কার্যকারিতা নেই খুবির ফুটওভার ব্রিজের

বহিরাগতদের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের নিরাপদ স্থানে পরিণত

আল মামুন, খুবি প্রতিনিধি

পথচারীদের নিরাপদ পারাপার নিশ্চিত করতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) প্রধান ফটক ‘শহীদ মীর মুগ্ধ তোরণ’-এর সামনে জিরো পয়েন্ট ও গল্লামারী সড়কে নির্মাণ করা হয়েছে খুলনার প্রথম ফুটওভার ব্রিজ। তবে নির্মাণের দুই বছর পেরিয়ে গেলেও কাক্সিক্ষত ব্যবহার নিশ্চিত না হওয়ায় এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

খুলনা সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগের উদ্যোগে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই ফুটওভার ব্রিজের কাজ সম্পন্ন হয় ২০২৪ সালের জুন মাসে। স্টিল প্লেট ও ১১টি পিলারের ওপর নির্মিত ব্রিজটি মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাধারণ পথচারীদের নিরাপদ সড়ক পারাপারের সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে নির্মাণ করা হয়।

সওজ সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ সাল থেকেই খুবি প্রশাসন প্রধান ফটকের সামনে একটি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছিল। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান এবং তৎকালীন স্থানীয় সংসদ সদস্য পৃথকভাবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে ডিও লেটার প্রদান করেন। তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে খুলনা সড়ক ও জনপদ বিভাগ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রায় ৯ হাজার ১৪৭ শিক্ষার্থীর বিশ্ববিদ্যালয় হওয়া সত্ত্বেও ফুটওভার ব্রিজটি নিয়মিত ব্যবহারকারীর সংখ্যা খুবই কম। স্থানীয় দোকানদারদের মতে, ভর্তি পরীক্ষা বা বড় কোনো অনুষ্ঠানের সময় ব্রিজটির প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হলেও বছরের অধিকাংশ সময় এটি প্রায় অব্যবহৃত থাকে।

এছাড়া স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্রিজটি উপর বহিরাগতদের ধূমপানসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের নিরাপদ স্থানে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় এ দৃশ্য বেশি দেখা যায়। ফলে নিরাপদ পারাপারের অবকাঠামো হিসেবে নির্মিত ব্রিজটি অনেক সময় আড্ডাকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

এ বিষয়ে খুলনা সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, “আমাদের দায়িত্ব মূলত সড়ক অবকাঠামো নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করা। ফুটওভার ব্রিজে রাতে মাদকসেবন বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ থাকলে তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দেখার বিষয়।”

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্ল্যানিং সেকশনের পরিচালক (ইনচার্জ) অধ্যাপক ড. কাজী সাইফুল ইসলাম বলেন, “সড়ক দুর্ঘটনা কমানোর উদ্দেশ্যেই ফুটওভার ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপরীত পাশে আরও দোকানপাট ও জনসমাগম বৃদ্ধি পেলে এর ব্যবহারও বাড়বে। যেহেতু ব্রিজটি ইতোমধ্যে নির্মিত হয়েছে, তাই শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পারাপারের জন্য এটি নিয়মিত ব্যবহার করা উচিত। পাশাপাশি সড়কের দু’পাশে ব্যারিয়ার স্থাপন করা হলে পথচারীরা বাধ্য হয়ে ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করবে। এতে নিরাপদ পারাপার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও কমে আসবে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, পথচারীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে সড়কে স্পিড ব্রেকারও স্থাপন করা হয়েছে। রেজিস্ট্রার দপ্তরের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীসহ সকল পথচারীকে দুর্ঘটনা এড়াতে নিয়মিত ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন