শিক্ষকদের ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পদক ও পুরস্কারের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একইসঙ্গে শিক্ষকদের পাঠদান ও নেতৃত্বগুণ বিকাশে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
মাউশির পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) অধ্যাপক মো. নাজমুল হকের সই করা এক চিঠিতে বলা হয়েছে, গত ২৮ জুলাই প্রধানমন্ত্রী মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের সময় তিনি শিক্ষার মানোন্নয়নে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করে তা বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেন। শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে শিক্ষকদের ভালো কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পদক ও পুরস্কারের ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি তাদের পাঠদান ও নেতৃত্বগুণ বিকাশে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়েছে।
স্বীকৃত শিক্ষক মূল্যায়নের ক্ষেত্রে কয়েকটি মানদণ্ড বিবেচনা করার পরামর্শ দিয়েছে মাউশি। এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষাগত যোগ্যতা, শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা, বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান ও নিষ্ঠা এবং শিক্ষা উপকরণ ব্যবহারে দক্ষতা।
এ ছাড়া মূল্যায়ন পারদর্শিতা, প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও উত্তরপত্র মূল্যায়নে দক্ষতা, ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক, সহকর্মী ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতার মনোভাবও বিবেচনায় রাখার কথা বলা হয়েছে। শিক্ষকের চারিত্রিক দৃঢ়তা, ব্যক্তিত্ব, সততা ও উদ্যমও মূল্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
চিঠিতে পোশাক-পরিচ্ছদ, চ্যালেঞ্জ গ্রহণের সক্ষমতা এবং শ্রেণিকক্ষে প্রযুক্তি ব্যবহারের দক্ষতার কথাও বলা হয়েছে। পাশাপাশি পাঠ্যপুস্তক প্রণয়নে অবদান এবং পেশাগত বা গবেষণামূলক সৃজনশীল প্রকাশনাকেও শিক্ষক মূল্যায়নের ক্ষেত্রে বিবেচনা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
গুণগতমানের শিক্ষা নিশ্চিত করতে শিক্ষকের উদ্ভাবনী ও সৃজনশীল উদ্যোগ, উত্তমচর্চার নির্দেশনা, কমিটির কাজে দক্ষতা ও আর্থিক শৃঙ্খলাকেও গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কার্যকর শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনায় পারদর্শিতাও মূল্যায়নের অন্যতম মানদণ্ড হিসেবে রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া সবুজ ও পরিচ্ছন্ন ক্যাম্পাস গড়ে তোলা এবং স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী প্রতিষ্ঠান পুনঃসজ্জিত করার বিষয়টিও শিক্ষক মূল্যায়নের ক্ষেত্রে বিবেচনা করা যেতে পারে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
মাউশির চিঠিটি দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়েছে। এতে সংশ্লিষ্ট পরিচালক, উপপরিচালক, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, প্রধান শিক্ষক, উপজেলা বা থানা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের পত্রে বর্ণিত বিষয় বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।
খুলনা গেজেট/এএজে

