সাতক্ষীরার শ্যামনগরে নিখোঁজ হওয়ার ১৮ ঘণ্টার মধ্যেই চার স্কুলছাত্রীকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে অভিযান চালিয়ে শুক্রবার (১৯ জুন) ভোর রাত পৌনে ৩টার দিকে শ্যামনগর উপজেলার পদ্মপুকুর ইউনিয়নের পাখিমারা গ্রামের একটি বাড়িতে তাদের উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃত স্কুল ছাত্রীরা হলো- সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার নওয়াবেকি সফিরুন্নেসা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী উপজেলার আটুলিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. আব্দুল হালিম গাজীর মেয়ে মোছা. আয়েশা পারভীন ওরফে আশামনি (১৬), মো. মুত্তাসিনের মেয়ে মোছা. দিঘি ইসলাম (১৬), মো. আজমলের মেয়ে মোছা. আজমিরা এবং অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী মো. অহিদুল ইসলামের মেয়ে মোছা. সামিয়া।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে চার ছাত্রী প্রতিদিনের মতো এক সঙ্গে স্কুলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়। স্কুলে যাওয়ার পর শ্রেণি কক্ষে বই রেখে তারা স্কুল থেকে বের হয়ে যায়। স্কুল ছুটির পরও তারা বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। সম্ভাব্য আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিত বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে একই দিন বিকালে ছাত্রীরা নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় তাদের অভিভাবকরা শ্যামনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।
অভিযোগ পাওয়ার পরপরই শ্যামনগর থানার একটি বিশেষ পুলিশ দল তদন্তে নামে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ছাত্রীদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তাদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। অনুসন্ধানের পর শুক্রবার ভোর রাত পৌনে ৩টার দিকে শ্যামনগর উপজেলার পদ্মপুকুর ইউনিয়নের পাখিমারা গ্রামের বাসিন্দা ও একই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোছা. ছনিয়ার বাড়ি থেকে নিখোঁজ চার ছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়।
শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাঃ খালেদুর রহমান স্কুল ছাত্রীদের উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অভিযান শুরু করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় দ্রুত তাদের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। ফলে নিখোঁজ হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই চার ছাত্রীকে নিরাপদে উদ্ধার করা যায়।
তিনি আরও জানান, উদ্ধারকৃত ছাত্রীরা বর্তমানে থানা হেফাজতে রয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
এ ঘটনায় অভিভাবকদের পাশাপাশি এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে। সন্তানদের নিরাপদে ফিরে পাওয়ায় অভিভাবকরা শ্যামনগর থানা পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
খুলনা গেজেট/এএজে

