খুলনার কয়রা উপজেলার কপোতাক্ষ নদ সংলগ্ন উপকূল সুরক্ষা বাঁধে সংস্কার কাজ চলাকালে পাইপ রেখে কাজ করার বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। বাঁধের মধ্যে থাকা লবণ পানি উত্তোলনের পাইপ অপসারণের কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি সংস্কারকাজে থাকা অন্যান্য ত্রুটিও ঠিক করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন ঠিকাদার ও পাউবোর কর্মকর্তারা। এতে স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
গত ৩০ জুন খুলনা গেজেট-এ ‘সংস্কারের মধ্যেই ধস, ২৪০ মিটারে চার পাইপ’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে সংস্কারের মধ্যেই মাটির ধস, ২৪০ মিটার বাঁধের মধ্যে চারটি পাইপ রেখে কাজ, বাঁধের পাশ থেকে মাটি কাটা এবং কাজের মান নিয়ে অভিযোগ তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। এরপর উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে স্থানীয় কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেন।
গতকাল শুক্রবার দুপুরে সরেজমিন যেয়ে দেখা যায়, শ্রমিকরা বাঁধের মধ্যে থাকা পাইপ অপসারণের কাজ করছে। পাশাপাশি বাঁধের ধসে পড়া অংশ সংস্কারে কাজ করা হচ্ছে।
অপরদিকে, সেখানে উপস্থিত মৎস্য ঘের এবং ওই বিলের জমির মালিকসহ বেশ কয়েকজন ব্যক্তি মানবিক দিক বিবেচনা করে এই মুহুর্তে পাইপ অপসারণ না করার দাবি তোলেন। তাদের ভাষ্য, পাইপ অপসারণ করলে বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে। বছরের মাঝ পথে পাইপ উচ্ছেদ করায় ঘের মালিকরা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে উল্লেখ করেন তারা।
সেখানে কথা হয় ওই বিলের জমির একজন মালিক ও কয়রা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রবিউল ইসলামের সাথে। তিনি বলেন, আটরা ও দশহালিয়া বিল মিলে সহগ্রাধিক বিঘা(৩৩ শতক) জমি রয়েছে। ছোট ছোট মৎস্য ঘের করে বহু মানুষ জীবিকা নির্বাহ করেন। সম্পূর্ণ বাঁধ পুননির্মাণ না করা পর্যন্ত লবণ পানির ঘের বন্ধ করলে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হবো। টেকসই বাঁধ নির্মাণ পূর্বক স্লুইস গেট তৈরির মাধ্যমে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করার দাবি জানান তিনি। পাশাপাশি খালগুলো ইজারামুক্ত করে নির্বিঘ্নে পানি সরবরাহের ব্যবস্থার দাবিও জানান।
স্থানীয় ভুক্তভোগী বাসিন্দারা জানান, তাদের দাবির প্রেক্ষিতে অবশেষে পাইপ অপসারণের কাজ শুরু হওয়ায় তারা সন্তুষ্ট। বাঁধ ভেঙে পাশ্ববর্তী কয়েকটি গ্রামের লোকজন কয়েকবার প্লাবিত হয়েছে। এজন্য কোটি কোটি টাকার ক্ষতি এড়াতে শুধু ওই চারটি পাইপ নয়, দুই কিলোমিটার জুড়ে যে ৩০/৪০ টি পাইপ রয়েছে সেই সবগুলো অপসারণের দাবি তাদের। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, শুধু সাময়িক সংস্কার নয়, বরং টেকসইভাবে বাঁধ নির্মাণ নিশ্চিতের পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে আর বাঁধের ভেতর দিয়ে কোনো পাইপ বসানো না হয়, সে বিষয়েও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ তাদের।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানা যায়, প্রতিবেদনের পরে পানি সম্পদ মন্ত্রনালয় ও পাউবো’র নির্দেশনায় পাইপ অপসারণের কাজ করা হচ্ছে। সংস্কার কাজ চলাস্থানে শুক্রবার দিনব্যাপী কাজ করে দুটি পাইপ অপসারণ করা হয়েছে। বাকী দুটি পাইপ আগামীকাল অপসারণ পূর্বক অসম্পূর্ণ কাজ ঠিকাদারের মাধ্যমে সম্পন্ন করে দেওয়া হবে।
উপকূল ও সুন্দরবন সংরক্ষণ আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বলেন, পাইপ অপসারণ একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। তবে শুধু পাইপ সরালেই হবে না, সংস্কারকৃত বাঁধের ঢাল, জিও ব্যাগসহ অন্যান্য ত্রুটিও যথাযথভাবে ঠিক করতে হবে। তাহলেই সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হবে। এছাড়া পর্যায়ক্রমে সকল পাইপ অপসারণ করে টেকসই বাঁধ ও স্লুইস গেটে নির্মাণের দাবি জানান তিনি। পাশাপাশি খালগুলো খননপূর্বক জমির মালিকদের চাষাবাদ ও মিঠাপানির ঘেরের সুবিধার্থে ইজারামুক্ত করার দাবিও তোলেন তিনি।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি পলাশ জানান, পাইপ অপসারণের পর ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পুনরায় সংস্কার করে দেয়া হবে।
খুলনা গেজেট/এনএম

