আমেরিকা হামলা চালালে অন্য দেশের জ্বালানিক্ষেত্র ভস্ম করার হুমকি ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রকে যেকোনো ‘বেপরোয়া পদক্ষেপ’ নেওয়া থেকে বিরত থাকার কড়া বার্তা দিয়েছে ইরান। তেহরান স্পষ্টভাবে সতর্ক করে বলেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকি অনুযায়ী যদি মার্কিন বাহিনী ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে আবার হামলা চালায়, তবে তার কঠোর ও চূড়ান্ত জবাব দেওয়া হবে।

শনিবার তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে পৃথক টেলিফোন আলাপে এই কড়া হুঁশিয়ারি দেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।

ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই চরম হুঁশিয়ারির মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই কুয়েতের সেনাবাহিনী দাবি করে, তারা ইরানের দিকে থেকে ছোড়া ড্রোন ভূপাতিত করেছে। দেশটির বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে ইরান এসব ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে কুয়েত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে আলাপে আব্বাস আরাগচি জানান, যেকোনো বহিরাগত আগ্রাসনের জবাবে ইরান দৃঢ় ও কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখাতে প্রস্তুত।

নিজের বার্তা সংস্থা টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টে এক বার্তায় আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ‘অস্থিতিশীল কর্মকাণ্ডের’ কারণে গোটা মধ্যপ্রাচ্যে যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হচ্ছে, তা নিয়ে তিনি মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা করেছেন।

পরে সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহানের সঙ্গে আলাপে আরাগচি আরো একধাপ এগিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের কোনো হামলা কিংবা সেই সামরিক পদক্ষেপে আঞ্চলিক অন্য কোনো দেশ অংশ নিলে ইরান সবার ওপরই ‘সমান মাত্রায় প্রতিশোধমূলক হামলা’ চালাবে।

অন্যদিকে, শনিবারই সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি ফোনালাপ করেছেন।

এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, যুবরাজ ট্রাম্পের কাছে ইরান-সংক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক পরিকল্পনা নিয়ে গভীর ‘উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চান’।

এদিকে ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বার্তা সংস্থা নূরনিউজ এক প্রতিবেদনে বড় ধরনের ধ্বংসযজ্ঞের ইঙ্গিত দিয়েছে। তারা জানায়, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের নিজস্ব জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু বানায়, তবে ইরান পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের তেলক্ষেত্রে এবং কাতার ও ইসরাইলের গ্যাসক্ষেত্রে হামলা চালাবে।

নূরনিউজের ভাষায়, ‘সবকিছু পুড়িয়ে ছাই করে দেওয়া হবে।’

তবে এর আগের দিন শুক্রবার ক্যাম্প ডেভিডে অনুষ্ঠিত মার্কিন মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কিছুটা নরম সুরে বলেন, তার বিশ্বাস মার্কিন আলোচকেরা এখনো ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছাতে সক্ষম হবেন। বর্তমানে ট্রাম্পের গঠিত শীর্ষ প্রতিনিধিদলে রয়েছেন তার জামাতা জ্যারেড কুশনার, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।

কূটনৈতিক আলোচনার সুযোগ রাখার কথা বললেও ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, ইরানের ওপর তার আস্থা ক্রমশ কমছে এবং বাধ্য হলে তিনি আবার তাদের ওপর সামরিক হামলা চালাবেন।

পাল্টা অভিযোগে ইরানও শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বারবার চুক্তি ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ এনে আসছে।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন