বুধবার । ৬ই মে, ২০২৬ । ২৩শে বৈশাখ, ১৪৩৩

মাগুরার সেই শিশুটির অবস্থা অতি সঙ্কটাপন্ন, শরীরে পাশবিক নির্যাতনের ক্ষত

গেজেট ডেস্ক

মাগুরার শিশুটির শারীরিক অবস্থার কথা জানিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। শিশুটির অবস্থা আশঙ্কাজনক বলেছেন তিনি। ভেন্টিলেটর যন্ত্রের সাহায্যে তাঁর শ্বাসপ্রশ্বাস চলছে বলে জানান।

ঢামেক সূত্র জানিয়েছে, শিশুটির চিকিৎসায় চার সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি তার চিকিৎসার সব ব্যয় বহন করবে ঢামেক।

ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, ধর্ষণের শিকার শিশুটির শারীরিক অবস্থা খুবই খারাপ। তার জিসিএসের মাত্রা চারে নেমে এসেছে। শারীরিক অবস্থা অতি সঙ্কটাপন্ন, এখনও জ্ঞান ফেরেনি।

তিনি জানান, হত্যার চেষ্টার সময় শিশুটি গলাতে যে আঘাত পেয়েছে সেটার জন্য নিঃশ্বাস নিতে সমস্যা হচ্ছে। শরীরে জ্বর আছে এবং নিউমোনিয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

শিশুটির মৃত্যু নিয়ে কাউকে গুজব না ছড়ানোর অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, সবাই তার জন্য দোয়া করুন।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান আরও বলেন, পাশবিক নির্যাতনের ফলে শিশুটির যৌনাঙ্গে ক্ষত রয়েছে।

আজ শনিবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকের দপ্তরে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান এসব কথা বলেন।

শিশুটির চিকিৎসায় গাইনি ও অ্যানেসথেসিওলজি বিভাগের চিকিৎসকদের নিয়ে মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। তাঁদের সর্বোচ্চ চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার রাতে শিশুটির অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালের গাইনি বিভাগ থেকে তাকে শিশু বিভাগের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়।

মাগুরা শহরে বোনের বাড়িতে বেড়াতে এসে আট বছরের ওই শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

আজ সকালে চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে শিশুটির মামাতো ভাই বলেন, তাঁর বোন এখনো অচেতন। তার জ্ঞান ফেরেনি। চিকিৎসকেরা বলেছেন, তাঁরা আগামী ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখবেন।

অচেতন অবস্থায় শিশুটিকে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পুলিশ ও ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অচেতন অবস্থায় শিশুটিকে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে আনা হয়। সেখান থেকে দুপুরেই উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে সেখান থেকে পাঠানো হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

শিশুটির পরিবারের সদস্যরা জানান, তাঁদের বাড়ি মাগুরার শ্রীপুর উপজেলায়। শিশুটি কয়েক দিন আগে তার বড় বোনের (শ্বশুর) বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অচেতন অবস্থায় শিশুটিকে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে আসেন তার বোনের শাশুড়ি। পরে শিশুটির মা হাসপাতালে আসেন।

ওই হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানান, তাৎক্ষণিক পরীক্ষা করে দেখা গেছে, শিশুটির গলায় একটা দাগ আছে। মনে হচ্ছে, কিছু দিয়ে চেপে ধরা হয়েছিল। শরীরের বেশ কিছু জায়গায় আঁচড় আছে। তার যৌনাঙ্গে রক্তক্ষরণ হয়েছে।

মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আইয়ুব আলী গতকাল সকালে বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়েছে। তার পরিবারের সবাই ঢাকায়। এখন পর্যন্ত কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ দেননি। তিনি জানান, শিশুটির পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁর দুলাভাই ও দুলাভাইয়ের বাবাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।

এদিকে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিচারের দাবিতে গতকাল জুমার পর মাগুরা সদরে মহাসড়ক অবরোধ ও থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন ছাত্র-জনতা। এ সময় থানার মূল ফটক ঘেরাও করে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের তাঁদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি তোলেন। পরে সেনাবাহিনী এসে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন