থানা হেফাজতে নিহত তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে গেলেন মমতা ব্যানার্জি, তীব্র জনবিক্ষোভ

কলকাতা প্রতিনিধি

কলকাতার কাছেই উত্তর ২৪ পরগণার হালিশহরে থানা হেফাজতে নিহত এক তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে স্থানীয়দের ক্ষোভের মুখে পড়লেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। বীজপুর থানা এলাকার হালিশহরে পৌঁছতেই মমতাকে লক্ষ্য করে ‘চোর’ স্লোগান ওঠে। এমনকি তার কনভয় ঘিরে ধরে গাড়ি লক্ষ্য করে কাদা ও জুতো ছোড়া হয় এবং গাড়ির কাচে কাদা লেপে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ।

বিক্ষোভকারীদের দাবি, শান্ত এলাকাকে রাজনৈতিক স্বার্থে উত্তপ্ত করতেই সেখানে গিয়েছেন মমতা।

ঘটনার সূত্রপাত হালিশহর থানার লকআপে বিরজু কেয়ট নামে এক তৃণমূল কর্মীর অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে। নিহত বিরজুর স্ত্রী জেনি শর্মা কেয়ট নদিয়ার কাঁচরাপাড়া পুরসভার প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলার (TMC Councillor)। সম্প্রতি হালিশহরের এক মহিলার দায়ের করা লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বিরজুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে তোলাবাজি, ভয় দেখানো, আর্থিক প্রতারণা এবং বেআইনি অস্ত্র আইন-সহ একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছিল।

পুলিশ সূত্রে খবর, গত শুক্রবার ব্যারাকপুর আদালতে পেশ করা হলে বিচারক বিরজুকে পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন। এর পর শনিবার সকালে থানা হেফাজতে থাকা অবস্থাতেই তিনি আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে দাবি পুলিশের। তড়িঘড়ি তাকে কল্যাণীর জওহরলাল নেহরু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

তবে পুলিশের এই অসুস্থতার দাবি মেনে নেয়নি নিহতের পরিবার। তাদের অভিযোগ, থানা হেফাজতে বেধড়ক মারধরের বলেই মৃত্যু হয়েছে বিরজুর। যদিও মারধর ও পুলিশি নির্যাতনের সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে ব্যারাকপুর কমিশনারেটের পুলিশ।

রবিবার সেই মৃত বিরজুর পরিবারের লোকজনের সাথে দেখা করতে হালিশহরে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে তিনি পৌঁছতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। বিক্ষোভের মুখে পড়ে তাঁর গাড়ি আটকে দেওয়া হয় এবং চারদিক থেকে ‘চোর’ স্লোগান উঠতে থাকে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পৌঁছায় বিশাল পুলিশ বাহিনী।

খুলনা গেজেট/এএজে




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন