টানা ভারী বর্ষণে গোপালগঞ্জ শহরে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি, নগরবাসী দুর্ভোগে

বাদল সাহা, গোপালগঞ্জ

গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে গোপালগঞ্জ পৌরসভার বিভিন্ন এলাকাসহ নিম্নাঞ্চল। বাড়ি ঘরে পানি ঢুকে পড়ার সাথে সাথে ময়লা পানিতে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে সাধারণ মানুষ। ড্রেন বা পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছে নগরবাসী।

এমন পরিস্থিতিতে নিম্নাঞ্চল এলাকা পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ডাঃ কে এম বাবর। এসময় তিনি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার আশ্বাস দেন।

এদিকে, গোপালগঞ্জ আবহাওয়া অফিস বলছে, “গত তিন দিনে গোপালগঞ্জ জেলায় ৬৩১ মিলি মিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এমন আবহাওয়া আরো ২-৩ দিন থাকতে পারে।”

সরেজমিন দেখা গেছে, “গত কয়েক দিন ধরে জেলায় টানা বৃষ্টিতে জেলার বিভিন্ন সড়ক ও নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে। বিশেষ করে গোপালগঞ্জ পৌর এলাকার পোদ্দারের চর, নিলার মাঠ গোবরা, মিয়াপাড়া, নীচু পাড়াসহ বেশ কয়েকটি এলাকার এই চিত্র। এসব এলাকার অধিকাংশ ঘরেই ঢুকে পড়েছে বৃষ্টির পানি। ফলে শতাধিক পরিবার এখন পানিবন্দি হয়ে পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। অনেক এলাকায় বাড়ির উঠান ও প্রবেশ পথ পানিতে ডুবে যাওয়ায় বাসিন্দাদের ঘর থেকে বের হতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। জলাবদ্ধতার কারণে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও শ্রমজীবী মানুষের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। অনেক দোকানপাটেও পানি ঢুকে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গোপালগঞ্জ পৌর এলাকা ও নিচু এলাকায় পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানি দীর্ঘ সময় ধরে জমে থাকে। এতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।”

গোপালগঞ্জ পৌরসভার জলাবদ্ধ ও ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক পরিদর্শন করেছেন গোপালগঞ্জ-০২ আসনের সংসদ সদস্য ডাঃ কে এম বাবর। শনিবার সকালে নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে গোপালগঞ্জ পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডে যান তিনি। তিনি এলাকার পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া খালের বিভিন্ন স্থানে অবৈধ বাঁধ ও জমে থাকা আবর্জনা দ্রুত অপসারণ এবং খাল পরিষ্কারের উদ্যোগ নিতে পৌরসভার সচিবকে নির্দেশ দেন।

গোপালগঞ্জ শহরের বাসিন্দা রেজাউল হক বলেন, “গত কয়েকদিন ধরে জেলায় বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এতে পৌর এলাকার সড়কগুলো পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। ফলে আমাদের সড়ক দিয়ে চলাফেরা করতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা ঠিক না থাকায় আমাদের এমন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।”

ব্যবসায়ী হানিফ সিকদার বলেন, “এবারের বৃষ্টিতে আমাদের সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। পানি না সড়ায় দোকানে পানি উঠে যাচ্ছে। এতে আমাদের মালামাল নষ্ট হওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।” দ্রুত ড্রেনেজ ব্যবস্থা করার দাবি জানাই।

গোপালগঞ্জ পৌর প্রশাসক ফারিহা তানজিন বলেন, “অতি বৃষ্টির কারণে একটু ভোগান্তি হচ্ছে। ইতোমধ্যে অস্থায়ীভাবে পানি সরানোর কাজ শুরু হয়েছে এবং জলাবদ্ধতা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে। ড্রেনগুলো পরিষ্কার করে দ্রুত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা করা হবে।”

গোপালগঞ্জ-০১ আসনের সংসদ সদস্য ডাঃ কে এম বাবর বলেন, আমাদের গোপালগঞ্জ অপরিকল্পিত শহর। পরিকল্পিত কোনো ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই, রাস্তা নেই। গত কয়েকদিন ধরে গোপালগঞ্জে বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টির ফলে গোপালগঞ্জ পৌর এলাকার অধিকাংশ জায়গায় জলাবদ্ধতা হয়েছে। এ কারণে আমি সরেজমিনে পরিদর্শনে আসলাম। বিশ্বব্যাংকের বিশেষ তহবিলের মাধ্যমে এসব সড়ক, ড্রেনেজ ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ খুব শিগ্গিরই বাস্তবায়ন করা হবে।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন