মানুষের আদালতে বিচার চাই না। আল্লাহর আদালতে বিচার দিলাম। তিনি ন্যায় বিচারক, শেষ বিচারের দিনে ছেলে হত্যাকাণ্ডের ঠিক বিচার বুঝে পাব। হত্যাকাণ্ডের ৬ দিন অতিবাহিত হলেও মামলার তদন্তে কোনো অগ্রগতি বা আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় দৌলতপুরের মহেশ্বরপাশা এলাকায় নিহত মনিরুল ইসলামের মা নাসিমা বেগম এভাবে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
তিনি আরও বলেন, মামলা চালানোর অর্থ ও আদালতে দৌড়ানোর সক্ষমতা আমাদের নেই। সম্ভব হলে মামলাটি তুলে নিব।
রনির মা নাসিমা বেগম বলেন, ২৪ বছর আগে আমার স্বামী মারা যান। এরপর নগরীর দৌলতপুর থানার মহেশ্বরপাশা পশ্চিমপাড়া ঘোষপাড়ায় এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে বসবাস করছি। রনি একসময় কোম্পানিতে মালামাল ওঠানো-নামানোর কাজ করত। কিন্তু কোমরে ব্যথা পাওয়ার কারণে সে ওই কাজ ছেড়ে দিয়ে ইজিবাইক চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলো।
পরিবারের উপার্জনক্ষম একমাত্র ব্যক্তিতে হারিয়ে এখন চোখে শস্যের ফুল দেখছি নাসিমা বেগমের পরিবার।
তিনি বলেন, ছেলের বউ ও তার ১৪ মাসের সন্তানকে নিয়ে কোথায় যাব তা ভেবে পারছি না। দুটি ছেলে মেয়ে নিয়ে আমি দীর্ঘদিন এখানে বসবাস করলেও কারও সাথে কোনোদিন কোনো দ্বন্দ্ব হয়নি।
ছেলের মৃত্যু নিয়ে তিনি বলেন, গত ২৩ আগস্ট বেলা ১১টার দিকে রনি মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়। দুপুর ১টার দিকে আমার সাথে তার শেষ কথা হয়। সেদিন রনি দুপুরে বাড়ি না ফেরায় বিভিন্নস্থানে তার খোঁজ নেই। পরে জানতে পারি মহেশ্বরপাশা পশ্চিমপাড়ার খুটিরঘাট ব্রিজের ওপর থেকে তাকে কয়েকজন দুর্বৃত্ত জোর করে তুলে নিয়ে গেছে। ঘটনাস্থলে তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। এরপর তার কোনো সন্ধান মেলেনি। খোঁজ না পেয়ে থানায় জিডি করি। ২৬ আগস্ট সন্ধ্যায় ৭টার দিকে কার্তিককুল নাসিরের ঘের হতে একজনে মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে রনির প্যান্ট এবং কোমরের বেল্ট দেখে শনাক্ত করি। তাকে খুব কষ্ট দিয়ে দুর্বৃত্তরা হত্যা করেছে। কে বা কারা আমার ছেলেকে হত্যা করেছে তা জানি না। নগরীতে একের পর এক হত্যাকাণ্ড ঘটলেও একটারও বিচার হয়নি। আমার সন্তানের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা হবে। তাই মানুষের আদালতে নয়, আল্লাহর আদালতে ছেলে হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই। মামলা চালানোর অর্থ ও দৌড়ানোর সক্ষমতা আমার নেই। মামলাটি তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
রনির বোন গণমাধ্যমকে বলেন, এলাকায় আমার ভাইয়ের কোনো বন্ধু বা শত্রু ছিলনা। যেখানে বিচার পাওয়া যায় না সেখানে আমার ভাই হত্যার বিচার আমরা চাই না। এখন শুধু একটাই চাওয়া, আমার ভাইয়ের মত আর কেউ যেন তার ভাইকে এভাবে না হারায়। ভাই হারানোর বেদনা যে কত কষ্ট তা আমি বুঝি।
মরদেহ দাফনের পর মা নাসিমা বেগম বাদী হয়ে থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। কিন্তু পুলিশ এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোরাদুল ইসলাম বলেন, রনির মা ২৮ আগস্ট রাতে থানায় মামলা দায়ের করেন। এতে তিনি কারও নাম উল্লেখ করেনি। মামলাটির তদন্ত চলছে।
খুলনা গেজেট/এনএম

