গোপালগঞ্জে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে আল আমিন শেখ (৩০) নামে এক কৃষকের চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরো চারজন।
বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা সিটি কেয়ার জেনারেল হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সকালে উপজেলার ডুমুরিয়া ইউনিয়নের মধুখালী গ্রামে এ মারধরের ঘটনা ঘটে।
টুঙ্গিপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আইয়ুব আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। নিহত আল আমিন শেখ টুঙ্গিপাড়া উপজেলার মধুখালী গ্রামের আকবর শেখের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, মধুখালী গ্রামের হাসেম শেখের ছেলে ফাইজুল শেখ (৩০), আব্বাস শেখ (৩৫), নওয়াব শেখের ছেলে টিপু শেখের সাথে একই গ্রামের আকবর আলী শেখের ছেলেদের সাথে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিলো।
বুধবার সকালে আলামিন মধুখালী গ্রামের বিরোধপূর্ণ জমিতে ধানের চারা রোপণ করতে ফাইজুল ও আব্বাস বাধা দেয়। তখন কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে ফাইজুল ও আব্বাসের নির্দেশে টিপু শেখ ২৫-৩০ জন লোক নিয়ে এসে আল-আমিনকে পেটাতে থাকে।
পরে আলামিনের চিৎকারে বাড়ির লোকজন ঠেকাতে গেলে নারীসহ আরও ৪ জনকে পিটিয়ে আহত করে প্রতিপক্ষের লোকজন। মারাত্মক আহত অবস্থায় আল আমিন শেখকে প্রথমে গোপালগঞ্জ ২৫০-শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা সিটি কেয়ার জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
আলামিনের ভাই আহত ইসমাইল শেখ বলেন, ডুমুরিয়া ইউনিয়নের ঝনঝনিয়া মৌজায় এসএ দাগ ১৭৯১-৯২ দাগে ১১ কাঠা বাড়ির জমি ও বিলে ২ বিঘা ২ কাঠা জমি আমার পৈতৃক সম্পত্তি। কিন্তু আমার দাদার সৎ ভাই মোবারেক হোসেন আমাদের মাত্র এক শতাংশ দিয়ে বাকি জমি নিজ নামে রেকর্ড করিয়ে নেয়।
২০০৮ সালে মোবারেক মারা যাওয়ার পর বিষয়টি জানাজানি হলে একাধিকবার গ্রাম্য সালিশ হলে সেই জায়গা ফেরত দেয়নি। পরে আমার বাবা আকবার আলী শেখ রেকর্ড সংশোধনের মামলা দেয়। সেই থেকে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এরপর যখন আমরা আমাদের জমি দখল নিতে চাই তখন দোহুত্তরি সম্পত্তি দাবি করে হাসেম শেখের লোকজন আমাদের বাধা দেয়। সেই জমি নিয়েই আমার ভাইয়ের প্রাণ কেড়ে নিলো ওরা।
নিহত আলামিনের স্ত্রী নুরনাহার বেগম বলেন, আমার তিন ছেলে মেয়েকে ওরা এতিম করে দিলো। নির্মমভাবে আমার স্বামীকে পিটিয়ে হত্যা করলো। আমি তাদের ফাঁসি চাই।
এবিষয়ে জানতে অভিযুক্ত ফাইজুল, আব্বাস ও টিপু শেখের বাড়িতে গেলে তাদের ঘরগুলো তালাবদ্ধ দেখা যায়। প্রতিবেশীরা জানায়, বৃহস্পতিবার বিকালে তারা ঘর তালা মেরে কোথায় যেন চলে গিয়েছে।
টুঙ্গিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আইয়ুব আলী বলেন, কৃষকের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত থানায় কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
খুলনা গেজেট/এমআর
