খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুকৃবি) ট্রেজারার প্রফেসর ড. শামীম আহমেদ কামাল উদ্দিন খানকে তাঁর নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে অবমাননাকর মন্তব্য, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬ জন সহকারী অধ্যাপকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক শৃঙ্খলা রক্ষা ও দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন ভুক্তভোগী ট্রেজারার।
ওই আবেদনপত্রে অভিযোগ তোলা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারী, এনিম্যাল এন্ড বায়োমেডিকেল সায়েন্স অনুষদের ড. তসলিম হোসেন, ড. এমএ হান্নান ও ড. মোঃ উজ্জ্বল হোসেন, কৃষি অনুষদের মোঃ মোর্শেদুল ইসলাম, ফিশারিজ এন্ড ওশান সায়েন্স অনুষদের ড. মোঃ মেহেদি আলম এবং কোয়ালিটি কন্ট্রোল এন্ড সেফটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ড. মোঃ হাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে। গত ১৭ আগস্ট দুপুর ১টা ৫ মিনিটে ওই শিক্ষকরা ট্রেজারারের কক্ষে প্রবেশ করে বিকেল আড়াইটা পর্যন্ত টানা অবস্থান নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ ও চরম অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলে পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
ওই পত্রের আলোকে ঘটনার নেপথ্যে জানা যায়, বিদেশে অবস্থানরত এক শিক্ষার্থীর নামে ভুয়া অংশগ্রহণ সনদ ইস্যু করার জবাবে সতর্কীকরণ দর্শানো নোটিশ প্রদান এবং বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী ৬ মাসের ইন্টার্নশিপ নীতিমালার পরিবর্তে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে ১ বছরের জন্য ভাতা আদায়ের বিষয়টিতে ট্রেজারার কড়াকড়ি আরোপ করেছিলেন।
এসব বিষয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে শিক্ষক মোঃ মোর্শেদুল ইসলাম ট্রেজারারকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নোটিশ প্রত্যাহারের হুমকি দেন এবং একপর্যায়ে হাত উঁচিয়ে বলেন, “এখন তো হাত উঠিয়ে কথা বলছি, পরে পা উঠিয়ে কথা বলবো।”
এ ছাড়া শিক্ষকদের পক্ষ থেকে ট্রেজারার ও সাবেক উপাচার্যকে উদ্দেশ্য করে নানা অবমাননাকর মন্তব্য ও অকথ্য গালিগালাজ করা হয়। পত্রে তিনি উল্লেখ করেন, তাদের মৌখিক দলবদ্ধ আক্রমণ আমাকে অত্যন্ত ব্যাথিত করেছে ও আমি নিরাপত্তাহীনতা বোধ করেছি।
ট্রেজারার প্রফেসর ড. শামীম আহমেদ কামাল উদ্দিন খান পত্রে উল্লেখ করেন, তারা মব কালচারে অভ্যস্ত ছিলেন, যেগুলোর বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি বিধায় তাঁরা এইরুপ ঘটনার পুনরাবৃত্তিতে উৎসাহ বোধ করেন। কাজেই এই সময়ে তাদের এই কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে এড়িয়ে যাবার সুযোগ নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ ও অভিজ্ঞ অধ্যাপককে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন সাপেক্ষে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট আইনের আলোকে ট্রেজারার হিসাবে নিয়োগ দেওয়া হয়। কাজেই এই পদের তথা এই পদে নিযুক্ত অধ্যাপকের মান-মর্যাদা অক্ষুন্ন রাখা বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা রক্ষারই অংশ। ঘটনাক্রমে কোনোভাবেই ব্যক্তিগত বিবেচনায় নিয়ে বা ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমা করে দেবার মতো কোনো ঘটনা নয়। এ অবস্থায় বিশ্ববিদালয়ের বৃহত্তর কল্যাণের স্বার্থে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।
কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সূত্র জানায়, অভিযুক্ত শিক্ষকরা শুধু ট্রেজারের সাথে ঔদ্ধত্বপূর্ণ আচরণই করেননি, তারা ঐতিহ্যবাহী খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্যও করেন।
খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. মো. আসাদুজ্জামান সরকার খুলনা গেজেটকে বলেন, এ বিষয়ে সিন্ডিকেট সদস্যদের নিয়ে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি কাজ করছে।
খুলনা গেজেট/এএজে

