চারজনকে আগেই হত্যা করে অভিযানে নিহত দেখান জিয়াউল

গেজেট প্রতিবেদন

সুন্দরবনের নিশানখালীতে ২০১১ সালে র‌্যাবের তৎকালীন গোয়েন্দা প্রধান লেফটেনেন্ট কর্নেল জিয়াউল আহসানের নেতৃত্বে বনদস্যু আস্তানায় অভিযানে বন্দুকযুদ্ধে দুজন নিহত হলেও পরে ছয়জন নিহত হয়েছে বলে দেখানো হয়েছিল।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ জিয়াউল আহসানের আইনজীবী সাহিদুর রহমানের দ্বিতীয় দিনের জেরায় একথা বলেন মেজর (অব.) সাব্বির রহমান ওসমানি। তবে জিয়াউলের নেতৃত্বে সুন্দরবনে হওয়া অভিযানটি তার কাছে সাজানো মনে হয়েছিল বলেও জানান তিনি।

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের দেড় দশকের দুঃশাসনের সময় শতাধিক মানুষকে গুম, নির্যাতন ও খুনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বরখাস্ত সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল জিয়াউলের বিরুদ্ধে ১৩তম সাক্ষী হিসেবে গত ১৭ সেপ্টেম্বর জবানবন্দি দেন তিনি। ওইদিন সাব্বিরকে জবানবন্দি শেষে প্রথম দিন জেরা করেন জিয়াউলের আইনজীবী।

জিয়াউলের আইনজীবী জেরায় সাব্বির জানান, নিশানখালী অভিযানের আগের দিন রাতে র‌্যাবের গোয়েন্দা বিভাগের একদল সদস্য আগেই সেখানে চলে যায়। মূল অভিযান পরিচালনার দিন ভোর রাতে মূল অভিযানিক দল নিশানখালীতে পৌঁছে এলাকাটি ঘিরে ফেলার প্রস্তুতিকালে হঠাৎই বনের ভিতর থেকে হুইসেলের শব্দ পাওয়া যায়। এই সিগন্যালটি দেয় আগে পৌঁছানো দলটি। সিগন্যাল শোনামাত্রই জিয়া স্যার বন লক্ষ্য করে ফায়ার ওপেন করার নির্দেশ দেন। বেশ কিছুক্ষণ গোলাগুলির পর এলাকাটি ঘিরে ফেলে তল্লাশি চালালে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক অস্ত্র ও গোলাবারুদ এবং দুইটি লাশ উদ্ধার দেখানো হয়। পরবর্তীতে মামলার প্রক্রিয়াকালে ব্যাটালিয়ন সদরকে ছয়টি লাশ দেখানো হয়।

মেজর সাব্বির জানান, পরবর্তীতে তদন্ত করে জানতে পারেন, চারটি লাশ গোয়েন্দা ইউনিটের অগ্রগামী দল আগেই ঘটনাস্থলে নিয়ে জিয়া স্যারের নির্দেশে গুলি করে হত্যা করে মূল অভিযানের সঙ্গে দেখিয়ে দেওয়া হয়েছে।

জিয়াউলের আইনজীবীর জেরায় মেজর সাব্বির ( অব.) জানান, র‌্যাব-৮–এর অভিযানের সময় যদি কোনো গুলি খরচ হতো, তা রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করা হতো। তবে জিয়া স্যার কিছু অতিরিক্ত অস্ত্র–গুলি র‌্যাব-৮ এর দপ্তরে রেখেছিলেন, যার কোনো হিসাব রক্ষণাবেক্ষণ করা হতো না। জিয়াউল ওই অস্ত্র–গুলি কোথা থেকে আনতেন, সে বিষয়ে সাব্বির জনান, অতিরিক্ত এসব অস্ত্র–গুলিগুলো আনা হয়েছিল ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলার জব্দকৃত আলামত থেকে। তবে ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় কী কী অস্ত্র ছিল, তা তার জানা নেই।

সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের কাছ থেকে আলকাছ মাঝিকে ‘এলিমিনেট’ (হত্যা) করার নির্দেশ পাওয়ার পর তা প্রকাশ্যে কিংবা গোপনে লিখিতভাবে ঊর্ধ্বতন কোনো কর্তৃপক্ষকে অবহিত করছে কিনা আইনজীবী জানতে চাইলে সাব্বির জানান, তিনি জানানি, কারণ তার ভয় হচ্ছিল যে তাহলে তার পরিণতিও আলকাছ মাঝির মতোই হবে।

পরে আইনজীবী দাবি করেন, ২০১১ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রাজু বাহিনীর সঙ্গে র‌্যাবের বন্দুকযুদ্ধে চারজন নিহত হন। এর মধ্যে আলকাছ মাঝিও ছিলেন। জবাবে সাব্বির জানান, এই কথাটি সত্য নয়।

এরপর আইনজীবী দাবি করেন, আলকাছ মাঝি কখনো মাঝি ছিলেন না এবং তিনি বনদস্যু ছিলেন। জবাবে সাব্বির বলেন, এই কথাটিও সত্য নয়।

 




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন