বুধবার । ২৪শে জুন, ২০২৬ । ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩
সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ

হাতের টানেই উঠে যাচ্ছে সড়কের পিচ

তরিকুল ইসলাম

খুলনার কয়রা উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে বাস্তবায়নাধীন একটি সড়ক উন্নয়নে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। দায়সারাভাবে কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। গতকাল মঙ্গলবার প্রাইমকোড ছাড়া সড়কটিতে পিচ ঢালাই দেওয়ার সময় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী প্রতিবাদ করলে ঠিকাদারের লোকজন কাজ ফেলে চলে যায়।

কয়রা উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী দপ্তর সূত্রে জানা যায়, উপজেলার উত্তর মাদারবাড়ী সীমানা থেকে রোনবাগ কেয়ার সড়ক এবং হড্ডা-বেদকাশী সড়ক পাঁকাকরণের (কার্পেটিং) কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স কামরুল অ্যান্ড ব্রাদার্স। সড়ক দুটি নির্মাণে প্রায় ২ কোটি ৬৪ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়। ২০২৪ সালের ৩ এপ্রিল কাজ শুরু হয়ে একই বছরের ১৪ নভেম্বর প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করার কথা। তবে মেয়াদের মধ্যে কাজটি সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। পরবর্তীতে প্রকল্পটি রিভাইস হয়ে হড্ডা-বেদকাশী সড়ক বাদ দিয়ে উত্তর মাদারবাড়ী সীমানা থেকে রোনবাগ কেয়ার পর্যন্ত এক কিলোমিটার সড়ক উন্নয়নের জন্য সময় বাড়ানো হয় এবং বরাদ্দ কমানো হয়। তবে অফিসে গিয়েও বর্ধিত সময় ও বরাদ্দের তথ্য পাওয়া যায়নি।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় ৫০০ মিটারের মতো রাস্তায় পিচের কার্পেটিং করা হয়েছে। তার মধ্যে চারটি স্থানে পিচ উঠানো পাওয়া যায়। গাইডওয়ালের কয়েকটি স্থানে ফাটল ধরেছে। সেখানে আল আমিন, আশিক, আব্দুল হাইসহ কয়েকজনের সাথে কথা হয়। তাদের অভিযোগ, সড়ক নির্মাণে পাথরের মিশ্রণে প্রয়োজনীয় পরিমাণ বিটুমিন ব্যবহার করা হচ্ছে না। দায়সারা প্রাইম কোড দিয়ে পিচ কার্পেটিং করা হচ্ছে। রাস্তার উপরে পড়ে থাকা ময়লা অপসারণ করা হয়নি। ফলে এক সপ্তাহ আগের কার্পেটিংয়ের পিচও হাতের টানে উঠে আসছে। এছাড়া কাজ সম্পন্ন হওয়ার আগেই প্রকল্পের আওতায় নির্মিত গাইডওয়ালের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। এতে নির্মাণকাজের মান নিয়ে জনমনে সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, এভাবে কাজ চলতে থাকলে অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কের পিচ উঠে গিয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়বে।

স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেন, কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলতে গেলে সংশ্লিষ্টরা কোনো সদুত্তর না দিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। পিচ ঢালাইয়ের সময় এলজিইডির দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীদের উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও অধিকাংশ সময় তাদের কাজের স্থানে দেখা যায়নি। ফলে ঠিকাদারের লোকজন ইচ্ছামতো কাজে অনিয়মের সুযোগ পেয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের কাজ পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগেই এর একটি বড় অংশের বিল উত্তোলন করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অবস্থা যাচাই, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সড়কটির মানসম্মত নির্মাণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে কয়রা উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী দপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী আফজাল হোসেন বলেন, “বিটুমিনের রাস্তা অন্তত সাত দিন সময় না গেলে পুরোপুরি জমাট বাঁধে না। রাস্তা মজবুত হতে ন্যূনতম এক সপ্তাহ সময় লাগে। আমাদের উপস্থিতিতে কিছু অংশে প্রাইমকোড করা হয়েছিল। পরে ঠিকাদারের লোকজন কিছু অংশে প্রাইমকোড করে, সেখানে পরিমাণে কম দেওয়া হয়। সেসব স্থানে পুনরায় প্রাইমকোড করে কার্পেটিং করার কথা রয়েছে। জুন ক্লোজিংয়ের ব্যস্ততার কারণে আমি সরেজমিনে যেতে পারিনি, অন্য একজনকে পাঠিয়েছিলাম।

প্রকল্প এলাকায় সাইনবোর্ড না থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, সব প্রকল্পে সাইনবোর্ড স্থাপনের নির্দেশনা থাকে না।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে কাজ তদারককারী হাসান বলেন, ঠিকমতো প্রাইম কোড করা হয়েছিল, তবে বৃষ্টির কারণে কিছু অংশ ধুয়ে গেছে। আমরা ১৮ মাইল এলাকার প্ল্যান্ট থেকে মিশ্রণ এনে কাজ করছি। প্রয়োজনীয় সরবরাহ সবসময় পাওয়া যায় না। গতকাল দুই গাড়ি মিশ্রণ পাওয়ায় সেটা দিয়ে কাজ করতে যেয়ে বাধার সম্মুখীন হই। যে-সব স্থানে ত্রুটি হয়েছে, সেগুলো সমাধান করে দেওয়া হবে।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন