উন্নত জীবনের স্বপ্নে বিভোর ছিল খুলনার ৬ যুবক। তাদের সকলের চোখে মুখে ছিল উজ্বল ভবিষ্যতের হাতছানি। কিন্তু ভাগ্যে তাদের কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। প্রতারকের খপ্পরে পড়ে তারা। ১৭ লাখ টাকা দিয়ে হতাশার মাঝে ডুবে আছেন তারা। এমনই অভিযোগে গত বৃহস্পতিরবার রাত পৌনে ২টার দিকে ময়মনসিংহ থেকে প্রতারক চক্রের সদস্য পলাশকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই সদস্যরা। পরে তাকে আদালত জবানবন্দির মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়।
পিবিআইয়ের সূত্র জানায়, নগরীর লবণচারা এলাকার আলাউল কবির খাঁয়ের সাথে প্রতারক পলাশ আলীর পরিচয় হয়। তাকে মালয়েশিয়ায় ভালো বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখানো হয়। ৬ যুবককে বিদেশে পাঠানোর জন্য কবির খাঁ তার সাথে যোগাযোগ করে। প্রত্যেককে বিদেশে পাঠানোর জন্য ৫ লাখ ৫০ হাজার টকা দাবি করা হয়। ভুক্তভোগীরা বিভিন্ন তারিখে ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ১৭ লাখ টাকা প্রদান করে। টাকা গ্রহণের পর থেকে বিভিন্ন টালবাহানা করতে থাকে সে। পরবর্তীতে চাররি প্রত্যাশীদের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় পলাশ।
সূত্রটি আরও জানায়, চলতি মাসের ১৫ তারিখে প্রতারক কবিরের বাড়িতে এসে চাকরি প্রত্যাশীদের মালয়েশিয়ায় পাঠাতে এবং গ্রহণকৃত টাকা তাদের ফেরত দিতে পারবে না বলে জানায়। গত ২৪ আগস্ট এ ঘটনায় কবির খাঁ লবণচরা থানায় একটি প্রতারণা মামলা দায়ের করেন। এতে তিনি পলাশসহ দুই জনের নাম উল্লেখ করেন। পরবর্তীতে মামলাটি তদন্তের ভার পিবিআইয়ের ওপর ন্যাস্ত করা হয়। বৃহস্পতিবার রাতে আসামি পলাশকে ময়মনসিংহ জেলার সদর থানার গোল পুকুর পাড়ার কর অঞ্চল ভবন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তাকে খুলনা পিবিআই কার্যালয়ে আনা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে টাকা আত্মসাতের কথা স্বীকার করেছে। দুপুরের পর তাকে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমলি লবণচারা আদালতে নেওয়া হয়। পরে তাকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন আদালত।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের এসআই মো: হাবিবুর রহমান বলেন, ৬ জনের কাছ থেকে সর্বমোট ১৭ লাখ টাকা নেয় প্রতারক পলাশ। এর মধ্যে থেকে ১৩ লাখ তার কাছে এবং বাকী টাকা মালয়েশিয়ার এজেন্সির কাছে পাঠানো হয়। কিন্তু সহযোগী প্রতারণা করায় তিনি ৬ যুবককে সঠিক সময়ে মালয়েশিয়ায় পাঠাতে পারেনি। এরপর সে আত্মগোপনে চলে যায়। পরবর্তীতে উন্নত প্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান নিশ্চিত করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
খুলনা গেজেট/এএজে

