খুলনায় ট্রিপল সেঞ্চুরি পার করেছে কাঁচা মরিচের দাম। এখন এই নিত্যপণ্যটি বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৩২০ টাকা দরে। থেমে নেই পেঁয়াজের দামও। প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০-৫৫ টাকায়। পাড়া মহল্লায় আরও বেশি দামে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। অতিবৃষ্টিতে কাঁচা মরিচের ফলন কম হওয়ায় দাম বেড়েছে বলে দাবি করেছেন ব্যবসায়ীরা। আর নিত্যপণ্য দুইটির দাম বৃদ্ধিকে ব্যবসায়ীদের কারসাজি বলেছেন ক্রেতারা।
গতকাল বৃহস্পতিবার নগরের কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি ৩২০ আর পেঁয়াজ বিক্রি করছেন ৫৫-৬০ টাকায়। যা গত ১৫ দিন আগেও কাঁচা মরিচ ১৬০-২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আর পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৩৩-৩৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
রূপসা বাজারের ব্যবসায়ী মোঃ আলামিন বলেন, ২৫০ গ্রাম কাঁচা মরিচ ৮০ টাকা দরে বিক্রি করছি। দামের পত্তা থাকায় গত বুধবারও ২৫০ গ্রাম ৭০ টকায় বিক্রি করেছি। কিন্তু দামের পত্তা না থাকায় কেজি ৩২০ টাকায় বিক্রি করছি।
বড় বাজারের ব্যবসায় আব্দুর রহিম বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে এক নাগাড়ে ভারী বর্ষণ চলছে। বৃষ্টিতে মরিচ গাছ পঁচে যায়। ফলন পাওয়া যায় না। তাই চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি না থাকায় পণ্যটির দাম বেড়ে গেছে।
মিস্ত্রিপাড়ার ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলাম বলেন, অতিবৃষ্টির কারণে অনেক গাছ মরে গেছে। ডুমুরিয়া ও শরাফপুর গিয়ে সেখানে কাঁচামরিচ পাওয়া যায়নি। তাছাড়া খুলনার পাইকারি বাজার ট্রাক টার্মিনালে গিয়েও পণ্যটি পাওয়া যায়নি। প্রয়োজনের তুলনায় কম পাওয়া যাচ্ছে।
এদিকে খুলনার বড় বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুল্লাহ বাণিজ্য ভাণ্ডারের মালিক মোঃ কামরুল ইসলাম বলেন, চাহিদার তুলনায় পেঁয়াজের আমদানি খুবই কম। বড় বাজার ও সোনাডাঙ্গা ট্রাক টার্মিনাল কাঁচা বাজারে ফরিদপুর, শৈলকূপা, কুষ্টিয়া ও মাগুরার মোকাম থেকে এ পণ্যটি আমদানি করা হয়। এসব মোকামগুলোতে পেঁয়াজের সংকট থাকায় ব্যাপারীদের সেখান থেকে বেশি দামে কিনে এখানে তা বিক্রি করতে হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, গত বছরের এ সময়ে আমরা একই দামে পেঁয়াজ বিক্রি করেছি। চৈত্র মাসে থেকে এ পণ্যটি বাজারজাত করছেন উল্লিখিত এলাকার কৃষকরা। আমদানি কম থাকায় দাম বেড়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
সোনাডাঙ্গা ট্রাক টার্মিনালের ব্যবসায়ী ও মোরেলগঞ্জ বাণিজ্য ভাণ্ডারের কর্মকর্তা আব্দুল মালেক বলেন, গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণে পেঁয়াজ চাষিরা ঘর থেকে পণ্যটি বের করতে পারেনি। তাছাড়া বৃষ্টির মৌসুমে কৃষকরা পাট চাষের দিকে মুখাপেক্ষী হচ্ছেন। যে কারণে মোকামগুলোতে আমদানি কম হওয়া পণ্যটির দাম বেড়েছে। পাঁচ কেজির এক দাড়ি তিনি ২৪০ টাকায় বিক্রি করছেন তিনি।
বড় বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী গোবিন্দা সাহা বলেন, গত ১০ দিন ধরে এ পণ্যটি ৫০টাকায় বিক্রি করছেন তিনি। বৈরী আবহাওয়ার কারণে অনেক পেঁয়াজ পেচে নষ্ট হয়ে গেছে। তাছাড়া আড়তগুলোতে দাম বেশি হওয়ায় তাকে বেশি দরে বিক্রি করতে হচ্ছে বলে তিনি এ প্রতিবেদককে জানান।
একই বাজারে কথা হয় সখিনা বেগমের সাথে। তিনি বলেন, নিত্য প্রয়োজনীয় সকল পণ্যের দাম বেড়েছে। এখন থেকে পেঁয়াজের জন্য আরও অতিরিক্ত ২০ টাকা করে গুণতে হবে।
ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি বলেন, আমাদের যেতেও একবার কাটে, আসতেও কাটে। আমাদের ব্যবসায়ী থেকে সরকার পর্যন্ত সকলেই কাটে। আমাদের অবস্থা দেখার মতো কেউ নেই।
খুলনা গেজেট/এনএম

