মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। জর্ডানে মার্কিন বিমানঘাঁটি ও বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)। একই সময়ে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নির্দেশনা মেনে চলা এবং ইরানি সতর্কবার্তা উপেক্ষা করার অভিযোগে দুটি সুপার ট্যাংকারে হামলা চালিয়ে সেগুলো অচল করে দিয়েছে তেহরান। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অবরোধ ও শুল্ক আরোপের ঘোষণার পরই এসব ঘটনা ঘটল।
এই সংঘাতের সূত্রপাত ঘটে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন ঘোষণার পর। ট্রাম্প ইরানের ওপর আবারও অবরোধ পুনর্বহালের ঘোষণা দিয়ে জানান, এই নৌপথে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে এখন থেকে জাহাজগুলোর কাছ থেকে অর্থ আদায় করবে যুক্তরাষ্ট্র।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘হরমুজ প্রণালির অভিভাবক’ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র আবির্ভূত হবে। অস্থিতিশীল এই অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যয় মেটাতে কার্গোগুলোর ওপর অবিলম্বে ২০ শতাংশ হারে শুল্ক আদায় শুরু হবে।
ট্রাম্পের এই ঘোষণার পরপরই ওমানের সমুদ্রসীমার হরমুজ প্রণালিতে দুটি সুপার ট্যাংকারে হামলা চালায় আইআরজিসি।
ইরানের আধা সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এবং রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
আইআরজিসি জানায়, ‘বিপথগামী’ ট্যাংকারগুলো তাদের নেভিগেশন সিস্টেম (নৌ-যোগাযোগ ব্যবস্থা) বন্ধ করে ওমানের সমুদ্রসীমার দক্ষিণ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশনা অনুযায়ী চলার চেষ্টা করছিল। বারবার দেওয়া সতর্কবার্তা উপেক্ষা করায় হামলা চালিয়ে জাহাজ দুটিকে অচল করে দেওয়া হয়েছে।
এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) জানিয়েছিল, ওমানের সমুদ্রসীমার হরমুজ প্রণালিতে ইরান তাদের দুটি তেলবাহী ট্যাংকার লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় অন্তত একজন ভারতীয় নাবিক নিহত হয়েছেন। আমিরাতের এই দাবির কয়েক ঘণ্টা পর ইরান হামলার কথা স্বীকার করে।
ট্যাংকারে হামলার পাশাপাশি বাহরাইনে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটিতেও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে আইআরজিসি। তারা এটিকে একটি ‘প্রতিশোধমূলক অভিযান’ হিসেবে উল্লেখ করেছে এবং এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে স্পষ্ট জানিয়েছে।
আইআরজিসির বিবৃতিতে দাবি করা হয়, হামলায় ঘাঁটির একটি জ্বালানি সংরক্ষণাগারে আগুন ধরে গেছে।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা রাডার, নৌবহরের এয়ার কন্ট্রোল রাডার, একটি সি-র্যাম আগাম সতর্কীকরণ রাডার ব্যবস্থা এবং মানববিহীন সারফেস ভেসেল নিয়ন্ত্রণ ও পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে।
তবে ইরানের এই দাবির সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন) বা বাহরাইন সরকারও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
এদিকে জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে আইআরজিসি বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে বলে খবর দিয়েছে ইরানের সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ।
হামলার পর এক বিবৃতিতে জর্ডানের নাগরিকদের প্রতি তাদের দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো ভেঙে ফেলার আহ্বান জানিয়েছে আইআরজিসি।
হামলার পর এক বিবৃতিতে জর্ডানের জনগণের প্রতি একটি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছে আইআরজিসি। তারা জর্ডানের নাগরিকদের তাদের দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো ভেঙে ফেলার বা গুটিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেছে।
জর্ডানের জনগণের উদ্দেশে আইআরজিসির এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আপনারা খুব ভালো করেই জানেন যে আপনাদের দেশের সঙ্গে আমাদের কোনো শত্রুতা নেই। আমরা আপনাদের ভালোবাসি।’
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘আপনারা এক সম্মানিত জাতি, যারা ফিলিস্তিনি জনগণের কষ্ট ও নিপীড়ন অন্য যেকোনো জাতির চেয়ে অনেক বেশি অনুধাবন করতে পারেন।’
সূত্র: আল-জাজিরা, মিডল ইস্ট আই
খুলনা গেজেট/এনএম

