শনিবার । ২৭শে জুন, ২০২৬ । ১৩ই আষাঢ়, ১৪৩৩

আইসিসিকে দেওয়া চিঠিতে বুলবুল কী লিখেছেন, জানাল বিসিবি

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বিসিবির সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল গত বছর আচমকা হয়ে যান বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান। সবশেষ চলতি বছরের এপ্রিলে পদ হারানোর পর থেকেই তিনি আইসিসির সঙ্গে লবিংয়ে ব্যস্ত। এবার আইসিসিকে পাঠানো ১৪ পৃষ্ঠার এক চিঠিতে রীতিমতো বাংলাদেশের ক্রিকেট নিয়ে বিস্ময়কর দাবি তুলেছেন।

বাংলাদেশকে আইসিসির ফান্ডিং বন্ধ করা, বাংলাদেশের সরকারকে সতর্কবার্তা পাঠানোসহ নানা ব্যাপারে আইসিসিকে অনুরোধ জানিয়েছেন বুলবুল। এই খবরের পর ভিডিওবার্তায় এসব খবরকে মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিতেও দেরি করেননি বুলবুল। তবে বুলবুলের চিঠিটাই এখন চলে এসেছে প্রকাশ্যে, যেখানে আছে স্বাক্ষরও।

আইসিসিকে দেওয়া বুলবুলের সেই চিঠি নিয়ে বিসিবির পরিচালক সিরাজউদ্দিন আলমগীর বললেন, ‘আসলে এটা যখন আমরা প্রথমে জানতে পারি, আমি কনফিউশন ছিলাম। যে এটা আদৌ কেউ পাঠাতে পারেন কিনা। আমি নিজেই সন্দিহান ছিলাম। শুরুতে যা শুনছিলাম, কনফিডেন্ট ছিলাম না সত্য কিনা। কিন্তু পরে সেটা আমি দেখেছি, আইসিসিকে পাঠানো সেই মেইলটা।’

পরে বুলবুলের মানসিক ব্যাধি নিয়ে এই পরিচালক বলেন, ‘এটা একটা মানসিক ব্যাধি বলা যায় এবং বুলবুল ভাইয়ের সাথে এই কাজগুলো যারা করছে তারা মানসিকভাবে সুস্থ আছেন কিনা আমি যথেষ্ট সন্দিহান। ক্রিকেট বোর্ড এটা দেখেছে, অবজারভেশন করছে, অফিশিয়ালি দেখছে।’

এর আগে আইসিসির কাছে পাঠানো চিঠিতে ছিল নির্দিষ্ট প্রতিকার উপরোক্ত বিষয়গুলোর পরিপ্রেক্ষিতে, নির্বাচিত বিসিবি নেতৃত্ব তাদের আইনজীবীর মাধ্যমে সম্মানের সঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) কাছে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছে:

বাংলাদেশ সরকারকে আনুষ্ঠানিক সতর্কবার্তা জারি করুন। বাংলাদেশ সরকার, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)-এর কাছে একটি আনুষ্ঠানিক লিখিত নোটিশ জারি করা হোক, যাতে তাদের জানানো হয় যে-

(ক) ২০২৬ সালের ৭ জুন অনুষ্ঠিত নির্বাচন, যা একটি অবৈধভাবে গঠিত অ্যাড-হক কমিটির রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত ভোটার তালিকার মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে, তা আইসিসির সংবিধির ২.৪(সি) এবং ২.৪(ডি) অনুচ্ছেদের আরও গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হয়।

(খ) আইসিসি ২০২৬ সালের ৭ জুন নির্বাচিত কোনো বোর্ডকে বিসিবির বৈধ পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না।

(গ) আইসিসি নির্বাচিত বোর্ডকে অবিলম্বে পুনর্বহালের দাবি জানায়।

(ঘ) আইসিসি নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে নির্বাচিত বোর্ডকে পুনর্বহাল করা না হলে, আইসিসি সংবিধানের ২.১০(এ) অনুচ্ছেদের অধীনে তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ করবে। এর মধ্যে বিসিবির পূর্ণ সদস্যপদ স্থগিত করা, আইসিসির অর্থায়ন স্থগিত করা এবং বাংলাদেশের দলগুলোকে আইসিসির সব প্রতিযোগিতা থেকে বাদ দেওয়ার মতো পদক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

পুনর্বহাল না হওয়া পর্যন্ত আইসিসির অর্থায়ন স্থগিত করুন

বিসিবির জন্য বর্তমানে প্রাপ্য বা ভবিষ্যতে প্রদেয় আইসিসির সব ধরনের অর্থায়ন এসক্রো (শর্তসাপেক্ষে আটকে রাখা) অ্যাকাউন্টে রাখা অথবা স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হোক, যতক্ষণ না—

(ক) আইসিসি নির্ধারণ করে যে, বিসিবির বৈধ পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ কে;

(খ) নির্বাচিত বোর্ড পুনর্বহাল হয় অথবা আইসিসির ডিসপিউট রেজোলিউশন কমিটি (DRC) চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়;

(গ) বাংলাদেশে চলমান সংশ্লিষ্ট আদালতের কার্যক্রম শেষ হয়।

এছাড়া, ২০২৬ সালের ৭ জুনের (বিসিবি) নির্বাচনের ভিত্তিতে যে কোনো সংস্থা যদি নিজেদের বিসিবির কর্তৃপক্ষ বলে দাবি করে, তাহলে তাদেরকে আইসিসির কোনো অর্থায়ন করা উচিত নয়।




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন