আর মাত্র বাকী একদিন। তারপরই শুরু হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রীড়া আয়োজন ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ। আগামীকাল বৃহস্পতিবার মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী ম্যাচের মধ্য দিয়ে পর্দা উঠছে ২০২৬ বিশ্বকাপের। এবারই প্রথম তিন দেশ মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা যৌথভাবে আয়োজন করছে বিশ্বকাপ। একই সঙ্গে এটিই ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ, যেখানে অংশ নিচ্ছে ৪৮টি দল এবং অনুষ্ঠিত হবে ১০৪টি ম্যাচ।
বিশ্বকাপকে ঘিরে ইতোমধ্যে উত্তর আমেরিকার তিন দেশই উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে। স্টেডিয়ামগুলো সাজানো হয়েছে নতুন রূপে, শহরজুড়ে উড়ছে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর পতাকা, চলছে সাংস্কৃতিক আয়োজন, কনসার্ট, ফ্যান ফেস্ট এবং নিরাপত্তা মহড়া। ফুটবলপ্রেমীদের চোখ এখন মেক্সিকো সিটির দিকে, যেখানে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও প্রথম ম্যাচের মাধ্যমে শুরু হবে এক মাসেরও বেশি সময়ব্যাপী এই মহাযজ্ঞ।
এবারের বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে মেক্সিকোর ঐতিহাসিক স্টেডিয়ামে। এর মাধ্যমে স্টেডিয়ামটি বিশ্বকাপ ইতিহাসে অনন্য রেকর্ড গড়তে যাচ্ছে। এর আগে ১৯৭০ ও ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপেরও উদ্বোধনী ম্যাচ আয়োজন করেছিল এই ভেন্যু। এবার তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের সূচনা দেখবে একই স্টেডিয়াম।
ফিফা এবারের বিশ্বকাপকে কেবল ফুটবল টুর্নামেন্ট নয়, বরং একটি বৈশ্বিক সাংস্কৃতিক উৎসবে রূপ দিতে চায়। সেই লক্ষ্যেই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাখা হয়েছে জমকালো আয়োজন। মেক্সিকোর লোকজ ঐতিহ্য, আদিবাসী সংস্কৃতি, আধুনিক সংগীত ও নৃত্যের সমন্বয়ে প্রায় ৯০ মিনিটের এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান মঞ্চস্থ হবে ম্যাচ শুরুর আগে। অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন আন্তর্জাতিক ও লাতিন আমেরিকার খ্যাতিমান শিল্পীরা। আয়োজকদের ভাষায়, এটি হবে “সংগীত, সংস্কৃতি ও ফুটবলের মিলনমেলা”।
এবারের বিশ্বকাপের আয়োজক শহর ১৬টি। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরের পাশাপাশি কানাডার টরন্টো ও ভ্যাঙ্কুভার এবং মেক্সিকোর মেক্সিকো সিটি, গুয়াদালাহারা ও মনতেরেই বিশ্বকাপের ম্যাচ আয়োজন করবে।
তবে উৎসবের আবহের মধ্যেও রয়েছে কিছু চ্যালেঞ্জ। মেক্সিকো সিটিতে বিশ্বকাপকে ঘিরে কিছু সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিবাদও দেখা গেছে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, দেশের বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ সমস্যা সমাধানের চেয়ে বিশ্বকাপ আয়োজনকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। যদিও আয়োজক কর্তৃপক্ষ বলছে, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে এবং বিশ্বকাপ আয়োজন নির্বিঘ্ন হবে। ফিফা ইতোমধ্যে উদ্বোধনী ম্যাচের ম্যাচ অফিসিয়ালও ঘোষণা করেছে। ব্রাজিলের অভিজ্ঞ রেফারি উইলটন সাম্পাইও উদ্বোধনী ম্যাচ পরিচালনা করবেন। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় রেফারি প্যানেল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবারের আসরে।
ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে তারকাদের লড়াইও। বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের পাশাপাশি ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার শক্তিশালী দলগুলো ইতোমধ্যে প্রস্তুতি শেষ করেছে। তরুণ ও অভিজ্ঞ তারকাদের সমন্বয়ে এবারের বিশ্বকাপকে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসর হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বাংলাদেশেও বিশ্বকাপের উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়েছে। রাজধানী থেকে গ্রামগঞ্জ পর্যন্ত ফুটবলপ্রেমীরা প্রিয় দলের পতাকা টানাতে শুরু করেছেন। বিভিন্ন স্থানে বড় পর্দায় খেলা দেখানোর প্রস্তুতি চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিশ্বকাপ নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে।
সব মিলিয়ে, আগামীকাল বৃহস্পতিবারের উদ্বোধনী ম্যাচ কেবল একটি ফুটবল খেলার সূচনা নয়; এটি হবে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপের যাত্রা শুরু। তিন দেশ, ৪৮ দল, ১০৪ ম্যাচ এবং কোটি কোটি দর্শকের অংশগ্রহণে বিশ্ব ফুটবল প্রবেশ করছে এক নতুন যুগে। আর সেই যাত্রার প্রথম বাঁশি বাজবে মেক্সিকো সিটির আকাশে, যেখানে আবারও মিলিত হবে ফুটবল, সংস্কৃতি এবং বৈশ্বিক উৎসবের রঙ।
খুলনা গেজেট/এনএম

