মঙ্গলবার । ৩০শে জুন, ২০২৬ । ১৬ই আষাঢ়, ১৪৩৩

ডেপুটি অ্যাটর্নি এমরানের নেমপ্লেট খুললেন আরেক ডেপুটি অ্যাটর্নি

গেজেট ডেস্ক

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিপক্ষে বিবৃতি দিতে অস্বীকৃতির কথা গণমাধ্যমে জানানোর কারণে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় থেকে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এমরান আহম্মদ ভূঁইয়ার নাম সম্বলিত নেমপ্লেট খুলে ফেলা হয়েছে। মঙ্গলবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এমরান আহম্মদের নেমপ্লেট খুলে ফেলেন অন্য এক ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এস এম ফজলুল হক।

নেমপ্লেট খুলে ফেলার কারণ প্রসঙ্গে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ফজলুল হক গণমাধ্যমকে বলেন, এমরান আহম্মদ ভূঁইয়া রাষ্ট্রের একজন আইন কর্মকর্তা হয়ে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে, প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। তাই, একজন মুক্তিযোদ্ধা ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে তার নেমপ্লেট আমি খুলে ফেলেছি। তার নেমপ্লেট অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে থাকতে পারে না বলেই আমি মনে করি।

এদিকে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের পঞ্চম তলায় গিয়ে দেখা যায়, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এমরান আহম্মদ ভূঁইয়ার নাম সম্বলিত নেমপ্লেটটি আর আগের জায়গায় নেই। তবে তার ডান-বাম পাশে অন্যদের নেমপ্লেট ঠিক রয়েছে। এছাড়া অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের ৫১১ নম্বর কক্ষে থাকা এমরান আহম্মদ ভূঁইয়ার মামলা সংক্রান্ত নথিপত্র সরিয়ে নিয়েছে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা।

এর আগে সোমবার পুরে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এমরান আহমেদ ভূঁইয়া বলেন, ড. ইউনূসের পক্ষে ১০০ জন নোবেল বিজয়ীসহ ১৬০ জনেরও বেশি বিদেশি বিবৃতি দিয়েছেন। এই বিবৃতিদাতাদের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনও রয়েছেন। বিবৃতিতে তারা বলেছেন যে- ওনাকে বিচারিক হয়রানি করা হচ্ছে। সেটার বিপরীতে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস থেকে প্রতিবাদ জানিয়ে একটি বিবৃতি দেওয়ার কথা রয়েছে।

তিনি বলেন, নোটিশ দেওয়া হয়েছে, অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসে কর্মরত সবাইকে সেই বিবৃতিতে স্বাক্ষর করার জন্য। আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এই বিবৃতিতে আমি স্বাক্ষর করব না।

কেন স্বাক্ষর করবেন না জানতে চাইলে সাংবাদিকদের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ইসরায়েলের অ্যাটর্নি জেনারেল ইসরায়েলের যে আইন সংস্কার হচ্ছে; বিচার সম্পর্কিত, তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন, এটা আমার নিজস্ব চিন্তা। সে রকমই, যে বিবৃতি দিয়েছেন ১৬০ জন নোবেল বিজয়ী এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন, আমি ওনাদের বিবৃতির সঙ্গে একমত। আমি মনে করি, অধ্যাপক ড. ইউনূস একজন সম্মানিত ব্যক্তি। তার সম্মানহানি করা হচ্ছে এবং এটা বিচারিক হয়রানি।

খুলনা গেজেট/ টিএ




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন