খুলনায় ডেঙ্গুর প্রকোপে বেড়েছে ডাবের চাহিদা

নিজস্ব প্রতিবেদক

নগরীতে ডেঙ্গুর প্রভাব বাড়ার সাথে সাথে ডাব বিক্রির পরিধি বেড়েছে। নগরীর শতাধিক স্পটে বিক্রি হচ্ছে ডাব। আগে যে ডাবের মূল্য ৯০ টাকা থেকে ১৩০ টাকা পর্যস্ত ছিল। এখন তার প্রতিটির মূল্য প্রকারভেদে ১২০ টাকা থেকে ২০০ টাকা। শহরতলী থেকে প্রতিদিন ২ হাজার ডাব আসছে।

সাম্প্রতিক সময়ে ডেঙ্গুর প্রকোপের কারণে অনেকের ঘরে আবারও বেড়েছে ডাবের উপস্থিতি। জ¦র, বমি বা শরীরে পানিশূন্যতার আশঙ্কায় রোগীর তরল খাদ্য গ্রহণের প্রয়োজন হয়। ফলে রোগীর স্বজনদের বাজারের তালিকায় পানি, ওরস্যালাইনের পাশাপাশি ডাবের পানিও জায়গা করে নেয়। নগরীর প্রবেশদ্বার গল্লামারী, রুপসা, ফেরীঘাট, জেলখানা ঘাট, ৪ নং ঘাটে প্রতিদিন ডাব বোঝাই নৌকা, ভ্যান ও পিকআপ ভিড়ছে। নড়াইল, দিঘলিয়া, ফুলতলা, ডুমুরিয়া, রুপসা, ফকিরহাট ও তেরখাদা থেকে প্রতিদিন গড়ে ২ হাজার ডাব নগরীতে আসছে।

ডাবের ভেতরের পানি মূলত তরল, যার সঙ্গে থাকে বিভিন্ন খনিজ ও ইলেকট্রোলাইট। বিশেষ করে পটাশিয়াম, সোডিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, ভিটামিন সি সবই এই ডাবের পানিতে পাওয়া যায়। এসব খনিজ শরীরের বিভিন্ন স্বাভাবিক কার্যক্রমে গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পটাশিয়াম শরীরের কোষের স্বাভাবিক কার্যক্রম, স্নায়ু ও পেশির কাজে ভূমিকা রাখে। ম্যাগনেশিয়ামও শরীরের বিভিন্ন জৈবিক প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয়। অন্যদিকে সোডিয়াম ও পটাশিয়াম শরীরের তরল ও ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্য বজায় রাখার সঙ্গে স¤পর্কিত। পাশাপাশি এতে প্রাকৃতিক শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট থাকে, যা শরীরে শক্তি জোগাতে সহায়তা করে ও ডিহাইড্রেশন কমায়।

খুমেকের উপ-পরিচালক ডা. মোঃ আকতারুজ্জামান বলেন, “ডেঙ্গু রোগীর জন্য ডাবের পানি খাওয়া আবশ্যক নয়। গাইডলাইনে কোথাও লেখা নেই যে ডেঙ্গু হলে ডাবের পানি পান করতে হবে। ন্যাশনাল প্রটোকলেও কোথাও বলা নেই যে ডেঙ্গু হলে ডাবের পানি পান করতে হবে। ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর যদি পটাশিয়ামের মাত্রা বেশি থাকে, তখন ডাবের পানিতে হাইপারপটাশেমিয়া বা অ্যাসিডিটির মতো সমস্যা হতে পারে। আর যদি পটাশিয়ামের মাত্রা কম থাকে, তখন আমরা পরামর্শ দেই ডাবের পানির পাশাপাশি কলা ও আলু খেতে। কারণ কলা ও আলুতেও প্রচুর পটাশিয়াম রয়েছে।”

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার মোঃ রবিউল ইসলাম বলেন, “ডাব ক্রয় ক্ষমতার বাইরে থাকায় বিকল্প হিসেবে ওরস্যালাইন পানের পরামর্শ দিয়েছেন।”

নগরীর শান্তিধাম মোড়ের এক ডাব বিক্রেতা রবিউল ইসলাম বলেন, “ডেঙ্গুর কারণে এখন ডাবের চাহিদা বেশি। মূলত ডাবের আকারের ওপর ভিত্তি করে স্বল্প লাভ রেখে আমরা ডাব বিকিকিনি করি।”

অপর এক বিক্রেতা সুব্রত দাস বলেন, “আমরা প্রতিদিন ডুমুরিয়া থেকে পাইকারি দামে ডাব কিনে আনি এবং প্রতিদিন অর্ধশতাধিক ডাব বিক্রয় করি। প্রতিটি ডাবে আমাদের ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত লাভ থাকে”।

নগরীর বিভিন্ন বাজার, হাসপাতাল-ক্লিনিক সংলগ্ন মোড় গুলো ঘুরে, সর্বনিম্ন ১২০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ২০০ টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন আকারের ছোট-বড় ডাব দেখা যায়। খুলনা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ইজিবাইক চালক আলামিনের স্ত্রী সুস্মীতা শেখ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, প্রতিদিন ২ টি করে ডাব স্বামীকে পান করিয়েছেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত মোটর মেকানিক মাসুম সরদারের মা নীলুফা বেগম জানান, চারদিনের সন্তানের জন্য পথ্য হিসেবে ৮ টি ডাব কিনতে হয়েছে।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন