বুধবার সকাল থেকে তোলপাড় বীরভূম। একসময়ের দাপুটে তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল ওরফে কেষ্টর ঘনিষ্ঠ পাথর ব্যবসায়ীর আত্মীয়ের বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা এবং সোনা উদ্ধার। সারা রাত ধরে তল্লাশি অভিযান চালিয়ে এসব উদ্ধার করেছে পুলিশ। এদিন বেলা পর্যন্তও অভিযান চালু রয়েছে।
মঙ্গলবার গভীর রাতে টুলু মণ্ডল নামক ওই ব্যবসায়ীর আত্মীয় মিনার মণ্ডলের বাড়িতে অভিযান চালায় রাজ্য পুলিশ। সেই অভিযানেই উদ্ধার হয়েছে পর্বতপ্রমাণ নগদ টাকা ও সোনা। রাত পার হয়ে সকাল গড়ালেও তল্লাশি অভিযান থামেনি। উদ্ধার হওয়া বান্ডিল বান্ডিল নোট গুণতে শেষমেশ আনা হয়েছে পাঁচটি নোট গোনার যন্ত্র। পাহাড়প্রমাণ সেই টাকা ও সোনা সরিয়ে নিয়ে যেতে দু’টি বিরাট ট্রাঙ্ক নিয়ে হাজির হয় পুলিশ।
সূত্রের খবর, অভিযান চালিয়ে মিনার মণ্ডলের বাড়ি থেকে আনুমানিক ৩০ থেকে ৩২ কোটি নগদ টাকা এবং অন্তত ৮ থেকে ১০ কেজি সোনা উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এই উদ্ধার হওয়া বিপুল বিপুল পরিমাণের বিষয়ে পুলিশ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত বিবৃতি দেয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পেশায় সরকারি বাসের চালক হলেও মিনারের আসল ব্যবসা পাথর ও খনিতে। বীরভূমের বিতর্কিত পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের একাধিক খাদানের কারবারের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে তাঁর নাম। কিন্তু একজন বাস চালক ও পাথর ব্যবসায়ীর ঘরে কীভাবে পাহাড়প্রমাণ নগদ ও সোনার স্তূপ জমল, তা নিয়ে উঠতে শুরু করেছে জোর প্রশ্ন। বেআইনি উপায়ে এই অর্থ উপার্জন করা হয়েছে কি না, পুলিশ তা খতিয়ে দেখছে। এদিকে মধ্যরাতের এই ম্যারাথন অভিযানে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়।
একসময় বীরভূমের বেতাজ বাদশা অনুব্রত মণ্ডলের অত্যন্ত খাস লোক হিসেবেই পরিচিত এই টুলু মণ্ডল। বছরের পর বছর বেআইনি পাথর খাদান চালানো থেকে শুরু করে গরু পাচারের মামলাতেও নাম জড়িয়েছিল তাঁর। ২০২২ সালেই কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ইডি (ED) তাঁর বাড়ি ও একাধিক দফতরে তল্লাশি চালিয়েছিল। এখন রাজ্যের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও নয়া সরকারের শাসনকালে টুলুর আত্মীয়ের ডেরা থেকে এই বিশাল অঙ্কের কালো টাকা উদ্ধার হতেই সুর চড়িয়েছে বিরোধীরা।
পুলিশ সূত্রে খবর, এই ঘটনায় টুলু মণ্ডলের সরাসরি কোনও আর্থিক লেনদেন রয়েছে কি না এবং টাকা কোন বেআইনি ব্যবসার মাধ্যম হয়ে সেখানে পৌঁছেছিল, তা জানতে তদন্তপ্রক্রিয়া আরও জোরদার করা হচ্ছে।
এদিকে গোটা বিষয়টি নিয়ে সাইঁথিয়ার বিজেপি বিধায়ক জানান, রাজ্যে পরিবর্তন এসেছে। চোর, ডাকাত, সিন্ডিকেট রাজ একের পর এক বন্ধ হচ্ছে। এই ঘটনা তাই প্রমাণ করে।
খুলনা গেজেট/এনএম

