সাক্ষাৎকার নেওয়া শুরু করে দলের মনোনয়ন বোর্ড। বোর্ডে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বোর্ডে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, বেগম সেলিমা রহমান, অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুক।

সাক্ষাৎকারের আগে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সাংবাদিকদের বলেন, যারা সংরক্ষিত মহিলা আসনে প্রার্থী হতে ইচ্ছুক, যারা দলের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করে সেটা জমা দিয়েছেন তাদের সাক্ষাৎকার শুরু হয়েছে। আমাদের দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দলের মনোনয়ন বোর্ড অর্থাৎ বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্ব এই বোর্ডের সদস্যরা হচ্ছেন দলের স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্যরা। তিনি বলেন, আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান, ত্যাগ, যোগ্যতা ও সংসদে কার্যকর ভূমিকা রাখার সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়েই চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হবে।

জানা যায়, শুক্রবার বিকালে রাজশাহী, রংপুর, খুলনা, বরিশাল ও ফরিদপুর বিভাগের অন্তর্ভুক্ত সব জেলার প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। আজ শনিবার চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা, ঢাকা ও ময়মনসিংহ- এই পাঁচ বিভাগের সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হবে।

এর আগে দুপুর দেড়টা থেকে গুলশানে চেয়ারম্যানের কার্যালয়ের সামনে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পেতে ইচ্ছুক প্রার্থী ও তার সমর্থকরা সমবেত হতে থাকেন। তবে নিরাপত্তায় নিয়োজিত সদস্যরা শুধু প্রার্থীদের অফিসে প্রবেশ করতে দেন। প্রার্থীরা ভেতর থেকে কী অভিজ্ঞতা নিয়ে আসেন সেটা নিয়ে আগ্রহ ছিল বাইরে অপেক্ষমাণ মানুষের। এ ছাড়া মনোনয়ন বোর্ডের মুখোমুখি হয়ে বেরিয়ে আসা প্রার্থীরাও গণমাধ্যমের কাছে তাদের অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করেন।

সম্ভাব্য এসব প্রার্থীরা জানান, সাক্ষাতের সময়, দলের প্রতি নিজেদের কমিটমেন্ট, বিগত সময়ে আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে কিংবা সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে প্রার্থীদের ভূমিকা ইত্যাদি বিষয়ে জানতে চান মনোনয়ন বোর্ডের অন্য সদস্যরা। সেই সঙ্গে সংসদে আইন প্রণয়নে দলকে সহযোগিতার বিষয়েও তাদের অভিমত নেওয়া হয়।

সূত্র জানায়, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলের প্রার্থীদের মূলত দুটি প্রশ্ন করেন— মনোনয়ন পেলে কী করবেন, আর না পেলে কী করবেন? এবং দল আপনাকে কেনো মনোনয়ন দেবে? এর উত্তরে নারী নেত্রীরা বিগত সময়ে দলের ভূমিকা, বিগত আন্দোলন-সংগ্রামের অবদান ও দেশ গঠনে আগামীর কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরছেন। মনোনয়ন পুরো বিষয়টি তারেক রহমানের ওপর ছেড়ে দিয়ে দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তারা।

খুলনা বাগেরহাটের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ফারজানা রশিদ লাবনী বলেন, গত ৩৮ বছর বিএনপি করছি। দল যে সিদ্ধান্ত দেবে মেনে নেব‌। মনোনয়ন পাই বা না পাই- এক‌ইভাবে দলের জন্য কাজ করে যাব।

পাবনা থেকে আসা আরিফা সুলতানা রুমা বলেন, দলের পক্ষ থেকে যাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে তার সঙ্গে কাজ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন আমরা আন্দোলন-সংগ্রামে ছিলাম, সে কারণে দল যাকে দেবে তার সঙ্গে আগামী দিনেও আমরা কাজ করব। আশা করি দল আমার ত্যাগের মূল্যায়ন করবে।

দিনাজপুর থেকে আসা প্রার্থী আইনজীবী তৌ‌হিদা ইয়াস‌মিন তা‌নিন বলেন, কারা কোন পদে আছি, দলের জন্য বিগত সময়ে কী ভূমিকা রেখেছি- ইত্যাদি বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাদের প্রার্থীদের কথা মনযোগ দিয়ে শুনেছেন।

গত ৮ এপ্রিল জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়ন দাখিলের শেষ তারিখ ২১ এপ্রিল। যাচাই-বাছাই হবে ২২ ও ২৩ এপ্রিল। বাছাই নিয়ে কোনো আপত্তি থাকলে আপিল করা যাবে ২৬ এপ্রিল, সে আপিল নিষ্পত্তি করা হবে ২৭ ও ২৮ এপ্রিল। চূড়ান্ত হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ৩০ এপ্রিল এবং ভোটগ্রহণ আগামী ১২ মে। এবারের আসন বণ্টনে বিএনপি জোট ৩৬টি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জোট ১৩টি এবং স্বতন্ত্ররা মিলে পাবে একটি সংরক্ষিত আসন।




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন