সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের শ্রীপুর-কুড়িকাহুনিয়া লঞ্চঘাটের দক্ষিণ পাশে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। কপোতাক্ষ নদের প্রবল জোয়ারের তোড়ে গতকাল সোমবার ভোরে পাউবো বিভাগ-২ এর অধীনে ৭/২ পোল্ডারের উক্ত স্থানে প্রায় ১৫০ ফুট এলাকা জুড়ে বেড়িবাঁধ নদের গর্ভে ধসে পড়ে। এতে করে ভাঙন এলাকায় বসবাস করি জনসাধারণের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দ্রুত বাঁধ মেরামতে ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
এদিকে, বাঁধ ভাঙনের খবর পেয়ে প্রতাপনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু দাউদ ঢালী স্থানীয় লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তিনি স্থানীয়দের সহযোগিতায় ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে জরুরি ভিত্তিতে মেরামত ও নির্মাণকাজ শুরু করেছেন। বর্তমানে ইউপি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে বাঁধের ভাঙন পয়েন্ট স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে কাজ করছে স্থানীয় জনসাধারণ।
স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে কপোতাক্ষ নদের প্রবল জোয়ারের পানির চাপ ও নদী ভাঙনের কারণে প্রতাপনগর ইউনিয়নের শ্রীপুর-কুড়িকাহুনিয়া লঞ্চঘাটের দক্ষিণ পাশে বেড়িবাঁধের ওই অংশটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। বিষয়টি আশাশুনি এলাকার দায়িত্বে থাকা পাউবো বিভাগ-২ এর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মোঃ রাশেদুল ইসলামকে জানানোর পরও তিনি কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। এমনকি তিনি বিষয়টি সম্পর্কে কোনো দিন খোঁজ খবরও নেননি। যে কারণে বাঁধের ভাঙন ক্রমশ বাড়তে থাকে। একপর্যায় গতকাল সোমবার ভোরে পাউবো বিভাগ-২ এর অধীনে ৭/২ পোল্ডারের শ্রীপুর-কুড়িকাহুনিয়া লঞ্চঘাটের দক্ষিণ পাশে প্রায় ১৫০ ফুট এলাকা জুড়ে বেড়িবাঁধ কপোতাক্ষ নদের গর্ভে ধসে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, “দ্রুত ভাঙন পয়েন্টে মেরামতের স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে জোয়ারের পানির চাপে ভাঙন আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। এতে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পাশাপাশি বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী। এর আগেই নদীভাঙনের কবলে পড়ে প্রতাপনগর ইউনিয়নের মানুষ দারুণভাবে ভোগান্তির শিকার হয়েছেন।”
কুড়িকাহুনিয়া গ্রামের শফিকুল ইসলাম জানান, বেড়িবাঁধে প্রাথমিকভাবে ভাঙন দেখা দিলে পাউবো কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেন না। বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর তখন এসে জোড়াতালি দিয়ে কাজ শুরু করেন। জরুরি ভিত্তিতে মোট অঙ্কের টাকা বাজেট দিয়ে ১০ শতাংশ হাতিয়ে নেন পাউবো কর্তৃপক্ষ। পাউবো বিভাগ-২ এর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মোঃ রাশেদুল ইসলাম কমিশন ছাড়া কোনো কাজই দেখাশুনা করেন না।
প্রতাপনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু দাউদ ঢালী জানান, আগে থেকেই শ্রীপুর-কুড়িকাহুনিয়া লঞ্চঘাটের দক্ষিণ পাশে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। বিষয়টি পাউবো কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছিল। এরই মধ্যে সোমবার ভোরে হঠাৎ করে বাঁধের প্রায় ১৫০ ফুট এলাকা জুড়ে কপোতাক্ষ নদে ধসে পড়ে। বিষয়টি জানার পর দ্রুত লোকজন নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে মেরামতের কাজ শুরু করি।
তিনি আরও বলেন, “দ্রুত ভাঙন পয়েন্টের বেড়িবাঁধ মেরামত করা না গেলে কপোতাক্ষের প্রবল জোয়ারের তোড়ে সম্পূর্ণ বাঁধ ভেঙে বির্স্তীন এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়তে পারে। ফলে পানিতে তলিয়ে যাবে ফসলের খেত, চিংড়ি ঘের, ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সহ বিভিন্ন ধরনের অবকাঠামো। তিনি বাঁধ মেরামতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।”
সাতক্ষীরা পাউবো বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আব্দুর রহমান তাযকিয়া বলেন, “খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যাই। বর্তমানে ভাঙন পয়েন্টের রিভার সাইডে জিও ব্যাগ ডাম্পিং ও ল্যান্ড সাইডে জিও টিউব দিয়ে ভাঙন প্রতিরোধের কাজ চলছে।” বাঁধের ভাঙন মেরামতে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি বলেন জানান তিনি।
খুলনা গেজেট/এনএম

