বিভাগের একমাত্র বিশেষায়িত হাসপাতালে খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাস চালুর পরিকল্পনা করছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। গত জুন মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে এ সংক্রান্ত প্রস্তাব পাঠান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. রফিকুস সালেহীন। খুলনার জেলা প্রশাসকও এতে সম্মতি দিয়ে বিবেচনার জন্য অনুরোধ জানান।
প্রস্তাবটির বাস্তবতা যাচাইয়ে খুলনায় এসেছেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ এন এম মঈনুল ইসলামের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল। আজ বৃহস্পতিবার তারা খুলনা বিশেষায়িত হাসপাতালটি পরিদর্শন করে অস্থায়ী ক্যাম্পাস হিসেবে ব্যবহারের বিষয়টি ঘুরে দেখবেন। পরবর্তীতে ঢাকায় ফিরে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জানা গেছে, ২০২১ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি সংসদে আইন পাশের মধ্য দিয়ে খুলনায় ‘শেখ হাসিনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়’ যাত্রা শুরু করে। ২০২৫ সালে অন্তবর্তী সরকার অধ্যাদেশের মাধ্যমে এর নাম পরিবর্তন করে রাখে ‘খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়’। ২০২১ সালেই নিরালা আবাসিক এলাকার একটি ভবনের ৬টি ফ্লোর (তলা) ভাড়া করে অস্থায়ী প্রশাসনিক কার্যালয় স্থাপন করা হয়। বছরে ভবনের ভাড়া প্রায় ৩৬ লাখ টাকা। সেখানে উপাচার্যসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা ৪২ জন।
বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী ক্যাম্পাস স্থাপনের জন্য ২০২৪ সালের ৯ মে একনেকে ১ হাজার ৮৭৪ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন হয়। দুই বছর অতিবাহিত হলেও ক্যাম্পাসের জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. রফিকুস সালেহীন বলেন, জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শেষ করে ভবন নির্মাণ এবং সেখানে স্থানান্তর হতে সময় লাগবে ৭/৮ বছর। এই দীর্ঘ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম বন্ধ থাকতে পারে না। এজন্য বড় কোনো হাসপাতালে অস্থায়ী ক্যাম্পাস স্থাপনের জন্য জায়গা খোঁজা শুরু করি। খুলনার জেলা প্রশাসক এই কাজে সহযোগিতা করেন। বেশ কয়েকটি স্থান দেখে খুলনা বিশেষায়িত হাসপাতালে অস্থায়ী ক্যাম্পাস তৈরির জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছি। প্রস্তাবের বাস্তবতা যাচাইয়ে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা খুলনায় এসেছেন।
তিনি বলেন, এই হাসপাতালে অস্থায়ী ক্যাম্পাস চালু করতে পারলে দ্রুত সময়ের মধ্যে আমরা শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম শুরু করবো। খুলনা বিভাগের দুই কোটি মানুষ সরাসরি এর সুফল পাবে। স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের পর আমরা সেখানে ফেরত যাব।
খুলনা বিশেষায়িত হাসপাতালের পরিচালক ডা. শেখ আবু শাহীন বলেন, আগে একদিন উপাচার্য ও জেলা প্রশাসক হাসপাতাল ঘুরে দেখেছেন। বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাও দেখবেন। বিষয়টিকে আমরা ইতিবাচক হিসেবে দেখছি। আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক ডা. আবু জাফর মো. ছালেহ বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম দুটোকেই আমরা সমান্তরালভাবে এগিয়ে নিতে চাচ্ছি। এতে মানুষকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে না। চলতি বছর থেকেই মানুষ বিশ্ববিদ্যালয়ের সুফল পাবে।
খুলনা গেজেট/এনএম

