রূপসায় হাসান বিহারী হত্যাকাণ্ডে ১২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৬ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকালে নিহতের ছেলে বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মূল আসামি রাশেদ ওরফে অক্ষে বিহারীসহ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এদিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে গতকাল দুপুরে জাবুসা গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে হাসানের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। এর আগে মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে পরিবারের সদস্য ও সজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারি হয়ে ওঠে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নিউটন রায় বলেন, “গত কয়েকদিন আগে হাসানের এক ছেলের বিয়ে হয়। শ্বশুর বাড়ি থেকে কয়েকজন মেহমান ভ্যানযোগে তাদের বাড়িতে বেড়াতে আসে। মেহমানদের সাথে ভ্যান চালক বাড়িতে অবস্থান করা অবস্থায় বাড়ির সামনে থেকে ভ্যানটি চুরি হয়ে যায়। এই চুরির ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে রাশেদ ওরফে অক্ষের নাম প্রকাশ করে হাসান। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ হয় অক্ষে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাবুসা চৌরাস্তা মোড়ে অবস্থানকালে দুর্বৃত্তরা হাসানের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা দেশি অস্ত্র দিয়ে তার শরীরের বিভিন্নস্থানে এবং মাথায় কুপিয়ে জখম করে। পরবর্তীতে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে রাত সোয়া ১২টার দিকে গোপালগঞ্জ পৌঁছালে তার মৃত্যু হয়।”
তিনি আরও বলেন, “এ ঘটনায় মূল ঘাতক রাশেদ ওরফে অক্ষে-কে গতকাল শুক্রবার রাত ৮টার দিকে জাবুসা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগে খায়রুল সর্দার, রুবেল শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।”
রূপসা থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুর রাজ্জাক মীর বলেন, “হত্যা মামলার প্রধান আসামি রাশেদ ওরফে অক্ষে ভারতে পালিয়ে পরিকল্পনা করেছিল। সোর্সের মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে তাকে রাতেই জাবুসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। বাকী আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
খুলনা গেজেট/এনএম

