মুর্শিদাবাদের সুতি ব্লকের নুরপুর অঞ্চলে বাংলাদেশে পুশব্যাকের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে সরেজমিনে পরিদর্শনে গেলেন সোসাল ডেমোক্রেটিক পার্টি বা এসডিপিআই-এর প্রতিনিধি দল।
প্রতিনিধি দল জানিয়েছে, গত জুলাই মাসে নুরপুর অঞ্চলের বাসিন্দা ইব্রাহিম শেখ (৬১), আব্দুল জব্বার (৩৪)-সহ কয়েকজনকে বাংলাদেশি সন্দেহে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর যৌথ দল বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে বাংলাদেশে পুশব্যাক করেছে বলে অভিযোগ ওঠে।
৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (শনিবার) এস ডিপি আই-এর প্রতিনিধি দল কালুপুর গ্রামে পৌঁছে সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলির সঙ্গে কথা বলে ঘটনার বিস্তারিত খোঁজ নেন। পরিবারের দাবি, ইব্রাহিম শেখ দীর্ঘদিন ধরে এদেশের ভোটার হলেও ঝওজ-এর সময় তাঁর নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যায়। এরপর তাঁকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হলেও পরিবারের সদস্যরা তাঁর কোনও খোঁজ পাচ্ছেন না।
অন্যদিকে, আব্দুল জব্বারের পরিবারের দাবি, তিনি ১৯৯০ সালে এই গ্রামেই জন্মেছেন এবং জন্মনিবন্ধন ও ভোটার তালিকায় তাঁর নাম রয়েছে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও তিনি ভোট দিয়েছেন। অথচ তাঁকে বাংলাদেশি অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত করে তাঁর দুই শিশুসন্তানসহ ডিটেনশন ক্যাম্পে রাখা হয়েছে বলে পরিবারের অভিযোগ।
ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এসডিপিআই-এর সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তায়েদুল ইসলাম বলেন, “এস আই আর-এর নামে এদেশের মানুষকে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসেবে চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া বন্ধ করতে হবে। মানুষের নাগরিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।” তিনি আরও বলেন, “ঘৃণা ও বিদ্বেষের রাজনীতি বন্ধ করে প্রশাসনকে স্বচ্ছ ও মানবিক ভূমিকা পালন করতে হবে।”
প্রতিনিধি দল সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলির পাশে থাকার আশ্বাস দেয় এবং বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনার পাশাপাশি আইনি ও গণতান্ত্রিকভাবে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথা জানায়।
প্রতিনিধি দলে ছিলেন এসডিপিআই-এর সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তায়েদুল ইসলাম, উত্তর মুর্শিদাবাদ জেলা সভাপতি মোঃ জাকির হোসেন, শামশেরগঞ্জ বিধানসভা কমিটির সম্পাদক নুরুল ইসলাম, আব্দুল হাকিম এবং বিশিষ্ট সাংবাদিক মোস্তাক আলীসহ অন্যান্যরা।
বাংলাদেশে পুশব্যাকের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে মুর্শিদাবাদে সরেজমিনে পরিদর্শনে এসডিপিআই’র প্রতিনিধি দল

