চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার মদনা গ্রামে কৃষিজমিতে ক্ষতিকারক পোকামাকড় দমনে বিষ প্রয়োগের পর সেই ধান ও বিষাক্ত পোকামাকড় খেয়ে প্রায় ২০ থেকে ৩০টি দেশীয় পাখির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালত জমির মালিকের ছেলেকে জরিমানা করেছেন। একই সাথে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে তাকে সতর্ক করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার মদনা গ্রামের দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা আতিয়ার রহমান তার জমিতে ক্ষতিকারক পোকামাকড় দমনের জন্য বিষ প্রয়োগ করেন। সেই জমির বিষমিশ্রিত ধান ও বিষাক্ত পোকামাকড় খেয়ে রাত থেকে রবিবার (১৬ আগস্ট) দিনভর বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় পাখি মারা যেতে থাকে।
একসঙ্গে বেশ কিছু দেশীয় পাখির মৃত্যুর ঘটনা এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে ঘটনাটি পরিদর্শনে যায় উপজেলা প্রশাসন।
রবিবার রাতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন দামুড়হুদা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক শাহীন আলম। এ সময় তিনি জমির পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন এবং জমির মালিকের ছেলে রাজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। জিজ্ঞাসাবাদে রাজন জমিতে বিষ প্রয়োগের বিষয়টি স্বীকার করেন। পরে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর এর ক্ষতিকর প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত রাজনকে ৫০০ টাকা জরিমানা করেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ না করার জন্য তাকে সতর্ক করা হয়।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক শাহীন আলম ঢাকা বলেন, আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেছি, কৃষিজমিতে বিষ প্রয়োগের ফলে ২০ থেকে ৩০টি পাখি মারা গেছে। জমির মালিক জানিয়েছেন, ঘটনাটি অনিচ্ছাকৃতভাবে হয়েছে। ফসল রক্ষায় কীটনাশক ব্যবহারের ক্ষেত্রে কৃষকদের অবশ্যই সতর্ক হতে হবে। এ ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে কৃষকদের আরও সচেতন হতে হবে।
খুলনা গেজেট/এএজে

