দেড় মাস পর জীবিত উদ্ধার করা হল খুলনার আয়শা খাতুনকে। গত বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে পিবিআই খুলনার সদস্যরা তাকে ঢাকা থেকে উদ্ধার করে। পরবর্তীতে তাকে উপস্থিত করা হলে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়ার পর আদালত তাকে তার মায়ের জিম্মায় হস্তান্তর করেন।
উদ্ধার হওয়া আয়শা খাতুন দাকোপ উপজেলার গুণারী এলাকার ইসলাম সরদারের স্ত্রী।
পিবিআইয়ের সূত্র জানায়, প্রায় ১২ বছর আগে দাকোপ উপজেলার ইসলাম সরদারের সাথে কয়রা উপজেলার আয়শা খাতুনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে সাংসারের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মনোমালিন্য হয়। এক পর্যায়ে সে স্বামীর সাথে সংসার করবে না বলে পরিবারকে জানিয়ে দেয়। বাবা-মা তাকে জোর করে স্বামীর বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। এ কারণে কাউকে কিছু না জানিয়ে সে ঢাকায় আত্মগোপন করে থাকে।
সূত্রটি আরও জানায়, মেয়ের সন্ধান না পেয়ে মা আদালতে একটি সিআর মামলা দায়ের করেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, মেয়ের স্বামীসহ অন্যান্যরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আয়শাকে গত ১১ জুলাই কয়রা উপজেলার মসজিদকুড় ব্রিজের ওপর থেকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে অপহরণ করে এবং ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। দাবিকৃত টাকা না পেয়ে তারা মেয়েকে হত্যা করে লাশ গুম করেছে। পরবর্তীতে মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেন আদালত। আদালতের নির্দেশে পিবিআই সদস্যরা আয়শা খাতুনের শ্বশুর বাড়ির সদস্য ও মায়ের সাথে কথা বলে। বিভিন্নস্থানে সোর্স নিয়োগ করার পর তাকে গত বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে নিখোঁজের দেড়মাস পর ঢাকা থেকে জীবিত উদ্ধার করে পিবিআইয়ের সদস্যরা।
পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন বলেন, বিষয়টি ছিল আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সংসারে মন বসে না। পরিবারের সদস্যরা জোর করে তাকে স্বামীর সংসারে পাঠিয়ে দেয়। এরপরও সেখানে মন না বসলে পরিবারের কাউকে কিছু না জানিয়ে ঢাকায় চলে যায়। এমনকি সে ফোনও ব্যবহার করত না।
৫ লাখ টাকা ও গাড়িতে তুলে নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, মিথ্যা রটনা রটিয়ে মেয়ের মা এই মামলা দায়ের করেছে। উদ্ধারের পর তাকে কয়রা আদালতে উপস্থিত করা হয়। সেখানে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়ার পর তাকে তার মায়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
খুলনা গেজেট/এএজে

