ফ্রান্সের হৃদয় ভেঙে যত রেকর্ড গড়ল স্পেন

ক্রীড়া প্রতিবেদক

কিলিয়ান এমবাপে, উসমান দেম্বেলে ও মাইকেল ওলিসে; এর বাইরেও তরুণদের মিশেলে শক্তিশালী ব্যাক-আপ লাইন। ফ্রান্সের এই আক্রমণভাগকে ঠেকাবে কে? এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল। সেই জবাব দিয়েছে স্পেন। বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে তারা ফ্রান্সকে দারুণ নিয়ন্ত্রিত ও পরিকল্পিত জালে আটকে রেখে ২-০ গোলে জিতে ফাইনালে উঠেছে।

স্প্যানিশদের জয়সূচক গোল দুটি করেছেন মিকেল ওইয়ারজাবাল ও পেদ্রো পোরো। গত দুই বিশ্বকাপের ফাইনালিস্ট ফরাসিদের হৃদয় ভেঙে আগামী ১৯ জুলাই নিউইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপ ফাইনালে নামবে স্পেন। যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হবে ইংল্যান্ড অথবা আর্জেন্টিনা। ফরাসিদের বিদায় নিশ্চিতের ম্যাচে ইয়ামাল-অলমোরা বেশ কিছু রেকর্ড ভাগিয়ে নিয়েছে।

২/৩
নিজেদের ইতিহাসে দ্বিতীয় এবং ২০১০ সালে একমাত্র বিশ্বশিরোপা জয়ের পর প্রথমবার বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে স্পেন।

ইউরো চ্যাম্পিয়ন হিসেবে পরবর্তী বিশ্বকাপ জেতা ইতিহাসের তৃতীয় দল হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে ‍লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। এর আগে ২০০৮-১০ সালে স্পেন এবং ১৯৭২-৭৪ সালে পশ্চিম জার্মানি একই কীর্তি গড়েছিল।

১০
২০০৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে ফ্রান্সের কাছে হারের পর থেকে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে স্পেন টানা ১০ ম্যাচ অপরাজিত (৮ জয়, ২ ড্র)। উল্লেখ্য, টাইব্রেকারে নিষ্পত্তি হওয়া ম্যাচ আনুষ্ঠানিকভাবে ড্র হিসেবে গণ্য হয়।

৩৭
সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে স্পেন টানা ৩৭ ম্যাচ অপরাজিত (২৮ জয়, ৯ ড্র)। এটি ইউরোপের কোনো পুরুষ জাতীয় দলের যৌথ দীর্ঘতম অপরাজিত থাকার রেকর্ড, ২০১৮-২০২১ পর্যন্ত সময়ে ওই কীর্তি ছিল ইতালির। ফাইনালে তাদের ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ আছে স্পেনের সামনে।

৪/৫
সব প্রতিযোগিতার নকআউট পর্বে ফ্রান্সের বিপক্ষে সর্বশেষ পাঁচ দেখায় চারটিতেই জিতেছে স্পেন। তাদের একমাত্র হারটি ছিল ২০২১ সালের উয়েফা নেশনস লিগের ফাইনালে।

৬/৬
একটি বিশ্বকাপে ছয়টি ক্লিনশিট রেখে জয় পাওয়া প্রথম দল হয়েছে স্পেন। একইসঙ্গে গোলরক্ষক উনাই সিমনও এক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ছয়টি ক্লিনশিটের রেকর্ড গড়েছেন।

১০
বিশ্বকাপে ফ্রান্সের টানা ১০ ম্যাচে গোল করার ধারায় ইতি টেনেছে স্পেন। এটি নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে যৌথভাবে দ্বিতীয় দীর্ঘতম সক্রিয় গোলের ধারাবাহিকতা ছিল। বর্তমানে আর্জেন্টিনার টানা ১৫ ম্যাচে গোল করার ধারাই সবচেয়ে দীর্ঘ।

০.৩
স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচে ফ্রান্সের প্রত্যাশিত গোল ছিল মাত্র ০.৩০, যা গত ৬০ বছরে বিশ্বকাপে ফরাসিদের সর্বনিম্ন।


বিশ্বকাপে ফ্রান্সের টানা ছয় ম্যাচ জয়ের ধারাও এই ম্যাচে শেষ হয়েছে।


ফ্রান্স টানা দুটি বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠা ইতিহাসের তৃতীয় দল হওয়ার সুযোগ হারিয়েছে। এর আগে এই কীর্তি ছিল পশ্চিম জার্মানি (১৯৮২-১৯৯০) ও ব্রাজিলের (১৯৯৪-২০০২)।

৮/১১
সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে স্পেনের বিপক্ষে সর্বশেষ ১১ ম্যাচের মধ্যে আটটিতেই হেরেছে ফ্রান্স (২ জয়, ১ ড্র, ৮ হার)।

২-০
১৯৮৬ সালের সেমিফাইনালে পশ্চিম জার্মানির কাছে ২-০ গোলে হারের পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এটিই ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় ব্যবধানে পরাজয়।

৫+ এবং ৩০
এক বিশ্বকাপে পাঁচ বা তার বেশি গোল করা স্পেনের তৃতীয় ফুটবলার হলেন মিকেল ওইয়ারজাবাল। এর আগে ২০১০ সালে ডেভিড ভিয়া এবং ১৯৮৬ সালে এমিলিও বুত্রাগেনিও ওই কীর্তি গড়েন। একইসঙ্গে এটি ছিল ওইয়ারজাবালের ৩০তম আন্তর্জাতিক গোল, যার মাধ্যমে তিনি ২৯ গোল করা ফার্নান্দো ইয়েরোকে ছাড়িয়ে স্পেনের ইতিহাসে ষষ্ঠ সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন।

১৭
বিশ্বকাপ ইতিহাসে পেনাল্টি থেকে সবচেয়ে বেশি গোল করা দল এখন স্পেন (১৭)। তারা ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সকে (১৬) ছাড়িয়ে গেছে।


দানি ওলমো বড় টুর্নামেন্টে (বিশ্বকাপ/ইউরো, ১৯৮০ সাল থেকে) স্পেনের হয়ে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টের রেকর্ডে সেস ফাব্রেগাসের সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে উঠে এসেছেন। দুজনেরই অ্যাসিস্ট ৮টি।


পেদ্রো পোরো গত ৬০ বছরে এক বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে একাধিক গোল করা মাত্র পঞ্চম ডিফেন্ডার।


কিলিয়ান এমবাপে এই ম্যাচে একটিও শট লক্ষ্যে রাখতে পারেননি। ২০২২ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের পর বিশ্বকাপে টানা নয় ম্যাচে এই প্রথম এমন ঘটনা ঘটল।


চলতি বিশ্বকাপে এমবাপের গোলসংখ্যা ৮। অ্যাসিস্টকে (৩/২) টাইব্রেকার হিসেবে ধরলে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে তিনি এখনও লিওনেল মেসির চেয়ে এগিয়ে আছেন।

০/৬
রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার পর ক্লাব কিংবা দেশের হয়ে লামিনে ইয়ামালের বিপক্ষে খেলা ছয়টি নকআউট ম্যাচের সবকটিতেই হেরেছেন এমবাপে।

১৯ বছর ১ দিন
১৯ বছর ১ দিন বয়সে লামিনে ইয়ামাল বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে পেনাল্টি আদায় করা গত ৬০ বছরের দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার। তার আগে ছিলেন ইংল্যান্ডের মাইকেল ওয়েন, যিনি ১৯৯৮ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ১৮ বছর ১৯৮ দিন বয়সে এই কীর্তি গড়েছিলেন।

২/৭
বিশ্বকাপ ইতিহাসে সেমিফাইনালে শুরুর একাদশে নামা সাতজন কিশোর ফুটবলারের মধ্যে দুজনই স্পেনের– লামিনে ইয়ামাল ও পাউ কুবারসি।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন