দমদম এয়ারপোর্ট মসজিদে নামাজ পড়া পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেল

মোহাম্মদ সাদউদ্দিন, কলকাতা

কলকাতার দমদম এয়ারপোর্ট মসজিদে ১১ জুলাই এয়ারপোর্ট থানা নোটিশ দিলেও মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) মসজিদে তালা ঝুলিয়ে দিল প্রশাসন। এর ফলে কলকাতার দমদম নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এয়ারপোর্ট মসজিদে নামাজ বা প্রার্থনা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেল। মূলত রানওয়ে সম্প্রসারণের কাজকে অজুহাত করে তালা ঝুলিয়ে দিল এয়ারপোর্ট থানা।

যেখানে এয়ারপোর্ট অথরিটি সঙ্গে বিষয়টি মসজিদ কমিটির আলোচনা সেখানে হঠাৎ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তালা ঝোলানো হল কেন, এ নিয়ে স্থানীয় বাঁকড়া গ্রামের বাসিন্দারা প্রশ্ন তুলেছেন। বিভিন্ন সংগঠন এনিয়ে মুসলিমদের রাস্তায় না নামার আহ্বান জানানো হয়েছে। আহ্বান জানানো হয়েছে মাথা ঠান্ডা রাখার।

কিন্তু এই মসজিদ ও এয়ারপোর্টের একটা আলাদা ইতিহাস রয়েছে।

দমদম নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ৮ নম্বর গেটের ভিতরের মসজিদ এই এয়ারপোর্ট মসজিদ। ১৩৬-৩৭ বছর বয়স। মসজিদে প্রশাসন নোটিশ দিয়েছে। নামাজ পড়া বা প্রার্থনা বন্ধ। একটা আলোচনা এয়ারপোর্ট অথরিটি সঙ্গে মসজিদ কমিটির চলছিল। সেই ফাঁকেই নোটিশ।

এয়ারপোর্ট তৈরি হয়েছে ১৯২৪ সালে। মসজিদ তৈরি হয়েছে ১৮৮৯-৯০ সালে। এয়ারপোর্টের ৯০% জায়গা মসজিদের দান করা। ঐ মসজিদের জমি দান করেছিলেন যিনি তিনি ছিলেন ঐ এলাকার বিখ্যাত মুসলিম জমিদার। তাদের উত্তরসূরি চারজন। যাদের মধ্যে একজন মহিলা ও তিনজন পুরুষ। সোদপুরে বি এল এল আর ও অফিসে এই নথি স্পট। তাদের নাম হল, জসিনা খাতুন, আব্দুর রাফে, আব্দুল সাজেদ ও আব্দুল ওয়াসে। এলাকাটা বর্তমানে এয়ারপোর্টের ৭ নম্বর গেটের কাছে। এটি এয়ারপোর্ট থানার অন্তর্গত ও দমদম উত্তর পুরসভা ও বিধানসভার অন্তর্গত। ঐ মসজিদটি হয়েছিল যাদের নাম নথিভুক্ত উক্ত লোকরা দান করেন।

মসজিদটি তৈরি হয়েছিল ১৮৮৯ সালে যখন ওখানে কোনো এয়ারপোর্ট ছিল না। এয়ারপোর্ট প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৯২৪ সালে। তখন মসজিদ এয়ারপোর্টকে জমি দান করেছিল। মসজিদ তার নিজস্ব জায়গায়। বরং এয়ারপোর্ট মসজিদের জায়গায়। মসজিদ তার জমি দান করেছিল এয়ারপোর্টের জন্য। এখন তাকেই সরিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত?

এখানে ২০০২ সালে অটলবিহারী বাজপেয়ীর জমানায় তখনকার অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রী শাহনওয়াজ হোসেন এসেছিলেন। তিনি বলে গিয়েছিলেন, মসজিদ মসজিদের জায়গায় থাকুক। বিমানবন্দর তার মতো করে থাকুক। বেশি দেশ প্রেমের জ্ঞান দিতে আসবেন না। এখন অনেকেই মহান দেশপ্রেমিক সাজছেন। তখন এয়ারপোর্টের জমি দান করেন এক মুসলিম জমিদার। মসজিদের জায়গা থেকে এয়ারপোর্টকে জমি দান করা হয়। মসজিদকেই নোটিশ। জায়গা যারা দিল সেই মসজিদকেই নোটিশ। আশ্রয় দা তাকেই আশ্রিত তাড়াচ্ছেন। এত একেবারেই ইসরাইলের মতো।

খুলনা গেজেট/এএজে




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন