নেতানিয়াহুর ওপর নিষেধাজ্ঞার দাবি ৭১ ব্রিটিশ এমপির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের ওপর ইসরাইলি বাহিনীর নির্যাতনের অভিযোগে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তার বিচারমন্ত্রীর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য যুক্তরাজ্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন একদল ব্রিটিশ আইনপ্রণেতা।

যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রসচিব ইভেত কুপারের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে বিভিন্ন দলের অন্তত ৭১ জন সংসদ সদস্য (এমপি) ও হাউস অব লর্ডসের সদস্য (পিয়ার) এই স্বাক্ষর করেছেন। স্কাই নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

লেবার পার্টির এমপি নিল ডানকান-জর্ডানের নেতৃত্বে পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের ওপর পদ্ধতিগত ও সুপ্রমাণিত নির্যাতনের দায় প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুসহ ইসরাইল সরকারের ওপরই বর্তায়।’

চিঠিতে যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির ৩০ জন এমপি এবং সাতজন লর্ডস সদস্য স্বাক্ষর করেছেন।

আইনপ্রণেতারা ইসরাইলে ‘দায়মুক্তির সংস্কৃতির অবসান’ ঘটাতে নেতানিয়াহু এবং দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী, বিচার ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বরত ইয়ারিভ লেভিনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য কুপারকে অনুরোধ জানিয়েছেন।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, গত বছর ডানপন্থি ইসরাইলি মন্ত্রী ইতামার বেন গভির এবং বেজালেল স্মোট্রিচের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞাগুলো ‘স্বাগত জানানোর মতো’ ছিল। তবে ফিলিস্তিনি বন্দিদের প্রতি ইসরাইল সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে তা খুব সামান্যই ভূমিকা রেখেছে। বরং এর পর থেকে প্রায় সম্পূর্ণ দায়মুক্তির সুবিধা নিয়ে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

চিঠিতে জাতিসংঘের গত ফেব্রুয়ারির একটি প্রতিবেদনের বরাত দেওয়া হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ‘হেফাজতে নির্যাতন, জোরপূর্বক উচ্ছেদ, গণহত্যা, বঞ্চনা এবং জীবনধারণের সব মাধ্যম ধ্বংস করার মাধ্যমে ফিলিস্তিনি পুরুষ, নারী ও শিশুদের ওপর আধিপত্য বিস্তার ও শাস্তি দেওয়ার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে নির্যাতন।’

ধর্ষণের অভিযোগ প্রত্যাহার

চিঠিতে আরো উল্লেখ করা হয়, কয়েক মাস আগে ইসরাইলি সেনাদের দ্বারা এক ফিলিস্তিনি বন্দীকে ধর্ষণ মামলার অভিযোগ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে প্রশংসা করেছিলেন নেতানিয়াহু। এছাড়া দুই মাস আগে গাজাগামী ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ মানবিক সহায়তা বহর আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় ইসরাইলি বাহিনী কর্তৃক অবরুদ্ধ হওয়ার পর ব্রিটিশ নাগরিকদের আটকে রাখার বিষয়টিও সংসদ সদস্যরা মনে করিয়ে দেন।

গ্রিন পার্টি, প্লেইড কামরি, সিন ফেইন, এসডিএলপি, লিবারেল ডেমোক্র্যাটস, স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টি এবং কনজারভেটিভ পার্টির একজন এমপির এই চিঠিতে স্বাক্ষর রয়েছে।

যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র, কমনওয়েলথ ও উন্নয়ন দপ্তরের (এফসিডিও) একজন মুখপাত্র স্কাই নিউজকে বলেন, ‘ইসরাইলি বাহিনীর হাতে বন্দিদের প্রতি দুর্ব্যবহারের প্রতিবেদনগুলো অত্যন্ত লজ্জাজনক এবং আমরা ইসরাইল সরকারের কাছে বিষয়টি উত্থাপন করেছি।’

মুখপাত্র আরো বলেন, সব বন্দির সঙ্গে মানবিক আচরণ করতে হবে এবং নির্যাতনের যেকোনো অভিযোগের পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত হতে হবে। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি বন্দিদের সুযোগ-সুবিধা পরিদর্শনে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটিকে (আইসিআরসি) অবিলম্বে এবং অবাধ প্রবেশাধিকার দেওয়ার জন্য ইসরাইলের প্রতি আহ্বান জানায় যুক্তরাজ্য। শত শত ফিলিস্তিনি শিশুকে কোনো অভিযোগ ছাড়াই মাসের পর মাস ইসরাইলি হেফাজতে আটকে রাখার বিষয়টিকেও সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের মানবাধিকার পরিস্থিতিবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত ফ্রান্সেসকা আলবানিজ গত মার্চে জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে একটি প্রতিবেদন জমা দেন। সেখানে তিনি বলেন, ‘ইসরাইলি কারাগার ব্যবস্থা একটি সুপরিকল্পিত নিষ্ঠুরতার গবেষণাগারে পরিণত হয়েছে। সেখানে বোতল, লোহার রড ও ছুরি দিয়ে ফিলিস্তিনিদের ধর্ষণের মতো ঘটনাও ঘটছে।‘

২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় সংঘাত শুরুর পর থেকে ইসরাইলি হেফাজতে ১০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি বন্দির মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন