নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনার পর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া র্যাবকে ‘কিলিং স্কোয়াড’ আখ্যা দিয়ে বাহিনীটি বিলুপ্তির দাবি জানিয়েছিলেন বলে সংসদে জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন। ২০১৯ সালেও খালেদা জিয়া র্যাবকে ‘ক্যান্সার’ আখ্যা দিয়ে বাহিনীটি বিলুপ্তির দাবি জানিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্যে নাজিবুর রহমান এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ২০১৪ সালের মে মাসে নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের ঘটনার পর র্যাবকে ‘কিলিং স্কোয়াড’ আখ্যা দিয়েছিলেন খালেদা জিয়া। সে সময় তিনি র্যাবের সংস্কার নয়, সরাসরি বাহিনীটি বিলুপ্তির দাবি জানিয়েছিলেন।
নাজিবুর রহমান বলেন, ২০১৯ সালেও খালেদা জিয়া র্যাবকে ‘ক্যান্সার’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং তখনও বাহিনীটি বিলুপ্তির দাবি জানান। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বিএনপি পুলিশ সংস্কার কমিশনের কাছে র্যাব বিলুপ্তির আনুষ্ঠানিক সুপারিশ করে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। বর্তমান সংসদেও স্পিকার, বিরোধীদলীয় নেতা ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ র্যাব বিলুপ্তির দাবি জানিয়েছেন। রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি জাতিসংঘ, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও গুম কমিশনও র্যাব বিলুপ্তির সুপারিশ করেছে।
র্যাবের পরিবর্তে প্রস্তাবিত নতুন বাহিনী এসআরবি নিয়ে আপত্তি তুলে নাজিবুর রহমান বলেন, বিলের ২৭ ধারায় র্যাবের জনবল, কার্যালয়, ক্ষমতা, নথিপত্র, সম্পদ, চুক্তি ও দায়-দায়িত্ব সরাসরি এসআরবির কাছে হস্তান্তরের কথা বলা হয়েছে। ফলে শুধু বাহিনীর নাম পরিবর্তন হচ্ছে, কাঠামোগত পরিবর্তন হচ্ছে না। ‘নতুন বোতলে পুরোনো মদ’—র্যাবের নাম ছাড়া আর কোনো কিছুই পরিবর্তন করা হচ্ছে না। এভাবে বাহিনীর নাম পরিবর্তন করে উদ্দেশ্য পূরণ হবে না।
এ ধরনের পরিবর্তনের ফলে গুমসহ বিভিন্ন অপরাধের মামলা ও তদন্ত ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
এসআরবির জবাবদিহির ব্যবস্থা নিয়েও আপত্তি তুলে নাজিবুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে সাত দফা লিখিতভাবে দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে অন্যতম ছিল জবাবদিহির ব্যবস্থা। কিন্তু প্রস্তাবিত কাঠামোয় এসআরবির বিরুদ্ধে আসা অভিযোগ তদন্তের কমিটির চেয়ারম্যান হবেন বাহিনীটির একজন অতিরিক্ত মহাপরিচালক। কমিটির সাচিবিক দায়িত্বেও থাকবেন এসআরবির একজন পরিচালক। অর্থাৎ যে বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, সেই বাহিনীর কর্মকর্তাই অভিযোগ তদন্ত কমিটির চেয়ারম্যান ও সাচিবিক দায়িত্বে থাকবেন। এটি জবাবদিহির কার্যকর ব্যবস্থা হতে পারে না।
নাজিবুর রহমান আরও বলেন, সাধারণ পুলিশ বাহিনীতে যে জবাবদিহির মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়, প্রস্তাবিত এসআরবিতে সেটিও রাখা হয়নি। কোনো থানার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা ও ম্যাজিস্ট্রেটের অধীনে তা তদারক করা হয়। কিন্তু প্রস্তাবিত কাঠামোয় এমন ব্যবস্থা নেই।
এসআরবির বাইরে স্বাধীন ব্যক্তিদের দিয়ে অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, তদন্ত কমিটিতে অবসরপ্রাপ্ত হাইকোর্টের বিচারপতি, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের প্রতিনিধি, ফৌজদারি আইনজীবী, মানবাধিকারকর্মী ও সাংবাদিকদের অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। এসব আপত্তি লিখিতভাবে জানানো হয়েছিল এবং সেগুলো সংসদীয় কমিটির রিপোর্টেও রয়েছে। কিন্তু বিলের মূল কাঠামোয় এসব বিষয়ে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।
নাজিবুর রহমান বলেন, আমরা একটি দক্ষ ও বিশেষায়িত বাহিনীর বিরুদ্ধে নই। তবে প্রশিক্ষণ ও জবাবদিহির ব্যবস্থা ঠিক না রেখে শুধু নাম পরিবর্তন করলে এর উদ্দেশ্য পূরণ হবে না।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতাগুলোকেও বিবেচনায় নিতে হবে।
খুলনা গেজেট/এএজে

