যে কারণে এমবোলোকে লাল কার্ড দেওয়া হলো

ক্রীড়া প্রতিবেদক

রেফারি প্রথমে হলুদ কার্ড দেখালেন আর্জেন্টিনার লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে। কিছুক্ষণ পর ভিডিও দেখে সেই কার্ড তুলে নিলেন। এরপর হলুদ দেখালেন সুইজারল্যান্ডের ব্রিল এমবোলোকে। সেটি ছিল তার ম্যাচের দ্বিতীয় হলুদ, ফলে সঙ্গে সঙ্গে দেখতে হলো লাল কার্ড। বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালে কয়েক মিনিটের ভিএআর নাটকে মুহূর্তেই বদলে গেল ম্যাচের চিত্র।

কানসাস সিটিতে আর্জেন্টিনা ও সুইজারল্যান্ডের ম্যাচের ৬৭ মিনিটে দান এনদোয়ের গোলে সমতায় ফেরে সুইসরা। দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের পর আক্রমণ করে তখন ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও নিজেদের দিকে নিয়ে যাচ্ছিল তারা।

এর দুই মিনিট পর ঘটে ম্যাচের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা। পারেদেসের সামনে পড়ে যান এমবোলো। পর্তুগিজ রেফারি জোয়াও পিনেইরো প্রথমে এটিকে আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডারের ফাউল হিসেবে ধরে নেন। সঙ্গে সঙ্গে পারেদেসকে হলুদ কার্ডও দেখান তিনি।

তবে সিদ্ধান্তটি পরীক্ষা করতে রেফারিকে ভিডিও পর্যালোচনার পরামর্শ দেন ভিএআর। স্টেডিয়ামের পর্দায় জানানো হয়, মিসটেকেন আইডেনটিটি বা ভুল খেলোয়াড়কে শাস্তি দেওয়ার সম্ভাবনা যাচাই করা হচ্ছে।

রিপ্লে দেখার পর রেফারি বুঝতে পারেন, পারেদেস ফাউল করেননি। বরং ফাউল আদায়ের চেষ্টা করতে গিয়ে পড়ে যাওয়ার অভিনয় করেছেন এমবোলো। ফলে পারেদেসের হলুদ কার্ড বাতিল করেন রেফারি। এরপর সিমুলেশনের জন্য হলুদ কার্ড দেখান এমবোলোকে।

সমস্যা হয়ে যায় সেখানেই। প্রথমার্ধের ৪৪ মিনিটে পারেদেসকে দেরিতে চ্যালেঞ্জ করার কারণে আগেই একটি হলুদ কার্ড দেখেছিলেন সুইস ফরোয়ার্ড। তাই সিমুলেশনের জন্য পাওয়া হলুদটি হয়ে যায় তার দ্বিতীয় কার্ড। নিয়ম অনুযায়ী এরপর লাল কার্ড দেখিয়ে তাকে মাঠ ছাড়ার নির্দেশ দেন রেফারি।

সিদ্ধান্তটি বুঝতে পেরে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি এমবোলো। চোখের পানি নিয়ে সতীর্থদের সঙ্গে মাঠ ছাড়েন তিনি। সমতায় ফেরার মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যে ১০ জনের দলে পরিণত হয় সুইজারল্যান্ড।

প্রশ্ন উঠতে পারে, সাধারণ হলুদ কার্ডের ঘটনায় ভিএআর কীভাবে হস্তক্ষেপ করল। আগে সাধারণত গোল, পেনাল্টি, সরাসরি লাল কার্ড ও ভুল খেলোয়াড়কে কার্ড দেখানোর ঘটনাতেই ভিএআর ব্যবহৃত হতো। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে নিয়মের পরিধি কিছুটা বাড়িয়েছে ফুটবলের আইনপ্রণেতা সংস্থা আইএফএবি।

নতুন নিয়মে স্পষ্ট প্রমাণ থাকলে ভুল দ্বিতীয় হলুদ, ভুল খেলোয়াড় বা দলকে দেওয়া কার্ড এবং পরিষ্কার ভুল কর্নারের সিদ্ধান্তেও হস্তক্ষেপ করতে পারে ভিএআর। এমবোলোর ঘটনায় পারেদেসকে ভুলভাবে শাস্তি দেওয়ায় মিসটেকেন আইডেনটিটি নিয়মটি প্রয়োগ করা হয়। আইএফএবির নতুন নিয়মের বিস্তারিত জানিয়েছে রয়টার্স।

চলতি বিশ্বকাপে এই নিয়মের প্রয়োগ আগেও দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের টিম রিমকে দেওয়া হলুদ বাতিল করে ডাইভের জন্য প্যারাগুয়ের মিগেল আলমিরনকে কার্ড দেখানো হয়েছিল। তবে এমবোলোর ক্ষেত্রে সংশোধিত সিদ্ধান্তটি দ্বিতীয় হলুদ এবং লাল কার্ডে পরিণত হওয়ায় এর প্রভাব ছিল অনেক বড়।

এম্বোলোর বিদায়ের পরও নির্ধারিত সময়ে আর গোল করতে পারেনি আর্জেন্টিনা। ১-১ সমতায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। তবে সুইজারল্যান্ডের একজন কমে যাওয়ার কারণে ম্যাচের ভারসাম্য যে পুরোপুরি বদলে গেছে, তা নিয়ে কোনো সংশয় নেই।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন