বাজার নিয়ন্ত্রণে টাস্কফোর্সের ১৬ দফা সুপারিশ

গেজেট ডেস্ক 

নিত্যপণ্যের লাগামহীন বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকারের করে দেওয়া ‘দ্রব্যমূল্য ও বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা’ বিষয়ক টাস্কফোর্স প্রথম বৈঠক করেছে। সোমবার (৪ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই কমিটি ১৬ দফা সুপারিশ উপস্থাপন করেছে। সোমবার (৪ এপ্রিল) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

টাস্কফোর্সের ১৬ দফা সুপারিশে রয়েছে-

১. সমুদ্র ও স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং শুল্ক স্টেশনগুলো রমজানের সময় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য খালাসে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে।

২. নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনে ফেরি পারাপারে বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃক সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে।

৩. ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরসহ জেলা ও উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

৪. কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও মজুদদারদের বিষয়ে গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারি বাড়াতে হবে।

৫. নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনে সংশ্লিষ্ট জেলা পুলিশ কর্তৃক অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সহায়তা প্রদান করতে হবে।

৬. পাইকারি হতে খুচরা পর্যায়ে অতিরিক্ত মুনাফার বিষয়ে কঠোর নজরদারি বাড়াতে হবে।

৭. অত্যাবশ্যকীয় পণ্য বিপণন ও পরিবেশক নিয়োগ আদেশ-২০১১-এর ফরম ‘ঘ’ অনুসরণপূর্বক সরবরাহ আদেশ (ঝ.ঙ) প্রদান এবং প্রকৃত ডিলার ছাড়া হাত বদল হওয়া ঝ.ঙ তে পণ্য সরবরাহ না করার বিষয়ে মিলগুলোকে বাধ্য করতে হবে।

৮. ভোজ্যতেল ক্রয়-বিক্রয়ে পাইকারি হতে খুচরা—সকল পর্যায়ে পাকা রসিদ (প্রতিষ্ঠানের নাম ও ঠিকানাসহ মুদ্রিত তথ্য) প্রদান নিশ্চিত করতে হবে।

৯. ভোজ্যতেলের মিলগেট, পরিবেশক ও ভোক্তা পর্যায়ে বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ, সঠিকভাবে প্রদর্শন ও বাস্তবায়ন করতে হবে।

১০. মজুদ ও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত সকল আইনে ব্যবস্থা নিতে হবে।

১১. ভোজ্যতেল পরিশোধনকারী মিল কর্তৃক অপরিশোধিত তেল আমদানির পরিমাণ, পরিশোধনের পরিমাণ ও পরিবেশকদের কাছে সরবরাহের পরিমাণে সামঞ্জস্য রয়েছে কি না সেটি বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন কর্তৃক নিশ্চিত করতে হবে। এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের কাছে পাঠাতে হবে।

১২. অত্যাবশ্যকীয় পণ্য বিপণন ও পরিবেশক নিয়োগ আদেশ- ২০১১ এর অনুচ্ছেদ ৯(১), ৯(২), ৯(৩), ১২(১) ও ১২(৪) এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর ধারা ৩৮, ৪০ এবং ৪৫ যথাযথ বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট দফতর, সংস্থা ও কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

১৩. মিলকর্তৃক পরিবেশক নিয়োগসংক্রান্ত হালনাগাদ তালিকা বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কাছে দিতে হবে।

১৪. ভোজ্যতেল রিফাইনারি প্রতিষ্ঠান প্রচলিত আইনের ব্যত্যয় ঘটালে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।

১৫. খুচরা পর্যায়ে মূল্যতালিকা প্রদর্শন এবং প্রতিটি ধাপে পাকা রশিদ সংরক্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

১৬. ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যক্রমের পুনরাবৃত্তি রোধকল্পে মিলগুলোতে তদারকি জোরদার করতে হবে।

বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, সরকার দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সার্বক্ষণিক লেগে আছে। এ কারণে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। এছাড়া ভ্যাট কমানোর ফলে দামের ওপর প্রভাব পড়েছে। গতকাল বাজারে সরেজমিনে গিয়ে প্রমাণ পাওয়া গেছে। সয়াবিন তেল ১৬০-১৬৫ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে।

টিপু মুনশি বলেন, ‘ব্রাজিল, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়ায় তেলের দাম না কমলে আমরা কমাতে পারবো না। ভ্যাট কমানোয় তেলের দাম বাজারে কমেছে। বাজারে পেঁয়াজের দামও কম। বাসার জন্য আমি ২৮ টাকা দরে পাঁচ কেজি পেঁয়াজ কিনেছি।’

সড়কে পণ্য পরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যাপারে আশ্বস্ত করেছেন বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ঢাকা শহরে পণ্যের সরবরাহ চেইন ঠিক রাখা দরকার, পাশাপাশি পণ্যের সরবরাহ, চাঁদাবাজিসহ পথে পথে ভোগান্তি কমলে পণ্যের দামও কমবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, পথে পথে চাঁদাবাজি হয়। এই বিষয়ে কিছুক্ষণ আগেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।

খুলনা গেজেট/এমএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন