পাকিস্তানের বেলুচিস্তানের খারান ও মাস্তুং জেলায় পৃথক দুটি গোয়েন্দাভিত্তিক বিশেষ অভিযানে আটজন ‘সন্ত্রাসী’ নিহত হয়েছে। নিহত সকলেই ভারতীয় প্রক্সি বাহিনীর সদস্য বলে জানিয়েছে, দেশটির সেনাবাহিনীর গণমাধ্যম শাখা আইএসপিআর।
শনিবার (২৭ জুন) এক বিবৃতিতে আইএসপিআর জানায়, ২৫ ও ২৬ জুন পরিচালিত এসব অভিযান গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক এবং সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে পরিচালিত হয়। এর লক্ষ্য ছিল ফিতনা আল হিন্দুস্তান নামের গোষ্ঠীকে নির্মূল করা।
পাকিস্তান রাষ্ট্রীয়ভাবে বেলুচিস্তানভিত্তিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে ‘ফিতনা আল হিন্দুস্তান’ হিসেবে অভিহিত করে থাকে। পাকিস্তান দাবি করে যে, ভারত এই সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতায় পরোক্ষভাবে জড়িত। তাই এসব গোষ্ঠীগুলোকে ‘প্রক্সি বাহিনী’ বলেও অভিহিত করে থাকে ইসলামাবাদ।
বিবৃতিতে বলা হয়, ২৫ জুন খারান জেলায় নিরাপত্তা বাহিনী একটি সন্ত্রাসী দলের গতিবিধি শনাক্ত করে। পরে নির্ভুল ও দক্ষ অভিযানে তিনজন সন্ত্রাসী নিহত হয়, যারা ওই গোষ্ঠীর সদস্য ছিল বলে দাবি করা হয়। এতে আহত হয় আরও কয়েকজন।
পরদিন ২৬ জুন মাস্তুং জেলায় সম্ভাব্য আত্মঘাতী হামলাকারীর উপস্থিতির তথ্যের ভিত্তিতে একটি পূর্বপ্রস্তুতিমূলক অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখানে তীব্র গোলাগুলির পর পাঁচজন সন্ত্রাসী নিহত হয়, যাদের মধ্যে একজন আত্মঘাতী হামলাকারী ছিল বলে জানায় আইএসপিআর।
আইএসপিআর আরও জানায়, অভিযানের সময় অস্ত্র, গোলাবারুদ, বিস্ফোরক ডিভাইস এবং মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে, যেগুলো সন্ত্রাসী কার্যক্রমে ব্যবহৃত হতো। এছাড়া এলাকায় আরও কোনো সন্ত্রাসী থাকতে পারে কি না তা নিশ্চিত করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানানো হয় বিবৃতিতে।
এদিকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলী জারদারি নিরাপত্তা বাহিনীর এই সফল অভিযানের প্রশংসা করে বলেন, সন্ত্রাসবিরোধী লড়াই শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফও নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, দেশের সব ধরনের সন্ত্রাসবাদ সম্পূর্ণ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত সংগ্রাম চলবে।
সূত্র: ডন
খুলনা গেজেট/এএজে

