স্মৃতিতে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান

খুলনায় প্রথম কোটাবিরোধী আন্দোলন

কাজী মোতাহার রহমান

৪ জুলাই। কোটা বাতিলের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। নগরীর প্রবেশদ্বার জিরোপয়েন্ট মোড় অবরোধ করে। প্রকাশ্যে এই প্রথম কোটাবিরোধী আন্দোলন। শুরুতেই আন্দোলনকারীদের দাবি চার দফা। অবরোধ চলাকালে শিক্ষার্থীরা নানা স্লোগান দিতে থাকে। অবরোধের ফলে জিরো পয়েন্ট এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয় (খুলনা গেজেট, ৪ জুলাই ২০২৪)।

দাবিগুলো হলো :

১. ২০১৮ সালে ঘোষিত সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিল ও মেধাভিত্তিক নিয়োগের পরিপত্র বহাল রাখা।

২. পরিপত্র বহাল সাপেক্ষে কমিশন গঠনপূর্বক দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকারি চাকরির সমস্ত গ্রেডে অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাদ দেওয়া (সুবিধাবঞ্চিত ও প্রতিবন্ধি ব্যতীত)।

৩. সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় কোটা সুবিধা একাধিকবার ব্যবহার করা যাবে না এবং কোটায় যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া গেলে শূন্যপদগুলোতে মেধা অনুযায়ী নিয়োগ দেওয়া।

৪. দুর্নীতিমুক্ত, নিরপেক্ষ ও মেধাভিত্তিক আমলাতন্ত্র নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

খুবি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

৫ জুলাই। কোটা বাতিলের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদী চত্বরে অবস্থান কর্মসূচি শেষে বিক্ষোভ মিছিল করেছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। দ্বিতীয় দিনের মতো ৫ জুলাই শুক্রবার বিকেলে ৪ টায় অবস্থান কর্মসূচি শেষে বিক্ষোভ মিছিল সহকারে জিরোপয়েন্ট মোড় অবরোধ করে। এ সময় দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। এখানে তারা দু’ঘন্টা অবরোধ কর্মসূচি পালন করে। সাতক্ষীরা, কালিগঞ্জ, পাইকগাছা, মোংলা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, বরিশাল ও ঢাকা থেকে আসা যাত্রীবাহী বাস যানজটের কবলে পড়ে।

সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, তাঁরা মেধার ভিত্তিতে সরকারি চাকরি চান, কোনো কোটার ভিত্তিতে নয়। তাই কোটা প্রথার বিলুপ্তি না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাবে। এর আগে বিকেলে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদী চত্বরে জড়ো হন এবং সেখানে অবস্থান নেন।

এসময় বিক্ষোভ মিছিলে শিক্ষার্থীরা ‘আমার সোনার বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই’, ‘সারা বাংলায় খবর দে, কোটা প্রথার কবর দে’, ‘আর না আর না’ সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। চার দফা দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।

দাবিগুলো হলো:

১. ২০১৮ সালে ঘোষিত সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিল ও মেধাভিত্তিক নিয়োগের পরিপত্র বহাল রাখা।

২. পরিপত্র বহাল সাপেক্ষে কমিশন গঠনপূর্বক দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকারি চাকরির সমস্ত গ্রেডে অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাদ দেওয়া (সুবিধাবঞ্চিত ও প্রতিবন্ধি ব্যতীত)।

৩. সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় কোটা সুবিধা একাধিকবার ব্যবহার করা যাবে না এবং কোটায় যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া গেলে শূন্যপদগুলোতে মেধা অনুযায়ী নিয়োগ দেওয়া।

৪. দুর্নীতিমুক্ত, নিরপেক্ষ ও মেধাভিত্তিক আমলাতন্ত্র নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা। সরকারি চাকরিতে বেতন কাঠামোর নবম থেকে ১৩তম গ্রেডে (আগের প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির) মুক্তিযোদ্ধা কোটাসহ কোটা পদ্ধতি বাতিলের সিদ্ধান্ত বহালে উচ্চ আদালতের রায়ের প্রতিবাদে এবং ২০১৮ সালের পরিপত্র পুনর্বহালের দাবিতে লাগাতার কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার দেশের বেশ কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়।

জিরো পয়েন্টে অবরোধ খুবি ও কুয়েট শিক্ষার্থীদের

২০২৪ সালের ৫ জুলাই জিরো পয়েন্টে খুবি ও কুয়েট শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ। কোটা প্রসঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের প্রতিবাদ ও সরকারি সব গ্রেডের চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা সংস্কারের দাবি এই বিক্ষোভ মিছিল করে খুলনার দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীরা খুলনার জিরো পয়েন্ট এলাকায় অবস্থান নিয়ে খুলনার প্রবেশদ্বার অবরুদ্ধ করে রাখেন। বিকেল সোয়া ৫টা থেকে জিরো পয়েন্টের চারটি সড়ক অবরোধ করে ওই কর্মসূচি পালন করেন তারা। এতে চারটি সড়কেই যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

এর আগে বিকেল ৫টার দিকে কুয়েট শিক্ষার্থীরা গল্লামারি হয়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের সামনে বিক্ষোভ করেন এবং পরে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এক হয়ে জিরো পয়েন্টে অবস্থান নেন। শিক্ষার্থীরা বলেন, প্রধানমন্ত্রী কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা আপত্তিকর। তার বক্তব্যকে প্রত্যাখ্যান করে এই অবস্থান কর্মসূচি করছেন তারা। এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে তার বক্তব্য প্রত্যাহার করে নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
সন্ধ্যার সাড়ে ৭টার দিকে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে ফিরে যাবেন বলে জানান।

জিরোপয়েন্ট এলাকাটি খুলনা নগর ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে অবস্থিত। ঢাকা, সাতক্ষীরা, যশোরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে চারটি সড়ক এসে মিলিত হয়েছে সেখানে। খুলনা নগরে প্রবেশের অন্যতম পথও সেটি। জিরো পয়েন্ট চব্বিশের আন্দোলনের পীঠস্থান। ওই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করছেন বলে উধ্বর্তন কর্মকর্তাদের অবহিত করেন। পুলিশও শান্তিপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখে। আন্দোলনের কারণে চারটি সড়কে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয় (খুলনায় গণঅভ্যুত্থান)।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন