খুলনা চেম্বার অব কমার্সের নির্বাচন

নতুন ভোটার হওয়া ৬৯৭ জনের বিষয়ে আপত্তি, শুনানি ৬ জুলাই

নিজস্ব প্রতিবেদক

খুলনা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি’র আসন্ন দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন উপলক্ষ্যে ২ হাজার ৪০২ জনের প্রাথমিক ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছিল নির্বাচন বোর্ড। গত ১ জুলাই তালিকার ৬৯৭ জনের বিষয়ে আপত্তি দিয়েছেন কয়েকজন সদস্য। আপত্তিগ্রহণ করে আগামী ৬ জুলাই বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে আপীল বোর্ডের চেয়ারম্যানের দপ্তরে সবাইকে তলব করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিবাদমান দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছে।

চেম্বার অব কমার্স সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট অভ্যুত্থানের পর খুলনা চেম্বার অব কমার্সে প্রশাসক নিয়োগ করে সরকার। প্রশাসক কয়েক দফা নির্বাচনের উদ্যোগ নিয়ে সফল হননি। সর্বশেষ গত ৩০ এপ্রিল খুলনার অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আবু সায়েদ মো. মনজুর আলমকে প্রশাসক নিয়োগ দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। তাকে ৪ মাসের নির্বাচনের আয়োজনের নির্দেশনা দেওয়া হয়। গত ২২ মে নির্বাচনের তপসিল ঘোষণা করা হয়েছে। তপসিল অনুযায়ী গত ৩০ জুন খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়। তপসিল অনুযায়ী ১ থেকে ৩ জুলাই ভোটার তালিকার ওপর আপিল বোর্ডের নিকট আপত্তি দাখিলের সময় ছিল। নির্ধারিত সময়ে ৬৯৭ জনের বিষয়ে আপত্তি দেওয়া হয়।

আপত্তির ওই আবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত নতুন সদস্য হিসেবে সাধারণ শ্রেণিতে ৫৮১টি ও সহযোগী শ্রেণীতে ১১৬টি মোট ৬৯৭টি প্রতিষ্ঠানের নাম ভোটার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ বিধি বহির্ভূত।

ব্যাখ্যা হিসেবে তারা হলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক এ পর্যন্ত তিনজনকে প্রশাসক হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। তাদের ১২০ দিনের মধ্যে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পন্ন করে নির্বাচিত কমিটির নিকট খুলনা চেম্বারের দায়িত্ব হস্তান্তর করার জন্য বলা হয়। নির্বাচন অনুষ্ঠান করার জন্য নতুন সদস্য তৈরি করার ব্যাপারে প্রশাসককে কোন নির্দেশনা মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া হয়নি।

এছাড়া বাণিজ্য সংগঠন আইন ২০২২ এর ১৮ ধারায় প্রশাসকের ক্ষমতা, দায়িত্ব ও কর্তব্যের মধ্যে নতুন সদস্য তৈরী করার কোন ক্ষমতা বা দায়িত্ব প্রশাসকের নেই। খুলনা চেম্বারের গঠনতন্ত্রের ৫ ধারায় বলা হয়েছে, নতুন সদস্য হিসেবে আবেদনকারীর পক্ষে বা বিপক্ষে পরিচালনা পরিষদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। এখানে নতুন সদস্য ভর্তির ব্যাপারে প্রশাসক কর্তৃক কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ বা অনুমোদনের কোন বিধান নেই। এ অবস্থায় গত দেড় বছরে যে সব নতুন সদস্যপদের আবেদন অনুমোদন দেয়া হয়েছে তা সম্পূর্ণ বিধি বহির্ভূত। ফলে এ সকল আবেদনকারী কোনভাবেই ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারে না।

এ ব্যাপারে নির্বাচনী আপীল বোর্ডের চেয়ারম্যান ও বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচালক অনিন্দিতা রায় বলেন, আপত্তির বিষয়ে ৬ জুলাই শুনানী হবে। ৬৯৭টি প্রতিষ্ঠানের মালিককে আগামী ৬ জুলাই সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টার মধ্যে শুনানীর জন্য উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।

চেম্বার থেকে জানা গেছে, সভাপতি, একজন ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি, দুইজন সহ-সভাপতি, ১৫টি সাধারণ সদস্য শ্রেণির পরিচালক, ছয়টি সহযোগী সদস্য শ্রেণির পরিচালক ও তিনটি বাণিজ্যিক দলের পরিচালকসহ মোট ২৮টি পদে সরাসরি ভোট অনুষ্ঠিত হবে। সভাপতি, উর্ধ্বহন সহ-সভাপতি পদে এখনও প্রার্থী ঘোষণা হয়নি।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন