গোপালগঞ্জ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের উদাসীনতার অভিযোগের মধ্যে ঘোনাপাড়া-টেকেরহাট আঞ্চলিক মহাসড়কের পাচুড়িয়া এলাকায় একটি বেইলি ব্রিজ ভেঙে বালুভর্তি ট্রাক খালে পড়ে গেছে। এ সময় একটি ইজিবাইক ও একটি সাইকেলও খালে পড়ে যায়। এতে ট্রাকচালক, হেলপার ও ইজিবাইকচালকসহ অন্তত তিনজন আহত হন।
রবিবার (১৪ জুন) সকালে গোপালগঞ্জ পৌরসভার পাচুড়িয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনার পর গোপালগঞ্জ-টেকেরহাট আঞ্চলিক মহাসড়কের ওই অংশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছে। পরে লেকপাড় সড়ক দিয়ে বিকল্পভাবে যান চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অতিরিক্ত বালুভর্তি একটি ১০ চাকার ট্রাক ঘোনাপাড়ার দিকে যাচ্ছিল। পাচুড়িয়া এলাকার বেইলি ব্রিজটি পার হওয়ার সময় ব্রিজটি ভেঙে ট্রাকটি খালের পানিতে পড়ে যায়। এ সময় ব্রিজের ওপর থাকা একটি ইজিবাইক ও একটি সাইকেলও নিচে পড়ে যায়। আহতদের হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে খালে পড়ে যাওয়া ট্রাক ও ইজিবাইক উদ্ধারের কাজ এখনো শুরু হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা সাগর আহমেদ বলেন, ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ— এমন কোনো সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড বা নির্দেশনা ছিল না। আবার স্থানীয়দের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে অতিরিক্ত বোঝাই ট্রাক ব্রিজ পার হওয়ার চেষ্টা করায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
পুরাতন মানিকদাহ গ্রামের বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম বলেন, ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ায় ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষের যাতায়াতে বড় ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। এখন শহরে যেতে প্রায় দেড় কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরতে হবে।
এস এম মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী শুভ বিশ্বাস জানায়, প্রতিদিন এই ব্রিজ পার হয়েই তাকে স্কুল ও কোচিংয়ে যেতে হতো। ব্রিজ ভেঙে যাওয়ায় এখন অনেক ঘুরপথে যেতে হবে।
শিশুবন এলাকার বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, সড়ক বিভাগ বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়াই দুটি বেইলি ব্রিজের একটি অপসারণ করেছিল। ফলে অবশিষ্ট ব্রিজটির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে এবং দুর্ঘটনা ঘটে।
গোপালগঞ্জ সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বিষয়টি জানার পরপরই কাজ শুরু করা হয়েছে। ভেঙে পড়া বেইলি ব্রিজটি পুনরায় স্থাপন করা হবে। এতে দুই থেকে তিন দিন সময় লাগতে পারে। নির্মাণস্থলে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় টেন্ডারে ডাইভারশন সড়কের ব্যবস্থা রাখা হয়নি।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ১৭ নভেম্বর পাচুড়িয়া খালকে মধুমতি নদীর সঙ্গে পুনঃসংযোগ করতে ওই স্থানে সড়ক কেটে দুটি বেইলি ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছিল। বর্তমানে সেখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে।
খুলনা গেজেট/এএজে

