এলপি গ্যাসের দাম কমানোর সরকারি নির্দেশনা মানছেন না খুলনার বিভিন্ন কোম্পানির পরিবেশক, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতারা। গতকাল শুক্রবার নগরীর বিভিন্ন বাজার ও খুচরা দোকান ঘুরে সরকার নির্ধারিত মূল্যে গ্যাস বিক্রি করতে দেখা যায়নি কাউকে। ব্যবসায়ীরা এখনও আগের বেশি দামে গ্যাস বিক্রি করছেন।
ডিলার ও বিক্রেতারা বলছেন, কোম্পানির দাম বেশি থাকায় সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রি করা তাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে ভোক্তারা বলছেন, দাম বৃদ্ধির জন্য কোম্পানি ও পরিবেশক সিন্ডিকেটকেই দায়ী। সিন্ডিকেট ভাঙ্গতে পারলে সব জিনিষের দাম কমে যাবে বলে তাদের দাবি। এনিয়ে ক্ষুব্ধ ভোক্তারা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি তুলেছেন।
গত ২ জুলাই ১২ কেজি ওজনের এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ৩৫৭ টাকা কমিয়ে নতুন দর নির্ধারণ করা হয় ১ হাজার ৫২৮ টাকা। খুচরা পর্যায়ে গ্যাস পৌঁছানো এবং খুচরা ব্যবসায়ীদের লাভ যোগ করেই এই দর নির্ধারণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকেই ওই দাম কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র।
গতকাল শুক্রবার খুলনায় ১২ কেজি ওজনের বেক্সিমকো গ্যাস ১ হাজার ৮০০ টাকা, ওমেরা গ্যাস ১ হাজার ৫৬০ টাকা, বসুন্ধরা গ্যাস ১ হাজার ৬২০ টাকা, সেনা গ্যাস ১ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি করছেন।
বেক্সিমকো কোম্পানি খুলনার ডিস্ট্রিবিউটর আনাম এন্টারপ্রাইজের কর্মকর্তা আরিফ বলেন, ১২ কেজি ওজনের প্রতি সিলিন্ডার ১ হাজার ৮৫০ টাকায় বিক্রি করছি। শুক্র-শনিবার কোম্পানি বন্ধ থাকে। রবিবার নতুন রেটের গ্যাস আসবে। তখন সঠিক দাম বলা সম্ভব হবে। নতুন রেটের গ্যাস বাজারে আসলে তাও সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রি করা সম্ভব হবে না বলে তিনি জানান।
ওমেরা গ্যাস কোম্পানি খুলনার পরিবেশক মাসুম ব্রাদার্সের মালিক মো: পারভেজ বলেন, ১২ কেজি ওজনের প্রতি বোতল ১ হাজার ৬৫০ টাকায় বিক্রি করছি। সরকার নির্ধারিত গ্যাসের দাম বলতে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, গতকাল ১ হাজার ৫৫৭ টাকা দিয়ে কোম্পানি থেকে গ্যাস কিনে এনেছি। মেমো ও চালান আছে। এখন কোম্পানি যদি গ্যাসের দাম না কমায় আমার একার পক্ষে কী দাম কমানো সম্ভব?
তিনি জানান, শনিবার থেকে গ্যাস আনবেন না। ১ হাজার ৫৫৭ টাকায় কিনে সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রি করতে পারব না। এ দামে বিক্রি করতে গেলে আমার অনেক ক্ষতি হবে।
এদিকে নগরীর পাড়া-মহল্লার খুচরা দোকানগুলোর চিত্র আরও ভয়াবহ। তারা এ প্রতিবেদককে জানান, পরিবহন ও সংযোগ ফি দিয়ে তারা ১২ কেজি ওজনে প্রতিটি সিলিন্ডার ১ হাজার ৬৫০ টাকা, আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে এর থেকে বেশি টাকায় বিক্রি করছেন। গণমাধ্যমের পরিচয় পেয়ে উপস্থিত ক্রেতাদের সামনে দোকানে গ্যাস নেই বলে জানিয়ে দেয়। তবে তাদের অধিকাংশ দোকানে অনেক গ্যাসের মজুদ থাকতে দেখা যায়।
নগরীর দোলখোলা মোড়ে কথা হয় পূর্ব বানিয়াখামার বড় মসজিদ এলাকার বাসিন্দা উত্তমের সাথে। পেশায় তিনি খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির লিফটম্যান। গ্যাস কেনার জন্য তিনি মিস্ত্রীপাড়া জামে মসজিদের সামনে নুর আলমের দোকানে এসেছিলেন। কিন্তু সরকার নির্ধারিত দাম থেকে বেশি দাম বলায় তিনি দোকান মালিকের সাথে তর্কে জড়ান। এর পর একই ক্রেতা সেখান থেকে দোলখোলা মোড়ে আনিস গ্যাস স্টোরে যান সেখানে একই দাম শুনে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায় এ প্রতিবেদকের কাছে। তিনি বলেন, কিছু ব্যবসায়ীরা দেশকে জিম্মি করে ফেলেছে। তারা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দেশের বাজারকে অস্থিতিশীল করতে চায়।
নগরীর হাজী মুহাসীন রোডে কথা হয় মনোজ পোদ্দারের সাথে। তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, সরকার যখন দাম বাড়িয়ে দেয় তখন সাথে সাথে বেড়ে যায় গ্যাসের দাম। আর যখন কমে যায় তখন তারা সময় নেয়। কেন এমন হবে? বাজার দর দেখার জন্য সরকারের একটি প্রতিষ্ঠান আছে। তাহলে তাদের কাজ কী?
কুয়েটের এক কর্মকর্তা জানান, সরকার যখন গাসের দাম বাড়িয়েছিল তখন সাথে সাথেই ব্যবসায়ীরা বর্ধিত দামে এলপিজি বিক্রি করেছিল। যদিও ঐ গ্যাস কম দামেই তাদের কেনা ছিল। তাহলে এখন সরকার দাম কমানোর পর কেন বর্ধিত দামে কেনার প্রসঙ্গ আসবে? এটা কোন অজুহাত হতে পারে না।
উল্লেখ্য, গত ১৯ এপ্রিল ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়িয়ে ১ হাজার ৯৪০ টাকা ঘোষণা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে গ্যাসের দাম কমিয়ে ১ হাজার ৫২৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
খুলনা গেজেট/এনএম

