৩ জেলায় পানিতে ডুবে ৬ জনের মৃত্যু

গেজেট প্রতিবেদন

দেশের তিন জেলায় পানিতে ডুবে চার শিশুসহ ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) পাবনা, নোয়াখালী ও কক্সবাজারে এসব দুর্ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে পাবনায় মাঠে জমে থাকা বর্ষার পানিতে ডুবে তিন শিশু এবং কক্সবাজারের টেকনাফে নাফ নদীতে গোসল করতে নেমে দুই কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। নোয়াখালীতে পানিতে ডুবে মারা গেছে আরও এক শিশু।

পাবনায় মাঠের পানিতে ডুবে তিন শিশু
পাবনা সদর উপজেলায় মাঠে জমে থাকা বর্ষার পানিতে ডুবে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে উপজেলার চরতারাপুর ইউনিয়নের নবীন বাজার এলাকার দাশপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত তিন শিশু হলো—দাশপাড়া গ্রামের শিমুল মল্লিকের মেয়ে সুমি খাতুন (৭), আশরাফুল ইসলামের ছেলে খালিদ হোসেন (৮) ও মেয়ে আফিয়া খাতুন (৬)। তারা স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষার্থী ছিল।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শুক্রবার দুপুরে বাড়ির পাশের মাঠে জমে থাকা বর্ষার পানিতে গোসল করতে নামে শিশুরা। একপর্যায়ে একজন পানিতে তলিয়ে যায়। তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে পরপর আরও দুজন পানিতে ডুবে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন তিন শিশুকে উদ্ধার করে দ্রুত সুজানগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দিকে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালে নেয়ার পথেই তাদের মৃত্যু হয়।

পাবনা সদর থানার ওসি তরিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজ নেয়া হচ্ছে।

নোয়াখালীতে পানিতে ডুবে তিন বছরের শিশুর মৃত্যু
নোয়াখালীর সদর উপজেলার নেওয়াজপুর ইউনিয়নে পানিতে ডুবে মো. ফালাক নামে তিন বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে ইউনিয়নের দেবীপুর গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

ফালাক দেবীপুর গ্রামের মো. আব্দুর রহিম সোহেলের একমাত্র ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুরে পরিবারের সদস্যরা জুমার নামাজে ছিলেন। বাড়িতে অতিথিও ছিলেন। সবার অগোচরে কোনও একসময় ফালাক পানিতে পড়ে যায়। পরে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

সুধারাম মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ইদ্রিসুর রহমান বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। বিস্তারিত খোঁজ নেয়া হচ্ছে। শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়ে পরিবারের সদস্যদের আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

টেকনাফে নাফ নদীতে ডুবে দুই কিশোরের মৃত্যু
কক্সবাজারের টেকনাফে মিয়ানমার সীমান্তঘেঁষা শাহপরীর দ্বীপ জেটিঘাটসংলগ্ন নাফ নদীতে গোসল করতে নেমে দুই কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত দুই কিশোর হলো শাহপরীর দ্বীপ উত্তরপাড়া এলাকার মোহাম্মদ উল্লাহর ছেলে মোহাম্মদ নিশান (১৩) এবং একই এলাকার কেফায়েত উল্লাহর ছেলে মোহাম্মদ আরজিন (১৪)। তারা দুজনই সাবরাং ইউনিয়নের উত্তরপাড়া এলাকার বাসিন্দা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে কয়েকজন শিশু জেটিঘাটসংলগ্ন নাফ নদীতে গোসল করতে নামে। একপর্যায়ে নিশান ও আরজিন স্রোতের টানে নদীর গভীর পানিতে তলিয়ে যায়। এরপর তাদের আর দেখা যায়নি।খবর পেয়ে স্থানীয় জেলে ও কোস্টগার্ড সদস্যরা নদীতে তল্লাশি শুরু করেন। প্রায় চার ঘণ্টা পর নদী থেকে দুই কিশোরকে উদ্ধার করা হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাদের মৃত্যু হয়।

শাহপরীর দ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবদুস সালাম বলেন, দুই কিশোরকে উদ্ধার করা গেলেও বাঁচানো যায়নি। ভবিষ্যতে শিশুরা যাতে ঝুঁকিপূর্ণভাবে নাফ নদীতে গোসল করতে না নামে, সে বিষয়ে অভিভাবকসহ স্থানীয়দের সচেতন হতে হবে।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, নাফ নদীতে গোসল করতে নেমে দুই কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মরদেহ হাসপাতালে রয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হবে।

টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক নুশরাত জাহান বলেন, দুপুরে দুই কিশোরকে হাসপাতালে আনা হয়। হাসপাতালে আনার আগেই তাদের মৃত্যু হয়েছিল।

খুলনা গেজেট/এএজে




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন