জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম এমপি বলেছেন, শুধু দল ক্ষমতায় গেলেই হবে না, প্রত্যেক ব্যক্তিরও বিজয় নিশ্চিত করতে হবে। দলের বিজয় হতে পারে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা অর্জন, আর ব্যক্তির বিজয় হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি ও জান্নাত লাভ। তাই রাজনৈতিক কর্মকান্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে নিজের আমল ও আখিরাতের সফলতার জন্য কাজ করতে হবে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) খুলনা মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে নগরীর আল ফারুক সোসাইটি মিলনায়তনে খুলনা মহানগরীর রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ সব কথা বলেন।
তিনি বলেন, মানুষ এখন দুনিয়াবি সম্পদ অর্জনের প্রতিযোগিতায় নেমেছে। কে বেশি বাড়ি করবে, কে বেশি সম্পদের মালিক হবে এসব নিয়ে ব্যস্ততা বেড়েছে। অথচ ইসলামে দুনিয়ার সম্পদ অর্জন নিষিদ্ধ নয়। সম্পদ থাকলেই যাকাত ও দান-সদকা করা সম্ভব। তবে সম্পদ অর্জনের জন্য যেকোনো পথ বেছে নেওয়া যাবে না। প্রতিযোগিতা করতে হবে আল্লাহর ক্ষমা ও জান্নাত লাভের জন্য।
এ টি এম আজহার বলেন, দলের বিজয় মানেই ব্যক্তির বিজয় নয়। কোনো ব্যক্তি অন্যায়ভাবে ভোট চুরি বা অনৈতিক পদ্ধতিতে জামায়াতকে ক্ষমতায় আনলেও তাতে তার ব্যক্তিগত মুক্তি হবে না।
উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, একজন চোর ধনী ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা চুরি করে গরিবদের মধ্যে বিলিয়ে দিলেও তার চুরি বৈধ হয়ে যায় না। একইভাবে দলের জন্য অন্যায় করলে সেই অন্যায়ের দায় ব্যক্তিকেই বহন করতে হবে।
জামায়াতে যুক্ত হওয়ার উদ্দেশ্য শুধু ক্ষমতায় যাওয়া নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্য মানুষের কল্যাণ করা। পাশাপাশি প্রত্যেক কর্মীকে নিজের আখিরাতের সফলতার জন্যও কাজ করতে হবে। কারণ, আল্লাহর কাছে প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার নিজের কাজের হিসাব দিতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আওয়ামী লীগকে রিফাইন করে নতুন রূপে রাজনীতিতে ফেরানোর চেষ্টা চলছে। তাঁর দাবি, সরকারের ভেতরের কিছু ব্যক্তি ও দিল্লির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মহল এ প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখছে। তবে ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলো ঐক্যবদ্ধ থাকলে আওয়ামী লীগের পক্ষে সহজে রাজনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব হবে না।
তিনি বলেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান কোনো ব্যক্তি বা দলের একক কৃতিত্ব নয়। এটি আল্লাহর রহমত এবং ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের ফল। দীর্ঘ ১২ থেকে ১৪ বছরের রাজনৈতিক অন্ধকারের পর মানুষ পরিবর্তনের প্রত্যাশা করেছিল। গণঅভ্যুত্থানে বহু মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, তার লক্ষ্য ছিল দুর্নীতি, দমন-পীড়ন, বৈষম্য, দলীয়করণ ও অর্থপাচারমুক্ত একটি নতুন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা।
বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক চরিত্র নিয়েও প্রশ্ন তোলেন জামায়াতের এই নেতা। তাঁর ভাষ্য, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে থাকা কয়েকজনের অতীত বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। কয়েকজন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। অতীতের বিএনপি সরকারের সময়ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার উদাহরণ রয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর খুলনা মহানগরী আমির মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি এ্যাড. শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল এমপির পরিচালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর খুলনা অঞ্চল পরিচালক অধ্যক্ষ মো. ইজ্জত উল্লাহ এমপি ও সহকারী পরিচালক মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক এমপি।
সম্মেলনে শুভেচ্ছা বক্তৃতা করেন জামায়াতে ইসলামীর খুলনা জেলা আমির মাওলানা এমরান হুসাইন এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের মহানগরী সভাপতি রাকিব হাসান।
খুলনা গেজেট/এএজে

