আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি এবং ইংল্যান্ডের কাছে টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে উভয় ফরম্যাটের সিরিজ হেরেছে ভারত। তবে সর্বশেষ জিম্বাবুয়েতে সিরিজ জিতে তারা কিছুটা সান্ত্বনা খুঁজছে। আইরিশ ও ইংলিশ সিরিজে হারের পর কিছুটা নড়েচড়ে বসছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। সেই ধারাবাহিকতায় ভেঙে যাচ্ছে গৌতম গম্ভীরের পছন্দের কোচিং প্যানেল।
শুরুটা হয় ভারতের সহকারী কোচ রায়ান টেন ডেসকাটের দায়িত্ব ছাড়ার মধ্য দিয়ে। তিনি মূলত আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি কলকাতা নাইট রাইডার্সের প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে ছাড়ছেন জাতীয় দল। এর আগে কলকাতা এবং ভারতীয় দলে গম্ভীরের কোচিং অধ্যায়ের শুরু থেকেই সাবেক এই ডাচ অলরাউন্ডার সঙ্গী ছিলেন। এ ছাড়া ফিল্ডিং কোচ টি দিলীপের সঙ্গেও আর চুক্তি নবায়ন করছে না বিসিসিআই।
এ বিষয়ে বিসিসিআইয়ের সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া নিশ্চিত করেছেন, দুজনের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে এবং আগামী মাসে শ্রীলঙ্কা সফরের আগে তাদের পরিবর্তে নতুন কোচ নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। তিনি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেন, ‘রায়ান ও দিলীপের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে এবং আমরা তা নবায়ন করছি না। দিলীপ এক বছরের বর্ধিত চুক্তিতে ছিলেন, যা ৮ জুন শেষ হয়েছে। আর রায়ানের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে ১০ জুন। আগামী ২-৩ দিনের মধ্যেই তাদের বদলি কোচের নাম ঘোষণা করা হবে।’
বোলিং কোচ মরনে মরকেলের মতো চুক্তি নবায়নের সুযোগ থাকলেও, ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন টেন ডেসকাট। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি আবারও কলকাতা নাইট রাইডার্সে যোগ দেবেন। খেলোয়াড় হিসেবে কেকেআরের হয়ে দুটি শিরোপা জিতেছিলেন তিনি। পরে ২০২৪ সালে গম্ভীরের মেন্টরশিপে দলটি শিরোপা জেতার সময়ও সাপোর্ট স্টাফের সদস্য ছিলেন। এ ছাড়া কলকাতার বর্তমান প্রধান কোচ অভিষেক নায়ারের সঙ্গেও ভালো সম্পর্ক রায়ানের।
২০২৪ আইপিএল শেষে গম্ভীর ভারতের প্রধান কোচ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রায়ান টেন ডেসকাট এবং মরকেলকে জাতীয় দলের কোচিং স্টাফে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। রবি শাস্ত্রী ও রাহুল দ্রাবিড়ের সময় ভারতীয় দল মূলত দেশীয় কোচদের ওপর নির্ভর করলেও, ডানকান ফ্লেচারের আমলের পর এই প্রথম ভারতীয় দলে একসঙ্গে দু’জন বিদেশি সাপোর্ট স্টাফ কাজ করেছেন। মরকেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা থাকলেও, সাবেক এই দক্ষিণ আফ্রিকান পেসারের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
পরবর্তী আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপ যেহেতু দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত হবে, তাই মরকেলের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে ভারত। গম্ভীরের দুই বছরের মেয়াদে এর আগেও কোচিং স্টাফে বড় পরিবর্তন এসেছে। ২০২৪-২৫ বর্ডার-গাভাস্কার ট্রফি শেষে সহকারী কোচ অভিষেক নায়ারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে বিসিসিআই। তার পরিবর্তে দায়িত্ব পান সিতাংশু কোটাক।
অন্যদিকে, বিভিন্ন কন্ডিশনে ব্যাটিং বিভাগের ধারাবাহিক ব্যর্থতার কারণে টেন ডাসকাটের ভূমিকা ও অবদান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। মূলত সিতাংশু কোটাকের সঙ্গে ব্যাটিং বিভাগ এবং ফিল্ডিং নিয়েই কাজ করতেন তিনি। এ ছাড়া টি দিলীপের ভবিষ্যৎ–ও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল, কারণ সব সংস্করণেই ভারতের ফিল্ডিং পারফরম্যান্স নিয়ে অসন্তোষ ছিল। রাহুল দ্রাবিড়ের মেয়াদ শেষে দিলীপকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হলেও শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত বদলে গম্ভীরের কোচিং স্টাফে তাকে রাখা হয়। তার পরিবর্তে আসামের সাবেক ক্রিকেটার শুভদীপ ঘোষকে ফিল্ডিং কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার কথা ভাবছে বিসিসিআই।
খুলনা গেজেট/এনএম

