শুক্রবার । ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ । ৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২

২০ লাখ ইউরো অনুদান দিল ইইউ

গেজেট প্রতিবেদন

বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখতে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচিকে (ডব্লিউএফপি) অতিরিক্ত ২০ লাখ ইউরো যা বাংলাদেশি টাকায় ২৯১,৪৮৯,২০০ টাকা (প্রতি ইউরো ১৪৫.৭৪৪৬ টাকা) অনুদান দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ইইউর নাগরিক সুরক্ষা ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের আওতায় এই অর্থ সহায়তা দেয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ডব্লিউএফপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নতুন এই অনুদানের ফলে ২০২৫ সালে বাংলাদেশে ডব্লিউএফপিতে ইইউর মোট অবদান বেড়ে দাঁড়াল ১ কোটি ৫৩ লাখ ইউরোতে। এই অর্থ রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য জীবন রক্ষাকারী খাদ্য ও পুষ্টি সহায়তা নিশ্চিত করতে ব্যবহৃত হবে।

বাংলাদেশে ইইউ মানবিক সহায়তার প্রধান ডেভিড জাপ্পা বলেন, ২০২৫ সাল বিশ্বব্যাপী মানবিক কার্যক্রমের জন্য একটি চ্যালেঞ্জিং বছর। তবুও রোহিঙ্গা এবং তাদের আশ্রয়দাতা সম্প্রদায়ের প্রতি ইইউ দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সংকটে থাকা মানুষের প্রতি সংহতি ও সমর্থন ইইউর প্রতিষ্ঠাতা নীতির অংশ।

ডব্লিউএফপি বর্তমানে ই-ভাউচার ব্যবস্থার মাধ্যমে পুরো রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে খাদ্য সহায়তা দিয়ে আসছে। প্রায় ১২ লাখ মানুষ এই সহায়তার আওতায় রয়েছে, যার মধ্যে ২০২৪-২০২৫ সময়ে নতুন আগত প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার রোহিঙ্গাও অন্তর্ভুক্ত। প্রতিটি পরিবার মাসে ১২ মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ সহায়তা পায়, যা দিয়ে তারা প্রধান ও তাজা খাদ্যসামগ্রী কিনতে পারে।

এ ছাড়া শিশু এবং গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মায়েদের অপুষ্টি প্রতিরোধ ও চিকিৎসা, ৪-১৪ বছর বয়সী প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার রোহিঙ্গা শিশুর জন্য স্কুল মিল এবং রোহিঙ্গা ও স্থানীয় উভয় সম্প্রদায়ের জন্য জীবিকা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির কার্যক্রম পরিচালনা করছে ডব্লিউএফপি।

ডব্লিউএফপি বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর সিমোন লসন পার্চমেন্ট বলেন, ইইউর সময়োপযোগী অবদান এবং দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারিত্বের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। এই ধরনের প্রতিশ্রুতির মাধ্যমেই ক্রমবর্ধমান চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে সহায়তা দেয়া সম্ভব।

নবম বছরে প্রবেশ করা রোহিঙ্গা সংকট এখনও তীব্র তহবিল ঘাটতির মুখে। ২০২৬ সালে জীবন রক্ষাকারী খাদ্য ও পুষ্টি সহায়তা কর্মসূচি চালিয়ে যেতে ডব্লিউএফপির প্রয়োজন হবে প্রায় ১৪ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার। নতুন অর্থ সহায়তা না এলে এপ্রিলের শুরু থেকেই এই কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

খুলনা গেজেট/এমএনএস




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন